পাঁচ ম্যাচ। এখনও জয়ের দেখা পাননি অধিনায়ক শ্রেয়স আইয়ার। আর ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে তৃতীয় টি-টোয়েন্টিতে লজ্জার একশেষ হল টিম ইন্ডিয়ার। মাত্র ৭৬ রানে অলআউট। হার ১২৫ রানে। যা টিম ইন্ডিয়ার টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় ব্যবধানে হার। ১৩ রান করে দলে সর্বোচ্চ রান ১৫ বছরের বৈভব সূর্যবংশীর। এতো কিছুর পর সেই চেনা কাঁধ ঝাঁকানো ভাবটা দেখা গেল না শ্রেয়সের মধ্যে। বরং কঠিন ইংরেজি শব্দে ব্যর্থতা মেনে নিলেন।
কেকেআরের মতো গৌতম গম্ভীরের সঙ্গে শ্রেয়সের কেমিস্ট্রি এখানে এখনও জমেনি। নাইট রাইডার্সে কীভাবে জমল, সেটা ভেবেই অনেকে এখন অবাক হচ্ছেন। টিম ইন্ডিয়ায় শ্রেয়সকে রীতিমতো 'বহিরাগত' দেখাচ্ছে। আয়ারল্যান্ডে দু'টো ম্যাচে হার। ইংল্যান্ডে বৃষ্টিতে একটা ম্যাচ পরিত্যক্ত। তারপর ফের দু'ম্যাচে হার। গত দু'বছর যে দলটা হাতে গোনা ম্যাচ হেরেছে, তাদের এখন যে পারছে হারিয়ে যাচ্ছে। নাকি এশিয়ার বাইরে বেরোতেই দলের কঙ্কালসার চেহারা বেরিয়ে আসছে।
ট্রেন্ট ব্রিজে টসে জিতে ইংল্যান্ডকে প্রথমে ব্যাট করতে পাঠায় ভারত। ফিল সল্ট (৭০), জস বাটলার (৩৬), স্যাম কুরানের (৪১) ব্যাটে ভর করে ইংল্যান্ড ২০১ রান তোলে। দু'টি করে উইকেট হর্ষিত রানা ও প্রিন্স যাদবের। জবাবে মাত্র ৭৬ রানে ভেঙে পড়ে টিম ইন্ডিয়ার তারকাখচিত ব্যাটিং। অধিনায়ক শ্রেয়সের রান ৫। ব্যর্থ হয়েও উজ্জ্বল বৈভব। রাজস্থান রয়্যালসে তার সতীর্থ জফ্রা আর্চার তাকে আউট করে। ১৩ রান করে সে ও ঈশান কিষান দলের স্কোরার। টি-টোয়েন্টিতে ভারতের সর্বনিম্ন রান ৭৪ (২০০৮ সালে)। সেই লজ্জা কোনও রকমে বাঁচল। তবে এই ফরম্যাটে কখনও এত বড় ব্যবধানে হারেনি। ১২৫ রানে বিরাট ব্যবধানে হেরে সেই লজ্জাও পকেটে পুরলেন শ্রেয়সরা।
এমনিতে তিনি সর্বদা আত্মবিশ্বাসী। তবে এদিন হারের পর আর কলার তোলা ভঙ্গিতে কথা বলেননি। দলের অবস্থা বোঝাতে গিয়ে তিনি ব্যবহার করলেন 'atrocious'। ভারতীয় ক্রিকেটে এরকম শব্দ সম্ভবত এর আগে ব্যবহার হয়নি৷ যার অর্থ 'জঘন্য'। সত্যিই তাই। শ্রেয়স বলে যান, "এই শব্দের চেয়ে আর ভালোভাবে আমাদের অবস্থা বোঝানো যায় না। এত বড় ব্যবধানে হার মেনে নেওয়া যায় না। এটা ২০০ রানের উইকেট নয়। পাওয়ারপ্লে-তে পাঁচ উইকেট হারিয়েছি। সেখানেই ম্যাচের ভাগ্য ঠিক হয়ে গিয়েছিল।" এরপরের ম্যাচ হারলে সিরিজ হারের লজ্জা। 'জঘন্য' অবস্থাই তখন খাঁটি শব্দ হবে।
