ওয়ান লাইফ ওয়ান চান্স, তাই কম্প্রোমাইজ পোষাবে না। বর্তমান জেন জি প্রজন্ম এই মন্ত্রেই বিশ্বাসী। সম্প্রতি সারা দেশকে নাড়িয়ে দিয়ে গিয়েছে তাদের আন্দোলনের স্পর্ধা। তাদের সপক্ষে বিপক্ষে নানা কথা বলা গেলেও দৃষ্টিভঙ্গির দিক দিয়ে তারা খুব পরিষ্কার। তাদের উপর যেমন কিছু চাপিয়ে দেওয়া যায় না, তেমনই তারা মুখ বুজে কিছু মেনেও নেয় না। নিজের চেয়ে বেশি কারও ভ্যালিডেশনের তোয়াক্কা করে না এই প্রজন্ম। পরিচালক শ্রীমন্ত সেনগুপ্ত তাঁর নতুন 'প্রেম শটস' সিরিজে এই জেন জি প্রজন্মের চাওয়া পাওয়ার গল্প বলেছেন। অভিনয়ে রয়েছেন বনি সেনগুপ্ত, অঙ্গনা রায়, শ্রেয়া গুপ্ত, দেবদত্ত রাহা। কেমন হল সেই সিরিজ?
জীবনের সব চেয়ে কঠিন পদক্ষেপ নিঃসন্দেহে সঠিক জীবনসঙ্গী বেছে নেওয়া। তার জন্য প্রয়োজনে বার বার ট্রায়াল এন্ড এররে যেতে রাজি আয়ুশ (বনি), এবং তার বান্ধবীরাও। কিছুদিন একসঙ্গে থেকে বুঝে নেওয়া একে অপরের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়া যাবে কি না। নিজের স্বাচ্ছন্দ্য, নিজের স্বস্তি কারও জন্য বিসর্জন দিতে রাজি নয় আয়ুশ। সে নিজের ক্যাফে নিয়ে যতটা প্যাশনেট, জীবনসঙ্গী নিয়েও তাই।
এমনকী, বাবা-মায়ের সঙ্গে মতের অমিলেও সে আপসে যেতে রাজি নয়। নিজের প্রাক্তন বান্ধবীর বিয়েতে আয়ুশের সঙ্গে দেখা হয়ে যায় সিলভার (অঙ্গনা)। সিলভা অত্যন্ত স্বাধীনচেতা আর বেপরোয়া ধরনের জীবনে অভ্যস্ত। নিজের ব্যাপারে যেমন কারও নাক গলানো পছন্দ করে না, তেমনই অন্যের ব্যক্তিগত পরিসরে ঢুকতেও তার আপত্তি আছে। একে অপরকে ভালো লাগলেও বাধা হয়ে দাঁড়ায় সিলভার আশপাশে ঘুরে বেড়ানো বডিগার্ডের দল। সিলভা যদিও তাদের অস্তিত্ব সম্পর্কে কিছুই জানে না। তা হলে এরা কারা? সিলভার জীবনকে কে নিয়ন্ত্রণ করতে চাইছে?
বাইরে রিমঝিম বৃষ্টি, ঘরের ভেতর অল্প আলোয় কফি আর পকোড়া নিয়ে আরাম করে দেখার মতো সিরিজ 'প্রেম শটস'। মিষ্টি রোমান্টিক অথচ নিজের শর্তে অনড় কিছু ছেলেমেয়ের গল্প যাদের জীবনে ভালোবাসা শুধুমাত্র ফ্যান্টাসি নয়। জীবনে বিয়েটাই তাদের কাছে সব নয়। বরং সঠিক মানুষকে পাশে নিয়ে ভালো থাকাটা জরুরি। ঘরে-বাইরে নানারকম চাপ সামলেও নিজেদের তৈরি করা শর্তে তারা বাঁচতে জানে। জীবনের নানা জটিলতায় আটকে গিয়ে হয়তো ভুল করে, জড়িয়ে পড়ে, কিন্তু জেদ ছাড়ে না। নিজের সিদ্ধান্তে স্থির থাকতে জানে। তবে স্পর্ধা আকাশছোঁয়া হলেও সম্পর্কের সুতো মোটেও তুচ্ছ নয়। বাংলা সিরিজের নিরিখে ব্যতিক্রমী ও তাজা এক দমকা হাওয়া এনে দেবে 'প্রেম শটস'।
চেনা বাঙালি মানসিকতার অনেকগুলো স্টিরিওটাইপ অনায়াসে ভেঙে দেয় এই সিরিজ, যা কোথাও একটু চমকে দিলেও পরে মনে হবে এটাই তো ঠিক। নেহা আনন্দ, মেঘাতিথি বন্দ্যোপাধ্যায়, ভিক্টর মুখোপাধ্যায়ের লেখা গল্প যেমন ঝরঝরে তেমনই সময়োপযোগী। ঝকঝকে চিত্রগ্রহণ তূর্য ঘোষের। পুরনো খোলস ছেড়ে বনি এখানে একেবারে নতুন অবতারে। আয়ুশের চরিত্রে দারুণ মানানসই তিনি। অঙ্গনা ভীষণ পরিণত এবং দেখতেও অসম্ভব ভালো লেগেছে তাঁকে। শ্রেয়া এবং দেবদত্ত দু'জনেই প্রশংসার দাবিদার। সপ্তক সানাই দাসের সুরে সৌমিত দেবের কণ্ঠে শীর্ষ সংগীতটি শুনতে ভালো লাগে।
