ইংল্যান্ড: ২৫৮ (রুট ৭৬, ডসন ৬৮, অক্ষর প্যাটেল ৪-৬২)
ভারত: ২৬২-৪ (গিল ৮০, অক্ষর ৫৭ )
ভারত ৬ উইকেটে জয়ী।
ফরম্যাট বদল, অধিনায়ক বদল। আর তাতেই যেন সবটা বদলে গেল। ক'দিন আগে যে ভারতীয় দলটাকে দেখে মনে হচ্ছিল এই টিমটা বোধ হয় ক্রিকেটের অ-আ-ক-খ ভুলেছে, ৫০ ওভারের ফরম্যাট ফিরতেই সেই টিম ইন্ডিয়া ইংল্যান্ডকে অনায়াসে হারিয়ে দিল। পর পর সাত ম্যাচ পর অবশেষে জয়ের মুখ দেখল ভারতীয় দল। এজবাস্টনে শুভমান গিলরা জিতলেন ৬ উইকেটে।
এজবাস্টনে হাফসেঞ্চুরির পর শুভমান গিল। ছবি: সোশাল মিডিয়া।
ওয়ানডে ফরম্যাটের জন্য ইদানিং ভারতীয় ক্রিকেট সমর্থকরা একটু বেশি করে অপেক্ষা করেন রোহিত শর্মা এবং বিরাট কোহলির প্রত্যাবর্তনের জন্য। এদিন তাঁরা দু'জনেই দলে ফিরলেন। কিন্তু দু'জনেই ব্যর্থ হলেন। তাতে অবশ্য ভারতের জয় আটকালো না। এই জয়ের কারিগর মূলত অক্ষর প্যাটেল, শুভমান গিল এবং ভারতের পেসাররা।
এদিন টস জিতে প্রথমে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেয় ইংল্যান্ড। শুরুটা ইংরেজরা ভালোই করেছিল। প্রথম উইকেটের জুটিতে ইংল্যান্ড তুলে দিয়েছিল ৬১ রান। তারপর ইংরেজ দুর্গে প্রথম আঘাত গুর্নুর ব্রারের। একই ওভারে দুই ওপেনারকে ফিরিয়ে দিয়ে ইংরেজদের যে ধাক্কাটা ভারতের তরুণ পেসার দিলেন, সেটা সামলে উঠতে বেশ খানিকটা বেগ পেতে হল ব্রুকদের। শূন্য রানে ৬১ থেকে কয়েক ওভারের ব্যবধানে ৮০ রানের মধ্যে পাঁচ উইকেট খুইয়ে ফেলল ইংল্যান্ড। প্রায় ৩ বছর পর ওয়ানডে খেলতে আসা বুমরাহও এদিন একটি উইকেট তুললেন। যা কিনা ওয়ানডে ফরম্যাটে তাঁর ১৫০ তম উইকেট। পাঁচ উইকেট হারানোর পর পালটা লড়াই শুরু জো রুটের। লিয়াম ডসনের সঙ্গে অনবদ্য জুটি বেঁধে তিনি ইংল্যান্ডকে দু'শোর গণ্ডি পার করালেন। রুট করলেন ৭৬ রান। আর ডসন ৬৮। শেষ পর্যন্ত নির্ধারিত ৫০ ওভারের ১৩ বল বাকি থাকতেই ২৫৮ রানে অল আউট হল ইংল্যান্ড। টি-২০ সিরিজে যে অক্ষর প্যাটেলকে নিস্প্রভ মনে হচ্ছিল তিনিই এদিন ৬২ রান দিয়ে ৪ উইকেট তুলে নিলেন। জোড়া উইকেট নিলেন প্রসিদ্ধ কৃষ্ণও।
ভারতকে জেতাল অক্ষর-ওয়াশিংটন জুটি। ছবি: সোশাল মিডিয়া।
জবাবে ব্যাট করতে নেমে শুরুটা ভালো হয়নি ভারতেরও। জাতীয় দলে ফেরার ম্যাচে রোহিত শর্মাকে শুরু থেকেই চাপে মনে হচ্ছিল। তিনি মাত্র ১১ রানে ফিরলেন। হতাশ করলেন বিরাট কোহলিও। মাত্র ৬ বলে পাঁচ রানে ফিরলেন তিনি। দুই মহারথীর উইকেটের পর যে সময় মনে হচ্ছিল ভারত চাপে পড়ে যেতে পারে, তখনই নিজের ডেপুটি শ্রেয়সকে আইয়ারকে নিয়ে জুটি বেঁধে টিমকে ম্যাচে ফেরালেন অধিনায়ক শুভমান গিল। তিনি মাত্র ৭৫ বলে ৮০ রানের ইনিংস খেললেন। শ্রেয়স ৩৫ রান করে দুর্ভাগ্যজনকভাবে রান আউট হয়ে গেলে আবার ভারতকে সংকটে মনে হচ্ছিল। কিন্তু আজকের ম্যাচের নায়ক অক্ষর প্যাটেল সেসময় ওয়াংশিংটন সুন্দরকে নিয়ে জুটি বেঁধে ভারতকে লড়াইয়ে ফেরালেন। ওই জুটিই শেষমেশ একপ্রকার অনায়াসেই ম্যাচটা জিতিয়ে আনল ভারতকে। অক্ষর করলেন ৫৭ রান। আর সুন্দর করলেন ৫২। এদিন গোটা ম্যাচে কোনও সময় মনে হয়নি ভারতীয় দল চাপে। এই ইংল্যান্ডের কাছেই যে সদ্য টি-২০ সিরিজে টিম ইন্ডিয়া হোয়াইটওয়াশ হয়েছে সেটাও বোঝা যায়নি।
