ডুরান্ড কাপের শেষ আটে মোহনবাগানের বিরুদ্ধে খেলবে জামশেদপুর এফসি। সেই ম্যাচে নামার আগে স্বস্তি জামশেদপুর শিবিরে। জামশেদপুর ফুটবল অ্যান্ড স্পোর্টিং প্রাইভেট লিমিটেডের ইকুইটি অংশীদারিত্ব চার্চিল ব্রাদার্সের কাছে হস্তান্তর করেছে টাটা স্টিল। শোনা যাচ্ছে, মাত্র ১০০ টাকার টোকেনে এই হস্তান্তর হয়েছে। ফলে জামশেদপুর এফসির লাইসেন্স নিয়ে আসন্ন আইএসএল খেলবে চার্চিল ব্রাদার্স।
এই চুক্তির আওতায় রয়েছে জামশেদপুর এফসির আইএসএলে অংশগ্রহণের স্পোর্টিং লাইসেন্স। সুতরাং দুই কোচের চুক্তি-সহ জামশেদপুরের ১২ জন ফুটবলার নতুন মালিকানার অধীনে চলে যাবে। জানা গিয়েছে, আগামী সেপ্টেম্বর থেকে জামশেদপুরের কোচিং স্টাফ থেকে শুরু করে ফুটবলারদের গ্রহণ করবে চার্চিল ব্রাদার্স। ফলে জামশেদপুরের ফুটবলার ও কোচেদের ভবিষ্যৎ নিয়ে যে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছিল, সেই আঁধার আপাতত কাটল। এই নিয়ে টাটা স্টিলের তরফে সোশাল মিডিয়ায় এক বিবৃতিও প্রকাশিত হয়েছে।
শুক্রবার জামশেদপুর এফসির ৪.০৯ কোটি টাকার শেয়ারের চুক্তিতে সই করেছে টাটা স্টিলের ডিরেক্টর বোর্ড। যদিও গোটা হস্তান্তর প্রক্রিয়া শেষ হতে সময় লাগবে আরও পনেরো দিন। তবে আগস্টের শেষে এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে কিনা, তা নির্ভর করছে এআইএফএফের উপর। আপাতত যা খবর, চার্চিল ব্রাদার্স ইতিমধ্যেই ফেডারেশনকে জানিয়ে দিয়েছে যে তারা জামশেদপুরের লাইসেন্স নিতে তৈরি।
ইন্ডিয়ান সুপার লিগ থেকে জামশেদপুর এফসির দল তুলে নেওয়ার সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার আর্জি জানিয়েছিল এআইএফএফ। এর জন্য টাটা-কে ১২ আগস্ট পর্যন্ত সময় দিয়েছিল ফেডারেশন। তবে টাটা কর্তৃপক্ষের এই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে পথে নামেন ইস্পাত নগরীর ফুটবলপ্রেমীরা। সাকচিতে টাটা স্টিলের কর্পোরেট কমিউনিকেশনস দপ্তর ঘেরাও করে বিক্ষোভ দেখান তাঁরা। প্ল্যাকার্ডে লেখা ছিল, ‘জামশেদপুর এফসি বাঁচান, ভারতীয় ফুটবল বাঁচান’। সুনীল ছেত্রী-সহ দেশের প্রাক্তন ফুটবলাররা টাটাকে জামশেদপুর নিয়ে সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার আর্জি জানায়।
উল্লেখ্য, আইএসএলে অংশগ্রহণের জন্য ২০ জুলাইয়ের মধ্যে ৫৫ লক্ষ টাকা করে প্রথম কিস্তি দেওয়ার কথা ছিল ১৪টি ক্লাবের। সেই তালিকায় ছিল জামশেদপুর ও ইন্টার কাশীও। পরে সময়সীমা বাড়িয়ে ৩১ জুলাই করা হয়। ইন্টার কাশী টাকা মিটিয়ে দিলেও জামশেদপুর তা করেনি। শেষ পর্যন্ত তাদের লাইসেন্স নিয়ে আইএসএল খেলতে দেখা যাবে চার্চিলকে। প্রসঙ্গত, সাম্প্রতিক অতীতে বড় বিতর্কের মধ্যে দিয়ে গিয়েছে তারা। এমনকী আই লিগ চ্যাম্পিয়ন হওয়া নিয়ে তাদের সঙ্গে ইন্টার কাশীর লড়াই আদালতে ওঠে। প্রথমে চার্চিলকে ট্রফি দেওয়া হলেও পরে তা ফিরিয়ে নেয় ফেডারেশন। চ্যাম্পিয়ন ঘোষণা করা হয় ইন্টার কাশীকে। যদিও আইএসএলে ১০ নম্বরে শেষ করে ইন্টার কাশী। অন্যদিকে, গতবার আইএসএল খেলতে পারেনি চার্চিল। এবার তারা জামশেদপুরের লাইসেন্সে আইএসএল খেলবে।
