বড় মঞ্চে বারবার নিজেকে প্রমাণ করছে পনেরো বছরের বিস্ময় বৈভব সূর্যবংশী (Vaibhav Sooryavanshi)। নকআউটে তার ব্যাট যেন কথা বলবেই। রোববারও তার ব্যতিক্রম নয়। ফাইনালে শ্রীলঙ্কা 'এ' দলের বিরুদ্ধে বৈভব সূর্যবংশীর ২৯ বলে ৯৪ রানের ইনিংস ভর করে ৯ উইকেটে ৩৭৭ রানের পাহাড় গড়ে ভারত। জবাবে ৩১১ রানের বেশি তুলতে পারেনি শ্রীলঙ্কা। দ্বীপরাষ্ট্রকে ৬৬ রানে হারিয়ে ত্রিদেশীয় সিরিজের শিরোপা জিতল ভারতীয় 'এ' দল।
টসে জিতে ভারতকে ব্যাট করতে পাঠান শ্রীলঙ্কার অধিনায়ক সহন আরাচ্চিগে। সেই সিদ্ধান্ত বুমেরাং হয়ে যায়। দু’ম্যাচ আগে মারামারিতে বিতর্কে জড়িয়েছিল বৈভব সূর্যবংশী। অনেকেই তার শৃঙ্খলা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন। কথা উঠেছিল ব্যাট দিয়ে জবাব দেওয়ার। জবাব দেওয়ার জন্য সে বেছে নিল ফাইনালকেই। ভারত ‘এ’ দলের হয়ে ওপেন নেমে শুরু থেকেই ঝড় তোলে বিহারের ভূমিপুত্র। মাত্র ১১ বলে হাফসেঞ্চুরি করে বৈভব। এর সঙ্গে লিস্ট ‘এ’ ক্রিকেটে সবচেয়ে কম বলে দ্রুততম হাফসেঞ্চুরির করে বিশ্বরেকর্ড গড়ে সমালোচকদের মুখ বন্ধ করে দেয় বৈভব।
বাঁহাতি তারকার দাপটে প্রথম চার ওভারের স্কোর বোর্ডে ওঠে প্রায় ৮০ রান। ফাইনালের চাপ, প্রতিপক্ষের স্লেজিং, কোনও কিছুই আটকাতে পারেনি তাকে। ভয়ডরহীন মানসিকতাই আবারও বুঝিয়ে দিয়েছে আন্তর্জাতিক মঞ্চের জন্য তৈরি সে। অতীতেও নকআউটে দেখা গিয়েছিল বাঁহাতি তারকার ব্যাটের জৌলুস। অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ সেমিফাইনালে ৩৩ বলে ৬৮, ফাইনালে ৮০ বলে ১৭৫, আইপিএল এলিমিনেটরে ২৯ বলে ৯৭, কোয়ালিফায়ারে ৪৭ বলে ৯৬ আর এবার ২৯ বলে বিধ্বংসী ৯৪।
মাত্র ছ’রানের জন্য সেঞ্চুরি মিস করে বৈভব। ২৯ বলে ৯৪ রানের ইনিংসে ছিল ১০ চার। ৮ ছক্কা। গোটা ইনিংসে মাত্র তিনটি সিঙ্গেল। স্ট্রাইক রেট ৩২৪। এক কথায় যা অবিশ্বাস্য! বৈভব যখন আউট হল, ভারতের রান ৮.৫ ওভারে ১৩২। অর্থাৎ এখান থেকে চারশো রান হওয়া কোনও ব্যাপারই নয়। কিন্তু বৈভব আউট হতেই মোমেন্টাম হারায় ভারত। সাত তাড়াতাড়ি সাজঘরে ফেরেন প্রিয়াংশ আর্য (৩৯)। রুতুরাজ গায়কোয়াড় (৪০), তিলক বর্মারা (৬৭) সেট হয়েও বড় রান করতে পারেননি। কুমার কুশাগ্র করেন ৩৬। শেষের দিকে অনুকূল রায়ের ১৫ বলে ৩৯ রানের ক্যামিও ভারতকে ৩৭৭ রানে পৌঁছে দেয়।
জবাবে শুরুটা ভালো হয়নি শ্রীলঙ্কার। যশ ঠাকুর সাজঘরে ফেরান আবিষ্কা ফেরান্ডোকে (৩)। যশেরই শিকার আরেক লঙ্কান ওপেনার নিরোশান ডিকভেলা (২৫)। শ্রীলঙ্কার হয়ে সর্বোচ্চ রান ওয়ানুজা সাহানের (৬২)। সাদিরা সামারাবিক্রমা করেন (৫২)। কিন্তু ৩৭৮ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে যেভাবে ইনিংসের ইমারত গড়া দরকার, তা হয়নি। বড় জুটি গড়ে না ওঠার মাশুল দিতে হল তাদের। ৪৫ রানে ৩ উইকেট যশ ঠাকুরের। ৩ উইকেট পান বিপ্রজ নিগমও। অনুকূল রায়ের শিকার ২ উইকেট। একটি করে উইকেট ভাগ করে নিয়েছেন অশোক শর্মা এবং অধিনায়ক তিলক বর্মা। ম্যাচের সেরা নির্বাচিত হয়েছে বৈভব।
