বেলজিয়াম: ১ (আত্মঘাতী- হানি)
মিশর: ১ (আশৌর)
চলতি বিশ্বকাপের বয়স মাত্র ৪ দিন। আর তার মধ্যেই হয়ে গিয়েছে জোড়া অঘটন। নেদারল্যান্ডসকে আটকে এশীয় সূর্যোদয় ঘটিয়েছে জাপান। মরক্কর সঙ্গে ড্র করে কোনওক্রমে সম্মান বাঁচিয়েছে ব্রাজিল। আবার বিশ্বচ্যাম্পিয়ন স্পেনকে গোলের খাতাই খুলতে দেয়নি কেপ ভার্দে। গোলশূন্য ড্র করে বুঝিয়ে দিয়েছে, এই মঞ্চে কিছুই অসম্ভব নয়। সেই সোমবার গভীর রাতে ঘটে যেতে পারত আরও এক অঘটন। জন্মদিনে দেশবাসীকে সবচেয়ে বড় উপহার দিতে পারতেন মহম্মদ সালাহ। যদি না দ্বিতীয়ার্ধে বেঞ্চ থেকে মাঠে নামা রোমেলু লুকাকুকে রুখতে গিয়ে মারাত্মক ভুলটি না করতেন হানি।
এডেন হ্যাজার্ড, লুকাকুদের সৌজন্যে ২০১৮ বিশ্বকাপে লম্বা লাফ দিয়েছিল বেলজিয়াম। চলতি টুর্নামেন্টে, সেই হ্যাজার্ড দলের সহকারী কোচ এবং লুকাকুকে ছাড়াই প্রথম একাদশ সাজান কোচ। কুর্তোয়া-ডে’ব্রুইনরা আছেন এখনও। তবে ডে’ব্রুইনদের বয়স হয়েছে। আগের ধার আর নেই। নইলে এ দিন যে বলখানা পেয়েছিলেন বেলজিয়ান অ্যাটাকিং মিডফিল্ডার, বছর কয়েক আগে হয়ে নিশ্চিত তাতে ‘গোল’ শব্দটা বসানো থাকত! শুরুতে বল পজেশনে বেলজিয়াম এগিয়ে থাকলেও সমানে টক্কর দিতে শুরু করে প্রতিপক্ষও। ফল মেলে ২০ মিনিটে। রাইট উইং থেকে সালাহর দুরন্ত পাশ থেকে নিখুঁত গোলে মিশরকে এগিয়ে দেন আশৌর। আদ্যপান্ত ফুটবল পরিবারে জন্ম তাঁর। ছোটবেলায় মিশরের ক্লাব গজল-এল-মহল্লার বয়সে বড়দের সঙ্গে নিয়মিত ট্রেনিং করতে যেতেন। কিন্তু ক্লাব কোচরা তাঁকে ক্রমাগত উপেক্ষা করায় ইমাম ভেবেছিলেন, দরকার নেই ফুটবল খেলে! লাভ নেই কিছু। তার চেয়ে অন্য কিছু করা ভালো। এক সাক্ষাৎকারে একবার বলেওছিলেন, ‘‘আমি এল মহল্লা ক্লাবে খেলতাম, আমার দাদারা সেখানে খেলত বলে।’’ পরে সেই ইমামই মিশনের নব্য প্রতিভাদের অন্যতম হিসেবে তড়িৎগতিতে উঠে আসেন! আর আজ? সোমবার? মিশরের জার্সিতে প্রথম বিশ্বকাপ ম্যাচ খেলতে নেমেছিলেন ইমাম। আর সেখানেই কিনা দুর্ধর্ষ একটা গোল! সরাসরি বিশ্বকাপের বিশ্বমঞ্চে। সেটাও কাদের বিরুদ্ধে? না, বেলজিয়ামের বিরুদ্ধে! যারা বর্তমানে এক দশক আগের মতো ভয় ধরানো না হলেও, মাঝে-মধ্যে প্রতিপক্ষকে ‘দংশনে’ মোটের উপর পারদর্শী।
সালাহ-মারমুশ মিলে প্রায়ই ভয় ধরিয়ে দিচ্ছিলেন টিনটিনের দেশের ডিফেন্সকে! বারের নিচে একাধিকবার দলের দুর্গ রক্ষা করতে হল কুর্তোয়াকে। দ্বিতীয়ার্থে ৫৭ মিনিটের মাথায় ব্যবধান বাড়ানোর সোনালী সুযোগ হাতছাড়া করেন মারমোস। বক্সের ভিতর থেকে সালাহর নেওয়া শট গ্রিপ বা ফিস্ট না করে সামনে ঠেলে দেন বেলজিয়াম গোলকিপার কুর্তোয়া। সেই সুযোগকে কাজে লাগাতে ব্যর্থ হন ইজিপশিয়ন ফরোয়ার্ড। তবে লুকাকু নামতেই যেন হাঁফ ছেড়ে বাঁচেন চকোলেটি দেশের দর্শকরা।
খেলার পঁয়ষট্টি মিনিট নাগাদ ১-১ করল বেলজিয়াম। স্কোরশিটে মিশর ফুটবলার মহম্মদ হানির আত্মঘাতী গোল হিসেবে লেখা থাকলেও আদতে গোলটা লুকাকুর! ঘাড়ের উপর দুই মিশর ডিফেন্ডারকে নিয়ে বিশালাকায় শরীর সহ লুকাকু গোল-সীমান্তে ঢুকে না পড়লে, ১-১ হয় না। অল্পের জন্য বল তাঁর পায়ে লাগেনি। কিন্তু তাঁর পা থেকে টিমকে বাঁচাতে গিয়ে হানির পা ভুল করে বসেছিল। গত এক বছর কোনও ক্লাব ফুটবল খেলেননি লুকাকু। ফুটবলের সঙ্গে কোনও সংস্পর্শই ছিল না তাঁর। কিন্তু তার পরেও টিমকে পরোক্ষে বিশল্যকরণী প্রদানে তাঁর সমস্যা হয়নি।
চলতি বিশ্বকাপে গোটা কতক ম্যাচ পর্যবেক্ষণের পর একটা প্রশ্ন বিশ্বফুটবলে প্রবল ভাবে উঠছে। লাতিন আমেরিকা আর ইউরোপের সঙ্গে কি ফুটবল-দক্ষতার ব্যবধান ক্রমশ কমিয়ে ফেলছে আফ্রিকা-এশিয়ার দলগুলো? টুর্নামেন্টের বয়স বাড়লে বিষয়টা আরও স্পষ্ট হবে।
