রনজি ট্রফিতে দুরন্ত পারফরম্যান্স। ভারত 'এ' দলের জার্সিতেও নজরকাড়া বোলিং। তবু জাতীয় দলে 'ব্রাত্য' জম্মু ও কাশ্মীরের পেসার আকিব নবি। শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজের জন্য ভারতীয় দল ঘোষণার পর থেকেই নির্বাচকদের সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। সেই তালিকায় যোগ দিলেন প্রাক্তন ভারতীয় অলরাউন্ডার ইরফান পাঠানও।
মঙ্গলবার শ্রীলঙ্কা সফরের জন্য ১৫ সদস্যের টেস্ট দল ঘোষণা করেছে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড। প্রথমবার জাতীয় দলে ডাক পেয়েছেন মধ্যপ্রদেশের অফস্পিনার সারাংশ জৈন। দীর্ঘ দিন ধরে ঘরোয়া ক্রিকেটে ধারাবাহিক তিনি। সেই পারফরম্যান্সের পুরস্কার পেয়েছেন। নির্বাচকদের এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন ইরফান। পাশাপাশি আকিবকে বাদ দেওয়ায় ক্ষোভে ফুঁসছেন তিনি।
প্রথমবার রনজি চ্যাম্পিয়ন হয়েছে জম্মু ও কাশ্মীর। এহেন ঐতিহাসিক সাফল্যের নেপথ্যে নবির ভূমিকা অপরিসীম। কেবল তাই নয়, ঘরোয়া ক্রিকেটের অন্যান্য টুর্নামেন্টেও তিনি সফল। ফলত আইপিএলে দিল্লি ক্যাপিটালসে সুযোগ পান। শ্রীলঙ্কা সফরে ভারত 'এ' দলের হয়েও দু'টি চার দিনের ম্যাচে ছ'টি উইকেটও নিয়েছিলেন তিনি। তবু টেস্ট দলে জায়গা হল না। এক সংবাদমাধ্যমকে ইরফান বলেন, "আকিবকে দলে না নেওয়ার কোনও যুক্তি নেই। কী হিসাবে ওকে নেওয়া হল না, তা আমার মাথায় আসছে না। আমি নির্বাচন প্রক্রিয়া বুঝি না। যখন বুমরাহকে পাওয়া যায় না, তখন মহম্মদ সিরাজ এক নম্বর বোলার হয়ে যায়। যদি ঘরোয়া ক্রিকেটের পারফরম্যান্সের মূল্য থাকে, তাহলে আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে টেস্টেই ওকে সুযোগ দেওয়া যেত। সেটাই ছিল ওকে পরীক্ষা করার সেরা মঞ্চ।"
সারাংশের জায়গা পাওয়াকে সমর্থন করে তাঁর সংযোজন, "ওর সুযোগ পাওয়াটা দারুণ ব্যাপার। ওর বয়স ৩৩। ঘরোয়া ক্রিকেটে চার-পাঁচ বছর ধারাবাহিক পারফরম্যান্সের পুরস্কার পেয়েছে। অর্থাৎ ঘরোয়া ক্রিকেটে ভালো খেললে অবশ্যই তার মূল্য রয়েছে। তাহলে আকিবের ক্ষেত্রে সেই একই নীতি প্রযোজ্য হল না কেন? আকিবও তো ধারাবাহিক ভাবে দারুণ খেলেছে। একজন পেসার হিসাবে ওকে দলে রাখাটাই যুক্তিযুক্ত ছিল। আপনাকে দেখতে হবে, একজন বোলার কীভাবে ব্যাটারদের পরাস্ত করেছে। দেখতে হবে, ঘরোয়া ক্রিকেটে সেরা ব্যাটারদের কীভাবে সমস্যায় ফেলেছে। আকিব কিন্তু নিয়মিত ভাবে এটা করে এসেছে। সবাই দেখেছেন, রনজি ফাইনালে কেএল রাহুলের মতো ব্যাটারকে কীভাবে সমস্যায় ফেলেছে। এমন পারফরম্যান্সের পুরস্কার পাওয়া উচিত ছিল।"
