অবশেষে আইএসএলের দিন ঘোষণা হয়েছে। আশা করা যাচ্ছে, আগামী মাস থেকে দেশের সর্বোচ্চ লিগে বল গড়াবে। স্বস্তির হাওয়া দেশের ফুটবল মহলে। ভারতের প্রাক্তন অধিনায়ক কিংবদন্তি ফুটবলার বাইচুং ভুটিয়া মনে করছেন এই মরশুমে যেভাবে ফেডারেশন দেশের সর্বোচ্চ লিগ আয়োজন করতে হিমশিম খাচ্ছে, তাতে এই ঘটনা আগামী প্রজন্মের ওপর খুবই নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। একইসঙ্গে তিনি মনে করছেন, এবারের লিগ কোনও রকমে আয়োজন করার ফলে আইএসএল নিয়ে আগের যা উন্মাদনা, তা থাকবে না। তবে কয়েক মাস বাদে ফেডারেশনের নির্বাচনের পর যে নতুন কমিটি আসবে, তাদেরকে সুষ্ঠুভাবে আগামী পরিকল্পনা করতে হবে বলে মনে করছেন তিনি।
রবিবার কলকাতায় এক অনুষ্ঠানে যোগ দিতে এসে এই ভারতের প্রাক্তন অধিনায়ক বলেন, “আইএসএল শুরু হচ্ছে আগামী মাস থেকে এটা ভালো খবর। তবে এই ফরম্যাটটা এক বছরের জন্য। তবে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা রাখতেই হবে। ফেডারেশনের নির্বাচনের পর যে কমিটি আসবে, তারা পরবর্তী দিক ঠিক করবে। আগের আইএসএলের মতো স্ট্যান্ডার্ড থাকবে না। একাধিক বিদেশি দল ছেড়ে চলে গিয়েছে। আগের মতো চার্ম থাকবে না। কলকাতায় ইস্টবেঙ্গল ডার্বি না হলে, মহামেডান যদি কলকাতায় না খেলতে পারে সেটা সত্যি দুঃখজনক হবে। তবে এটা মাত্র একবছরের জন্য । এই পরিস্থিতি ফুটবলারদের কিছুটা হতাশ করে দিতে পারে। আগামী প্রজন্মের জন্য এই পরিস্থিতি একটা নেতিবাচক বিজ্ঞাপন।” কেন্দ্রীয় ক্রীড়ামন্ত্রী মনসুখ মাণ্ডব্যের কলকাতার দুই প্রধানের নাম সঠিক উচ্চারণ করতে না পারাকেও ভালোভাবে দেখছেন না বাইচুং। তিনি বলেন, “খুবই দুঃখজনক। মোহনবাগান ও ইস্টবেঙ্গল দেশের আইকনিক ক্লাব। মোহনবাগান, ইস্টবেঙ্গল, মহামেডান এগুলো শুধু ফুটবল ক্লাব নয়। দেশের স্বাধীনতা সংগ্রামেও জড়িত রয়েছে এদের নাম। এটা সত্যি খুব দুঃখজনক ঘটনা।”
বাইচুংয়ের পাশাপাশি আরেক প্রাক্তন ফুটবলার বিকাশ পাঁজিও আইএসএল আয়োজনের এই ব্যর্থতা প্রসঙ্গে সমালোচনা করেন ফেডারেশনের। তিনি বলেন, “আইএসএল যেটা হচ্ছে, সেটা একটা ফান ফুটবল। কত ফুটবলার ছেড়ে চলে যাচ্ছে দল ছেড়ে।” আরেক প্রাক্তন দীপেন্দু বিশ্বাস বলছেন, “আইএসএল হতেই হবে। না হলে ফিফা ব্যান করে দেবে। অন্য দেশের লিগে অনেকগুলো ম্যাচ হয়ে গিয়েছে। তাই বলছি, যেভাবেই হোক এবারের লিগটা হোক। শুধু আইএসএল নয়, আই লিগও করতে হবে। খেলাটা শুরু হলে দলের জন্য ভালো।”
মেসি কাণ্ডের পর সল্টলেক স্টেডিয়ামের যথেষ্টই ক্ষতি হয়েছে। আশা করা যাচ্ছে আইএসএলের আগে যুবভারতীকে সংস্কার করে ফের আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনা যাবে। এমন পরিস্থিতিতে মোহনবাগান কোথায় খেলবে? মোহনবাগান সভাপতি দেবাশিস দত্ত বলেন, “সল্টলেক স্টেডিয়াম আছে। আমরা সরকারের সঙ্গে আলোচনা করছি। না হলে মোহনবাগান মাঠ আছে, কিশোর ভারতী স্টেডিয়াম আছে। ডার্বি ম্যাচ হলে অবশ্যই সল্টলেক স্টেডিয়ামে খেলতে হবে। বাকি ম্যাচগুলো নিয়ে আলোচনা চলছে। আমরা সময়মতো জানাব। আইএসএল হবে। সব সমস্যা মিটে যাবে।”
