তিন বছরে তিনটি বিশ্বকাপ এসেছে ভারতের ঘরে। সেই ধারা যেন আগামী বছরেও বজায় থাকে, সেটা নিয়ে ইতিমধ্যেই চিন্তাভাবনা শুরু করে দিয়েছেন গৌতম গম্ভীর। ২০২৭ সালে দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতে ওয়ানডে বিশ্বকাপ। সেই মেগা টুর্নামেন্টে ব্লু প্রিন্ট ছকে ফেলা হবে আইপিএলের সময়ই, এমনটা জানিয়েছেন ভারতীয় দলের হেডস্যর। ক্রিকেটপ্রেমীদের প্রশ্ন, তাহলে কি রোহিত শর্মা এবং বিরাট কোহলির জন্য ওয়ানডে বিশ্বকাপের দরজা বন্ধ হয়ে গেল?
আগামী ২৮ মার্চ থেকে শুরু হচ্ছে আইপিএল। সেই টুর্নামেন্ট শেষ হওয়ার আগেই বিশ্বকাপের নীল নকশা ছকে ফেলতে চাইছেন গম্ভীর। তাঁর কথায়, "আইপিএল আর বিশ্বকাপের মধ্যে ২৫ থেকে ৩০টা ওয়ানডে খেলব। আজকাল এই ফরম্যাট সেভাবে খেলা হয় না। তাই যত তাড়াতাড়ি আমাদের পরিকল্পনা শুরু হবে, বিশ্বকাপে আমাদের তত লাভ।" গম্ভীর মনে করিয়ে দিয়েছেন, দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতে খেলাটা মোটেও সহজ নয়। ওই পরিবেশে কোন ক্রিকেটাররা ভালো খেলতে পারে, তাদের চিহ্নিত করতে হবে।
হেডকোচের এই ঘোষণার পরই ক্রিকেটপ্রেমীদের প্রশ্ন, তাহলে কি রো-কোর জন্য বিশ্বকাপের দরজা বন্ধ হয়ে যেতে বসেছে? ক্রিকেটমহলের একটা বড় অংশই মনে করে, সাম্প্রতিক অতীতে আইপিএলকে সেভাবে গুরুত্ব দেন না ভারতীয় ক্রিকেটের দুই মহারথী। ফলে গম্ভীর যখন বলছেন আইপিএলের পরেই বিশ্বকাপের ব্লু প্রিন্ট তৈরি হয়ে যাবে, প্রশ্ন উঠছে এই ব্লু প্রিন্ট কিসের ভিত্তিতে তৈরি হবে? অতীতে দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতে পারফরম্যান্সের রেকর্ড কি দেখা হবে?
রো-কো'কে শেষবার ভারতীয় দলের জার্সিতে দেখা গিয়েছে জানুয়ারি মাসে নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে সিরিজে। তারপর টি-২০ সিরিজ, বিশ্বকাপ। রো-কোর ফর্ম বা ফিটনেস কোনওটাই দেখা যায়নি তারপর। আন্তর্জাতিক টি-২০ থেকে অবসর নেওয়া দুই ক্রিকেটার আইপিএলে কেমন পারফর্ম করেন, তার ভিত্তিতেই কি সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে তাঁদের ওয়ানডে বিশ্বকাপ ভবিষ্যৎ নিয়ে? সেই প্রক্রিয়া কতখানি যুক্তিযুক্ত, প্রশ্ন থাকছে। এছাড়াও আইপিএলের পিচে সাফল্য পাওয়া ক্রিকেটাররা দক্ষিণ আফ্রিকা পিচে সাফল্য পাবেন, সেটা ধরে নেওয়াও খুব একটা বুদ্ধিমানের কাজ হবে না বলেই মনে করছেন ক্রিকেটবোদ্ধাদের অনেকে।
