shono
Advertisement
Sonam Kapoor

সোনমের অমূল্য ওড়নায় লুকিয়ে ভারতের ৩০০ বছর পুরনো ঐতিহ্য, রয়েছে শ্রীকৃষ্ণের যোগ

‘পিচওয়াই’ শব্দের আক্ষরিক অর্থ করলে দাঁড়ায় ‘পিছনে ঝোলানো’। সাধারণত কাপড়ের উপর আঁকা এই বিশেষ ধারার ধর্মীয় চিত্র মন্দিরের গর্ভগৃহে দেবতার মূর্তির পিছনে ঝোলানো হত।
Published By: Utsa TarafdarPosted: 05:26 PM Aug 20, 2026Updated: 06:09 PM Aug 20, 2026

ফ্যাশন আদতে চিরপুরাতন। যা কিছু প্রাচীন, ঐতিহ্যবাহী, তা-ই যেন আধুনিকতার পরিভাষা হয়ে বারেবারে ফিরে আসে বর্তমানে। সম্প্রতি এক গহনার ব্র্যান্ড আয়োজিত সন্ধ্যায় হাজির হন অনীল-তনয়া সোনম কাপুর (Sonam Kapoor)। তবে কান-গলা ভর্তি গহনা ছাপিয়ে এদিন ওঁর লুকে সবচাইতে নজরকাড়া হয়ে ওঠে পরনের পোশাকটি। তিনি বেছে নিয়েছিলেন একটি সম্পূর্ণ কালো আনারকলি, যার ঝুল হাঁটু ছাড়িয়েও নেমে গিয়েছে অনেকখানি। আর সঙ্গে ছিল পিচওয়াই (Pichwai art) কাজের ওড়না, তা রীতিমতো ‘টক অফ দ্য টাউন’ হয়ে ওঠে অল্প সময়েই।

Advertisement

পোশাকটির স্টাইলিস্ট রিয়া কাপুর ও মনীষা মেলওয়ানি জানতেন, আর তাই ওড়নাটিকে কেবল আনারকলির সঙ্গত হিসেবে এক কাঁধে ফেলে রাখার বদলে, তা দিয়েই ঢেকে নেন দেহের সিংহভাগ। ওড়নাটিই হয়ে ওঠে ওঁর সামগ্রিক লুকের ‘শোস্টপার’। সোনমের মতো ফ্যাশনিস্টা সজ্ঞানে বেছে নিয়েছেন বলেই, নতুন করে ফ্যাশনপ্রেমীদের আলোচনায় উঠে এসেছে পিচওয়াই। একশ শতাংশ খাঁটি এই ভারতীয় শিল্পধারা আসলে হালের আমদানি নয়, এর বয়স প্রায় ৩০০ বছর!

পিচওয়াই শিল্পের জন্ম রাজস্থানে, এই ধারায় বিশেষ কায়দায় আঁকা হয় ফুল, ময়ূর, ঘাঘরা পরিহিতা নারী, পদ্মফুল, গরু, বৃন্দাবনের দৃশ্য অথবা কৃষ্ণের প্রতিকৃতি। ‘পিচওয়াই’ শব্দের আক্ষরিক অর্থ করলে দাঁড়ায় ‘পিছনে ঝোলানো’। সাধারণত কাপড়ের উপর আঁকা এই বিশেষ ধারার ধর্মীয় চিত্র মন্দিরের গর্ভগৃহে দেবতার মূর্তির পিছনে ঝোলানো হত। রাজস্থানের নাথদ্বারায় অবস্থিত শ্রীনাথজি মন্দির ঘিরে পিচওয়াই শিল্পের বিকাশ ঘটে। এখানে শ্রীনাথজি হলেন কৃষ্ণের বালক রূপ—সাধারণত সাত বছরের কৃষ্ণকে এক হাত উপরে তুলে গোবর্ধন পর্বত ধারণ করা অবস্থায় দেখানো হয় এখানে।

কথিত রয়েছে, মুঘল সম্রাট ঔরঙ্গজেবের সময় বৃন্দাবন থেকে শ্রীনাথজির মূর্তি নিরাপদ স্থানে সরিয়ে আনা হয়েছিল। মেওয়াড়ের শাসক রানা রাজ সিংহের আশ্রয়ে নাথদ্বারায় মূর্তিটির স্থায়ী প্রতিষ্ঠা হয়। এরপর মন্দিরকে ঘিরে শিল্পী ও কারিগরদের বসতি গড়ে ওঠে এবং পিচওয়াই একটি স্বতন্ত্র শিল্পধারায় পরিণত হয়। শ্রীনাথজীর দৈনিক সেবার সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত পিচওয়াইয়ের রূপ। অর্থাৎ গ্রীষ্মের জন্য এক ধরনের পিচওয়াই, বর্ষার জন্য অন্য নকশা, আবার গোবর্ধন পূজা, রাসপূর্ণিমা, দোল বা জন্মাষ্টমীর মতো উৎসবের জন্য সম্পূর্ণ আলাদা চিত্র। কোনও কোনও পিচওয়াইতে শুধু একটি ঘটনা নয়, গোটা উৎসবের পরিবেশই ফুটিয়ে তোলা হত। ঐতিহ্যবাহী পিচওয়াই তৈরির কাজ অত্যন্ত সময়সাপেক্ষ।

রাজস্থানের ঐতিহ্যবাহী পিচওয়াই শিল্প।

তবে সোনমের তসর জর্জেটের ওড়নাটিতে অঙ্কিত চিত্র নয়, বরং রেশমের সুতোর কাজে ফুটে উঠেছিল এমন নানা মোটিফ। পূর্ণাঙ্গ চিত্রের বদলে টুকরো টুকরো পিচওয়াই মোটিফ জুড়ে ছিল ওড়না জুড়ে। উজ্জ্বল সোনালি ও কালোর আবেশে সোনম যেন হয়ে উঠেছিলেন ভারতবর্ষের প্রাচীন শিল্পেরই মূর্ত প্রতীক।

Sangbad Pratidin News App

খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ

হাইলাইটস

Highlights Heading
Advertisement