ইউরোপের মঞ্চে রূপকথার প্রত্যাবর্তন। দীর্ঘ ৩০ বছরের ট্রফিহীনতার যন্ত্রণা মুছে দিয়ে অ্যাস্টন ভিলা অবশেষে শিরোপার স্বাদ পেল। ইউরোপা লিগ ফাইনালে ফ্রাইবুর্গকে ৩-০ গোলে হারিয়ে ইতিহাস গড়ল উনাই এমেরির দল। ইস্তানবুলের মাটিতে এই জয়ে যেন নতুন করে জেগে উঠল পুরনো গৌরব।
ম্যাচের নায়করা ইউরি তিলেমান্স, এমিলিয়ানো বুয়েন্দিয়া এবং মর্গ্যান রজার্স। তিন ফুটবলারের গোলেই নতুন ইতিহাস লেখে অ্যাস্টন ভিলা। ১৯৯৬ সালের পর এটাই ভিলার প্রথম ট্রফি, আর ৪৪ বছর পর আবারও ইউরোপের বড় প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব। ১৯৮২ সালে বায়ার্ন মিউনিখকে হারিয়ে ইউরোপিয়ান কাপ জিতেছিল ভিলা। সেই ম্যাচে পিটার উইথের স্মরণীয় গোল এখন কিংবদন্তির পর্যায়ে। সেই স্মৃতিই যেন ফিরে এল এদিন। কাকতালীয়ভাবে, সেই ফাইনালের মতোই এবারও ক্লাবের চেনা ক্ল্যারেট-নীলের বদলে সাদা জার্সিতে মাঠে নেমেছিল তারা। গ্যালারিতে উপস্থিত ছিলেন ডেনিস মর্টিমার-সহ ক্লাবের প্রাক্তন তারকারা। তাঁদের সামনেই লেখা হল নতুন ইতিহাস।
এই সাফল্যের মূলে উনাই এমেরি। ইউরোপা লিগ তাঁর কাছে যেন নিজের মঞ্চ। আগে সেভিয়াকে টানা তিনবার (২০১৪-১৬) এবং ভিয়ারিয়ালকে ২০২১ সালে চ্যাম্পিয়ন করার পর, এবার অ্যাস্টন ভিলাকে জিতিয়ে পঞ্চমবার এই ট্রফি জিতলেন তিনি। ম্যাচের চিত্রনাট্যও ছিল একতরফা। প্রথমার্ধের শেষ দিকে কর্নার থেকে ভলিতে গোল করে দলকে এগিয়ে দেন তিলেমান্স। কিছুক্ষণের মধ্যেই দূরপাল্লার দুরন্ত শটে ব্যবধান বাড়ান বুয়েন্দিয়া। দ্বিতীয়ার্ধে তাঁরই বাড়ানো বল থেকে গোল করে জয়ের সিলমোহর দেন রজার্স।
এই সাফল্য কিন্তু হঠাৎ আসেনি। মরশুমের শুরুতে ভিলা ছিল একেবারে ছন্দহীন। প্রথম ছয় ম্যাচে জয়ের মুখ দেখেনি। কিন্তু ধীরে ধীরে বদলে যায় চিত্র। শেষ পর্যন্ত ১৫ ম্যাচের মধ্যে ১৩টি জিতে ফাইনালে পৌঁছানো, তারপর ট্রফি। কয়েক দিন আগেই লিভারপুলকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন্স লিগে খেলার যোগ্যতা অর্জন করেছিল ভিলা। তার উপর ইউরোপা লিগ জয়। সব মিলিয়ে এই মরশুমটা এখন ইতিহাস হয়ে রইল। ২০২২ সালের অক্টোবরে অবনমনের আশঙ্কায় থাকা দলটিই আজ ইউরোপ জয় করল। উনাই এমেরির হাত ধরে অ্যাস্টন ভিলা আবার ফিরেছে ইউরোপের অভিজাত মঞ্চে। এ যেন সত্যিই এক রূপকথার পুনর্জন্ম।
