ঋষভ পন্থের প্রতিভা নিয়ে তাঁর কোনও সন্দেহ নেই। তিনিও পন্থের আগ্রাসী ব্যাটিং উপভোগ করেন। কিন্তু টেস্ট ক্রিকেটে আগ্রাসন কখনওই শেষ কথা হতে পারে না। টেস্ট ক্রিকেট মানে ধৈর্য। সেখানে প্রয়োজন পরিণতবোধ। পরিস্থিতি অনুযায়ী খেলা। সেটাই ঋষভকে আরও একবার মনে করিয়ে দিলেন রবিচন্দ্রন অশ্বিন।
আসলে ঋষভ অনেকে ক্ষেত্রেই পরিস্থিতি বিচার না করে দায়িত্বজ্ঞানহীনের মতো শট খেলতে গিয়ে আউট হয়েছেন। শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে দুটো টেস্টে হাফসেঞ্চুরি করেছেন। চোট নিয়ে ব্যাটিং করেছেন। কিন্তু অশ্বিনের আশা পূরণ করতে ব্যর্থ ভারতীয় তারকা উইকেটকিপার-ব্যাটার। নিজের ইউটিউব চ্যানেলে অশ্বিন বলেন, “দুঃখের সঙ্গেই কথাগুলো বলছি। আমার আশা পূরণে ঋষভ ব্যর্থ। সোনাল ডিনুশার ব্যাটিং দেখুন। যখন ম্যাচ আপনার নিয়ন্ত্রণে থাকে, তখন কী রকম ঝুঁকি নিচ্ছেন, সেটা ভীষণ গুরুত্বপূর্ণ। অনেকেই বলে থাকেন-ঋষভ এভাবেই খেলে থাকে। কিন্তু সেটার চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ হল দলের প্রয়োজন। টিমের কী দরকার, সেটা বুঝতে হবে। সিডনি আর ব্রিসবেনে পন্থ দুর্ধর্ষ ইনিংস খেলেছিল। তবে ওয়াশিংটন আর শার্দূলের ওই ইনিংস ছাড়াও ভারত জিততে পারত না। টেস্ট জিততে গেলে এগারো ক্রিকেটারের সম্মিলিত লড়াই প্রয়োজন। আর একটা টেস্ট হারের জন্য মূহূর্তের কিছু ভুলই যথেষ্ট।”
এভাবেই মারতে গিয়ে আউট হয়েছেন পন্থ। ছবি সংগৃহীত।
পন্থ নিয়ে একটা কথা খুব বলাবলি চলে। বলা হয়, ঋষভের মতো প্লেয়ার এক প্রজন্মে একবারই আসে। অশ্বিন অবশ্য তা একদমই মানতে চান না। তিনি সাফ জানিয়ে দিচ্ছেন, নির্দিষ্ট কোনও ক্রিকেটারকে শুধু বিশেষ সুবিধে দেওয়া হবে, সেটা একেবারে উচিত নয়। অশ্বিন বলেন, “কোনও একজনকে বিশেষ সুবিধে দেওয়া উচিত নয়। যদি ঋষভের ক্ষেত্রে ওই কথা প্রযোজ্য হয়, তাহলে একই কথা বলতে হবে যশস্বী জয়সওয়ালকে নিয়েও। যশস্বীরও একইরকম প্রতিভা রয়েছে।”
পঞ্চাশের উপর টেস্ট খেলা হয়ে গিয়েছে ঋষভের। টিমের অন্যতম সিনিয়র ক্রিকেটারদের মধ্যে একজন। পন্থের কাছ থেকে আরও পরিণতবোধ আশা করছেন অশ্বিন। তাঁর কথায়, “ঋষভ এখন অনেক বেশি অভিজ্ঞ। ওয়ান্স ইন এ জেনারেশন’ শুধু এই যুক্তি আঁকড়ে ধরে থাকলে আর চলবে না। সিদ্ধান্ত নেওয়ার সমস্যার জন্যই তুমি ভারতের হয়ে সব ফরম্যাটে খেলছ না। ঋষভ, তুমি নিজের ভুলটা যেদিন বুঝবে, যেদিন তা শুধরে নিতে পারবে, সেদিনই তুমি জাতীয় দলের হয় সব ফরম্যাটে খেলবে।”
