দিন কয়েক পর বেঙ্গল প্রো টি-টোয়েন্টি লিগ শুরু। সিএবি জুড়ে রীতিমতো ব্যস্ততা। ব্র্যান্ডিংয়ের কাজ চলছে। টুর্নামেন্ট নিয়ে নানা পরিকল্পনা। কিন্তু তার আগেই ফের বিতর্কে সিএবির ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগ। শুরুর আগেই জৌলুস হারাল বিপিএল। নিলামের আগের দিন হঠাৎ করে টুর্নামেন্ট থেকে সরে যায় এক ফ্র্যাঞ্চাইজি। এবার টুর্নামেন্ট শুরুর আগে আরও এক ধাক্কা। বিপিএলে দেখা যাবে না ঋদ্ধিমান সাহাকে।
টুর্নামেন্ট শুরুর আগে ঋদ্ধির সরে যাওয়া নিয়ে ব্যাপক হইচই শুরু হয়েছে। সব টিমই মোটামুটি প্রস্তুতি শুরু করে দিয়েছে। ঋদ্ধি নিজে এবার বিপিএল নিয়ে কী ভাবছেন, সেটা জিজ্ঞেস করা হয়েছিল। ঋদ্ধি পালটা বলেন, এবার বিপিএলে তিনি নেই। ঋদ্ধির বক্তব্য, “ঠিক বলতে পারব না প্রস্তুতির কথা। কারণ আমি বিপিএলে কোনও টিমের সঙ্গে নেই।”
যা রীতিমতো অবাক করার মতো ব্যাপার। কারণ ঋদ্ধিকে এক ফ্র্যাঞ্চাইজি মেন্টর করেছিল। ঋদ্ধিকে পালটা জিজ্ঞেস করা হয়, যে নিলামের আগের দিন আপনি বৈঠকে ছিলেন। নিলাম টেবিলে ছিলেন। টিম গঠনে আপনার ভূমিকা মুখ্য ছিল। তাহলে? ঋদ্ধির এবার বক্তব্য, “আমাকে মেন্টর করা হয়েছিল ঠিকই। কিন্তু আমার সঙ্গে যাঁরা কথা বলেছিলেন, তাঁরা বিপিএল থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন। যার ফলে আমিও আর টিমের সঙ্গে নেই।”
সিএবি'তে খবর নিয়ে জানা গেল, ফ্র্যাঞ্চাইজির দুই মালিক পক্ষের মধ্যে কিছু সমস্যা তৈরি হয়। যার ফলে এক পক্ষ সরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। ঋদ্ধিমানের সঙ্গে যাঁরা কথা বলেছিলেন, যাঁরা তাঁকে মেন্টর করেছিলেন, তাঁরা আর থাকছেন না। যার ফলে ঋদ্ধিও নিজেকে সরিয়ে নেন। এখানে প্রশ্ন উঠতে শুরু করে দিয়েছে। অনেকে বলাবলি শুরু করে দিয়েছেন, সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের পর বাংলা থেকে সব বেশি টেস্ট খেলেছেন ঋদ্ধিমান। বাংলা ক্রিকেটের অন্যতম আইকন। যে বছর বিপিএল শুরু হয়, সেখানে ঋদ্ধিকে খেলানো হয়েছিল। ঋদ্ধি ত্রিপুরা ছেড়ে বাংলায় ফিরেছিলেন। গতবারও ঋদ্ধি এক ফ্র্যাঞ্চাইজির মেন্টর ছিলেন।
সিএবি কর্তাদের অনেকেই দাবি করেন, বেঙ্গল প্রো টি-টোয়েন্টি সংস্থার অন্যতম সেরা টুর্নামেন্ট। জমকালো সব আয়োজন করা হচ্ছে। স্টারের মতো চ্যানেলে দেখানোও হবে। সমস্যা হল, সেই টুর্নামেন্টেই রাজ্যের এই অন্যতম মুহূর্তের সেরা ক্রিকেট আইকনকে যুক্ত করা যাচ্ছে না। যা বাংলা ক্রিকেটের পক্ষে খুব মোটেই ভালো বিজ্ঞাপন নয়! ঋদ্ধির মতো বাংলার আরও এক প্রাক্তন তারকা ক্রিকেটার মনোজ তিওয়ারিকেও বিপিএলে দেখা যাবে না। মনোজ যে ফ্র্যাঞ্চাইজির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন, তারা আগেই টুর্নামেন্ট থেকে নাম প্রত্যাহার করে নিয়েছিল।
যার পর কেউ কেউ প্রশ্ন তুলতে শুরু করে দিয়েছেন। বলা হচ্ছে, ঋদ্ধিমান-মনোজের মতো তারকারা বিপিএলে নেই। অথচ অনেক টিম এমন কাউকে কাউকে কোচিং স্টাফে রেখেছেন, যাঁদের সে অর্থে কোনও অভিজ্ঞতা নেই। বিপিএলের মতো টুর্নামেন্টে যদি রাজ্যের সেরা ক্রিকেট আইকনরা না থাকেন, সেই টুর্নামেন্টের গ্ল্যামার কী কমে যাবে না? সিএবির অন্দরে প্রশ্নটা কিন্তু উঠতে শুরু করে দিয়েছে!
