ইংল্যান্ডের মাটিতে পাকিস্তানের কঙ্কালসার অবস্থা প্রকট হয়েছে। লর্ডসে দ্বিতীয় টেস্টে ১৯৪ রানে হেরে সিরিজও হাতছাড়া হয়েছে। আর এই ব্যর্থতার পর সরাসরি মহসিন নকভির বোর্ডকে কাঠগড়ায় তুললেন সেদেশের প্রাক্তন ক্রিকেটার রশিদ লতিফ (Rashid Latif)। সঙ্গে নির্বাচক কমিটি ও কোচিং স্টাফদেরও দুষেছেন প্রাক্তন পাক উইকেটকিপার-ব্যাটার।
রবিবার লর্ডসে পাকিস্তানকে বড় ব্যবধানে হারিয়ে তিন ম্যাচের সিরিজে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে গিয়েছে ইংল্যান্ড। কেবল তাই নয়, ইংল্যান্ড সফরে পাকিস্তানের পারফরম্যান্স নিয়ে একের পর এক প্রশ্ন উঠেছে। বিশেষ করে ব্যাটিংয়ে চূড়ান্ত ব্যর্থতা চোখে পড়েছে। প্রথম দুই টেস্টের কোনও ইনিংসেই ২০০ রান পার করতে পারেনি পাকিস্তান। এই পাকিস্তানকে গত ৫০ বছরের সবচেয়ে খারাপ দল বলা হচ্ছে। রশিদ লতিফ মনে করেন, ব্যর্থতার দায় শুধুমাত্র ক্রিকেটারদের ঘাড়ে চাপিয়ে দেওয়া ঠিক নয়।
রশিদ লতিফ। ছবি পিটিআই।
এক সংবাদমাধ্যমকে তিনি বলেন, "সবাই পাকিস্তান দলকে নিয়ে কথা বলছে। বলা হচ্ছে, গত ৫০ বছরের মধ্যে এটাই সবচেয়ে খারাপ সফরকারী দল। কিন্তু কেউ বলছে না, গত ৭০ বছরের মধ্যে বর্তমান বোর্ডই (PCB) সবচেয়ে খারাপ। সবচেয়ে খারাপ নির্বাচক কমিটি এবং কোচদের নিয়েও কেউ কথা বলছে না।" তিনি আরও বলেন, "এই সব সমস্যাকে একসঙ্গে দেখলেই আসল উত্তরটা পাওয়া যাবে। বোঝা যাবে, কারা এই দলটাকে শেষ করে দিয়েছে। এখন তো ধারাবাহিক ভাবে হারতেই হচ্ছে। বাস্তব হল, এটাই সবচেয়ে খারাপ ক্রিকেট বোর্ড।"
ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে পাকিস্তানের ব্যাটিং ব্যর্থতা সবচেয়ে বেশি চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রথম টেস্টে খেলেননি বাবর আজম। দ্বিতীয় টেস্টে ভঙ্গুর ব্যাটিং লাইন-আপকে শক্তিশালী করার আশায় তাঁকে ফেরানো হয়েছিল। কিন্তু লর্ডসেও ব্যর্থ বাবর। দুই ইনিংসে তাঁর সংগ্রহ মাত্র ৮ ও ৬ রান। দ্বিতীয় ইনিংসে জফ্রা আর্চারের শর্ট বল সামলাতে না পেরে সাজঘরে ফেরেন। এরই মধ্যে লর্ডস টেস্টে তৈরি হয়েছিল অন্য বিতর্কও। স্কাই স্পোর্টসে সম্প্রচারিত হয়েছিল ইমরান খানের দুই ছেলের ১৮ মিনিটের সাক্ষাৎকার। সেখানে জেলেবন্দি পাকিস্তানের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রীর পরিস্থিতি নিয়ে কথা হয়। সেই সাক্ষাৎকার সম্প্রচার নিয়ে পিসিবি নাকি লর্ডস টেস্ট না খেলার হুমকি দিয়েছিল। যদিও বাবর এবং পাকিস্তানের হেডকোচ সরফরাজ আহমেদ দু'জনেই তা অস্বীকার করেন। এহেন পাকিস্তানের সামনে শেষ সুযোগ এজবাস্টনে। ৯ সেপ্টেম্বর বার্মিংহামে তৃতীয় টেস্ট। হেরে গেলেই চুনকাম হয়ে ইংল্যান্ড থেকে ফিরবেন বাবর আজমরা।
