বৈভব সূর্যবংশী এবং রেকর্ড, যেন মুদ্রার এপিঠ আর ওপিঠ। ১৫ বছরের কিশোর ২২ গজে নামলেই নজির হয়। তার দল রাজস্থান রয়্যালস হেরে গেলেও এর হেরফের হয় না। ঘরের মাঠে শুভমান গিলের গুজরাটের কাছে ৭৭ রানে হেরেছে গোলাপি বাহিনী। তবুও ভারতের এই বিস্ময় প্রতিভা প্রমাণ করে দিয়েছে ছক্কা হাঁকানোয় সে-ই এই মুহূর্তে বিশ্বের সেরা।
২৩০ রান তাড়ার শুরুটা ভালো করেছিল বৈভব সূর্যবংশী। রানের খাতা খোলে মহম্মদ সিরাজকে লং-অনের উপর দিয়ে ছক্কা হাঁকিয়ে। সব মিলিয়ে টি-টোয়েন্টিতে দ্রুততম ছক্কার 'সেঞ্চুরি' করে ফেলল কিশোর ওপেনার। এর ফলে বাঁহাতি এই ব্যাটার অস্ট্রিয়ার করণবীর সিংকে ছাপিয়ে গিয়েছে। ৮১৩ বলে ছক্কার 'সেঞ্চুরি' পূরণ করেছিলেন করণ। তালিকায় রয়েছেন কাইরন পোলার্ড (৮৪৩), রোমারিও শেফার্ড (৮৪৫), সিক্কুগে প্রসন্ন (৮৫০) ও রহকিম কর্নওয়াল (৮৫০)। অর্থাৎ প্রত্যেকেই এই কীর্তিতে পৌঁছাতে ৮০০-র বেশি বল নিয়েছিলেন। কিন্তু বৈভব ১৫ বছর ৪৩ দিন বয়সে এই মাইলফলকে পৌঁছল মাত্র ৫১৪ বলে।
২০২৪ সালে আইপিএলে অভিষেকের পর থেকে মাত্র ১৯টি ম্যাচ খেলে টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে বৈভবের নামের পাশে এখন ১০২টি ছক্কা। যার মধ্যে এবার আইপিএলেই মেরেছেন ৪০টি। ২০২৪ সালে অভিষেক শর্মার (৪২) এক মরশুমে সর্বোচ্চ ছয়ের রেকর্ড হয়তো দ্রুতই নিজের নামে করে নেবে বৈভব। এখানেই শেষ নয়। আইপিএল ইতিহাসে পাওয়ার প্লে-তে এক মরশুমে সর্বাধিক ছক্কা হাঁকানোর রেকর্ডও এখন বৈভবের নামে। চলতি মরশুমে পাওয়ার প্লে-তে ৩০টি ছক্কা হাঁকিয়েছে বাঁহাতি তারকা। এতদিন এই রেকর্ড ছিল অভিষেক শর্মার নামে। দু'বছর আগে পাওয়ার প্লে-তে ২৯ ছক্কা হাঁকিয়েছিলেন তিনি।
বৈভবকে ফেরানোর পর বন্য উল্লাসে মেতে ওঠেন সিরাজ। বোঝাই যাচ্ছিল, কিশোর ওপেনার কতটা চাপে রেখেছিল ক্রিকেটগ্রহের অন্যতম সেরা বোলারকে। বৈভব ফেরার পরই ধস নামে রাজস্থান ব্যাটিংয়ে। ৩৮-০ থেকে নিয়মিত ব্যবধানে উইকেট হারাতে থাকে তারা। রান পাননি যশস্বী (৩)। কিছুটা লড়লেন রবীন্দ্র জাদেজা (৩৮)। শেষ পর্যন্ত ১৬.৩ ওভারে ১৫২ রানে গুটিয়ে যায় রাজস্থান। দুরন্ত বোলিং রশিদ খান (৪-৩৩) এবং জেসন হোল্ডারের (৩-১২)। ১১ ম্যাচে ১৪ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলে দু'নম্বরে উঠল গুজরাট। সমসংখ্যক ম্যাচে ১২ পয়েন্ট নিয়ে পাঁচে নেমে গিয়েছে 'পিঙ্ক আর্মি'। রাজস্থান হেরে গেলেও বৈভবের ১৬ বলে ৩৬ রানের 'ক্যামিও' প্রশংসা কুড়িয়েছে। সিরাজ তো বটেই, কাগিসো রাবাডার মতো বোলারের সামনে অকুতোভয় ছিল ১৫ বছরের কিশোর।
