বিশ্বকাপে মন জয় করে নিয়েছে কেপ ভার্দে। ভোজিনহার গোলকিপিংয়ের প্রশংসায় পঞ্চমুখ ফুটবলদুনিয়া। এবার তাঁদের মাথায় আরও একটি পালক। বিশ্বকাপের সেরা গোলের তকমা পেল কেপ ভার্দের সিডনি লোপেজ কাব্রালের গোল। রাউন্ড অফ ৩২-এ আর্জেন্টিনার বিরুদ্ধে কাব্রালের বাঁক খাওয়ানো গোলটি বিশ্বকাপের সেরা গোল হিসেবে বেছে নেওয়া হয়েছে। পিছনে ফেলে দিয়েছে মেসি-এমবাপেদের কৃতিত্বকেও।
ম্যাচের বয়স তখন ১০৩ মিনিট। মায়ামি স্টেডিয়ামে ২-১ গোলে পিছিয়ে কেপ ভার্দে। নির্ধারিত সময়ে লিওনেল মেসিদের আটকে দিয়েও ফের পিছিয়ে পড়েছে। সেই সময় জ্বলে উঠলেন কাব্রাল। ডানদিকের বক্সের মাথা থেকে যে কার্লারটা তিনি মারলেন, তা এমি মার্টিনেজ কেন, ন্যয়ার-কাসিয়াস-বুঁফোরাও বাঁচাতে পারতেন না। এমিকে পরাস্ত করে জালে বল জড়ায়। কোনওদিকে আর তাকান না কাব্রাল। যেন নিজেই বিশ্বাস করতে পারছিলেন। শেষ পর্যন্ত অবশ্য ম্যাচ জিততে পারেনি। তবে বিশ্বজুড়ে ফুটবলারদের মন জিতে নিয়েছে।
গোলের পর উচ্ছ্বাস কাব্রালের।
বিশ্বকাপে এবার ৩০৮টি গোল হয়েছে। তার মধ্যে ১২টি গোল সেরার দৌড়ের জন্য বেছে নেওয়া হয়েছিল। সেখানে কঙ্গোর বিরুদ্ধে উজবেকিস্তানের এলদোর সোমুরোদভ ও মরক্কোর বিরুদ্ধে হাইতির উইলসন ইসিডরের গোলকে টপকে সেরার শিরোপা পেয়েছে কাব্রালের গোল। তিনি বলছেন, "আমি যখন প্রতিপক্ষকে কাটিয়ে যাই, তখন দেখি সামনে জায়গা আছে। আমি দু'পায়েই শট মারতে পারি। আমি ফাঁকা জায়গা দেখে টপ কর্নারে বল মারার চেষ্টা করি। বল মারার পর মাথা তুলে দেখি, সেটা গোলে ঢুকে গিয়েছে। আমি নিজেই তখন ভাবছিলাম, 'এ আমি কী করে ফেললাম?' আমি নিজেই বিশ্বাস করতে পারছিলাম না। তারপর বুঝলাম, আমি খুব ভালো গোল করেছি।"
ওই গোলের পর লাফিয়ে স্টেডিয়ামে উঠে পড়েছিলেন। সেখানে বান্ধবীর সঙ্গে দেখা করেন। তবে মায়ের সঙ্গে দেখা হয়নি। কারণ ওই গোল দেখার পর কাব্রালের মা অজ্ঞান হয়ে গিয়েছিলেন। ম্যাচের পর ২৩ বছর বয়সি সাইডব্যাককে ব্রাজিলের প্রাক্তন ফুটবলার মার্সেলো মেসেজ করেছিলেন। যিনি আবার কাব্রালের আদর্শ।
