গোল করেই মহম্মদ বিলাল ছুটে গেলেন মোহনবাগান (Mohun Bagan) গ্যালারির দিকে। পিছন দিকে ছুটে গেলেন আরও কয়েকজন লাল হলুদ ফুটবলার। মাচ শেষে কেরালার তরুণ ফুটবলার বলছিলেন, প্রথম ডার্বিতে নামার আগে লাল-হলুদ সিনিয়র দলের সতীর্থ কেরালার জেসিন টিকে তাঁকে ফোন করে উদ্বুদ্ধ করেছিলেন। এদিন ম্যাচের সেরা না হলেও লাল-হলুদ জনতার নয়নের মণি হয়ে উঠলেন বিলাল। যদিও জীবনের প্রথম ডার্বিতে প্রথম একাদশে সুযোগ না পেয়েও আক্ষেপ নেই তাঁর।
বিলাল বলছিলেন, "ম্যাচের আগে জেসিন ফোন করে উৎসাহ দিয়েছিল। বলেছিল, গোল করতে হবে। আমি করেছি। তবে পরিবর্ত হিসাবে নেমেছি বলে আক্ষেপ নেই। কোচ যেভাবে খেলিয়েছে, সেভাবেই খেলেছি। জেসিন আরাও বলেছিল যদি এই ম্যাচে গোল করতে পারলে সমর্থকরা মাথায় করে রাখবে।" এদিন ইস্টবেঙ্গল (East Bengal) ড্র করলেও স্টেডিয়াম ছেড়ে বেড়িয়ে আসার সময় সমর্থকদের কাছে প্রশংসা কুড়িয়েছে দলের ফুটবল। ম্যাচ শেষে ইস্টবেঙ্গল কোচ অর্চিস্মান বিশ্বাস খুব একটা উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেননি। এদিন তিনি বলেন, "ছেলেদের কোনও প্রশংসাই যথেষ্ট নয়। ওরা দারুণ লড়াই করেছে। আমি বলেছিলাম, হারানোর কিছু নেই। নিজেদের সেরাটা দাও। মনে মনে চেয়েছিলাম ডার্বিতে এই ছেলেগুলোই খেলুক। সিনিয়ার দল থেকে যেন কেউ না আসে। ওরা যদি ডার্বিতে সুযোগ না পেত, তাহলে খুবই খারাপ হত।"
ডার্বির ঠিক দুদিন আগে হঠাৎ করে লাল-হলুদ অনুশীলনে এসেছিলেন বিনো জর্জ। এদিন যদিও তিনি ডাগআউটে ছিলেন না। অর্চিস্মান রবিবার রাত পর্যন্ত জানতেন না ডাগআউটে বিনো থাকবেন কিনা। এই বিষয়ে তিনি বলেন, "ডাগআউটে বিনো থাকলেও অসুবিধা হত না। বিনো কোচ হিসেবে আমাকে যথেষ্টই স্বাধীনতা দেন। আমাদের বোঝাপড়া ভালো। তাই ওটা সমস্যার হাত না।"
ডার্বিতে মারাত্মক চোট পেয়েছেন মনোতোষ মাঝি। তিনি চোট পেয়ে উঠে যাওয়াতেই এদিন অর্চিস্মান নামান বিলালকে। ম্যাচ শেষে তিনিই নায়ক হয়ে গেলেন। শোনা যাচ্ছে, সিনিয়র দলে খুব তাড়াতাড়ি ডাক পেতে পারেন বিলাল। এদিন দারুণ খেলেন ইস্টবেঙ্গল গোলকিপার গৌরব সাউ। যদিও ডার্বি না জেতার আক্ষেপ রয়ে গেল ইস্টবেঙ্গল কোচের। অর্চিস্মান বললেন, "ডার্বি না জেতায় আক্ষেপ রয়েছে কিছুটা। হয়তো জিততে পারতাম। একটা বারে লেগেছে। একটা ফাঁকা গোল মিস হয়েছে।"
