টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে ইতিহাস গড়ল নেপাল। বিশ্বের প্রথম দল হিসাবে তারা দু’বার তিনশোর বেশি রান করার বিরল কৃতিত্ব অর্জন করল তারা। এশিয়ান গেমসের যোগ্যতা অর্জন পর্বে চিনের বিরুদ্ধে সিঙ্গাপুরে অনুষ্ঠিত ম্যাচে ২ উইকেটে ৩১৩ রান তুলে এই নজির গড়ে 'দ্য রাইনোস'।
এর আগে ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বরে মঙ্গোলিয়ার বিরুদ্ধে ৩১৪ রান করেছিল নেপাল। ফলে আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে একাধিকবার ৩০০-র বেশি রান করা প্রথম দল হিসাবে নিজেদের আলাদা উচ্চতায় নিয়ে গেল তারা। অন্যদিকে, এই ফরম্যাটে ৩০০ বা তার বেশি রান করার তালিকায় রয়েছে জিম্বাবোয়ে (৩৪৪), জার্মানি (৩০৮) এবং ইংল্যান্ড (৩০৪)।
এই ম্যাচেও ছিল নেপালের একচেটিয়া দাপট। ৩১৩ রানের বিশাল লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে চিন ১৯.২ ওভারে মাত্র ৯২ রানে অলআউট হয়ে যায়। ২২১ রানের বিরাট জয় পায় নেপাল। ব্যাট হাতে নেপালের জয়ের নায়ক কুশল ভুর্তেল। ৪৩ বলে ১২৯ রানের বিধ্বংসী ইনিংস খেলেন। তিনি আবার চেন ঝুয়োর এক ওভারে তিনি ছ’টি ছয় মারেন। ওই ওভারে একটি ওয়াইড-সহ মোট ৩৭ রান ওঠে। যা টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে এক ওভারে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রান। ক্রিকেটের সংক্ষিপ্ত ফরম্যাটে ছ'বলে ছয় ছক্কার নজির প্রথম গড়েছিলেন যুবরাজ সিং, ২০০৭ সালে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে। এরপর কায়রন পোলার্ড, দীপেন্দ্র সিংহ ঐরী এবং মনন বশিরও এই কীর্তি গড়েছিলেন। এবার সেই তালিকায় যোগ হল কুশলের নাম। এছাড়া কুশল মল্লা অপরাজিত থাকেন ৮৫ রানে। রোহিত পৌডেলও মারমুখী ছিলেন। তিনি অপরাজিত থাকেন ২১ বলে ৬৯ রানে।
বল হাতেও মল্লা ছিলেন সমান উজ্জ্বল। কোনও রান না দিয়ে ৩ উইকেট নিয়ে দলের জয়ে বড় ভূমিকা রাখেন। চিনের হয়ে শেনজিয়ান ঝেং সর্বোচ্চ ৩১ রান করলেও তা বড় হার এড়ানোর জন্য যথেষ্ট ছিল না। টি-টোয়েন্টি আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের ইতিহাসে এটি সপ্তম সর্বোচ্চ জয়। এই তালিকার শীর্ষে জিম্বাবোয়ে। যারা ২০২৪ সালের অক্টোবরে গাম্বিয়াকে ২৯০ রানে হারিয়েছিল। অন্যদিকে, নেপালের জন্য এটি ২০০ বা তার বেশি রানের ব্যবধানে দ্বিতীয় জয়। এর আগে ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বরে তারা মঙ্গোলিয়াকে ২৭৩ রানে পরাজিত করেছিল।
