গায়ের রংয়ের জন্য গোটা ক্রিকেট কেরিয়ারে তাঁকে বিদ্বেষের শিকার হতে হয়েছে। দিন কয়েক আগেই বিস্ফোরণ ঘটিয়েছেন লক্ষণ শিবরামকৃষ্ণন। এবার আরও বড় আক্ষেপের কথা শোনালেন তিনি। প্রাক্তন ভারতীয় লেগ স্পিনার বলছেন, শুধু ক্রিকেট কেরিয়ার নয়, ব্যক্তিগত জীবনেও কালো হওয়ার খেসারত দিতে হয়েছে তাঁকে। এমনকী কেউ বিয়েটাও করতে চাইত না।
লক্ষ্মণ শিবরামকৃষ্ণন এক সাক্ষাৎ কারে বলেন, "আমি ১৬ থেকে ১৯ বছরের মধ্যে জাতীয় দলের হয়ে বেশিরভাগ ম্যাচ খেলেছি। সেসময় লোকে ছড়িয়ে দেয় আমি নাকি অবাধ্য, মদ্যপ। ভাবুন তো, ওই বয়সে কে আমার কাছে মদ বিক্রি করবে। আসলে মানুষ খারাপ জিনিসটা ছড়াতে ভালোবাসে।" প্রাক্তন তারকা স্পিনারের বক্তব্য, এমনিতেই গায়ের রংয়ের জন্য বারবার তাঁকে বঞ্চিত হতে হয়েছে, সেটার উপর আবার এই 'বদনাম'। একটা সময় অবসাদে চলে গিয়েছিলেন তিনি। লড়াই করতে হয়েছে প্রতি মুহূর্তে।
শিবরামকৃষ্ণন বলেছেন, তাঁর বিরুদ্ধে এতটাই বিদ্বেষ এবং গুজব ছড়ানো হয়েছিল যে কেউ তাঁকে বিয়েটাও করতে চাইত না। তিনি বলেন, "একবার আমার বাবা-মা বিজ্ঞাপন দিয়েছিল। টেস্ট ক্রিকেটার ও ফ্ল্যাটের মালিকের জন্য পাত্রী চাই। একটা ঠিকানা দেওয়া হয়েছিল। দু'সপ্তাহ পর সেই ঠিকানায় রাখা পোস্ট বক্স খুলে দেখা গেল একটাও আবেদনপত্র আসেনি। মানে আমার বিরুদ্ধে এত অপপ্রচার ছড়িয়েছিল যে একজন টেস্ট ক্রিকেটারকেও কেউ বিয়ে করতে চায়নি।"
দিন কয়েক আগে বর্ণবিদ্বেষের অভিযোগ তুলে ২৩ বছর ধারাভাষ্যের সঙ্গে যুক্ত থাকার পর সরে দাঁড়িয়েছিলেন তিনি। গায়ের রঙের জন্য বিসিসিআই তাঁকে প্রাধান্য দেয়নি বলে অভিযোগ করেছিলেন। এবার জানিয়েছেন, মাত্র ১৪ বছর বয়সে চিপক স্টেডিয়ামে নেট বোলার হিসাবে যোগ দেওয়ার সময় এক সিনিয়র ক্রিকেটার তাঁকে জুতো পরিষ্কার করতে বলেছিলেন। পরবর্তীতেও পরিস্থিতি খুব একটা বদলায়নি। তামিলনাড়ু দলে খেলার সময় সতীর্থদের কাছ থেকে ‘শ্রীহীন’ বলে কটাক্ষ শুনতে হয়েছিল তাঁকে। দেশের বিভিন্ন মাঠে দর্শকদের কাছ থেকেও গায়ের রং নিয়ে বিদ্রূপের শিকার হন তিনি।
