এডমুন্ড লালরিনডিকা। এই মুহূর্তে ভারতীয় ফুটবলের নতুন সেনশেসন। লাল-হলুদ জার্সিতে ডার্বিতে শেষবার হ্যাটট্রিক করেছিলেন বাইচুং ভুটিয়া। সেটাও সেই ’৯৭-এ। তারপর থেকে দীর্ঘদিন ডর্বিতে লাল-হলুদ জার্সিতে কোনও হ্যাটট্রিক নেই। দীর্ঘ ২৯ বছর অপেক্ষার পর লাল-হলুদ জার্সিতে ফের ডার্বিতে হ্যাটট্রিক। এবার নায়ক এডমুন্ড। ইস্টবেঙ্গল স্ট্রাইকারকে নিয়ে এই মুহূর্তে সর্বত্র আলোচনা হবে, এটাই স্বাভাবিক। তবে ডার্বিতে গোল করেও মাটিতে পা রাখতে ভুলছেন না মিজো স্ট্রাইকার। বারবার করে বলছেন, ‘‘সাফল্য পেতে গেলে আমাকে আরও কঠিন পরিশ্রম করতে হবে।’’
ডার্বিতে গোল করেও মাটিতে পা রাখতে ভুলছেন না মিজো স্ট্রাইকার। বারবার করে বলছেন, ‘‘সাফল্য পেতে গেলে আমাকে আরও কঠিন পরিশ্রম করতে হবে।’’
একটা সময় ফেডারেশনের ডেভলপমেন্ট প্রোগ্রাম থেকেই পাদপ্রদীপের আলাতে এসেছিলেন এডুমন্ড। যে কথা স্বীকারও করেন এই মুহূ্র্তে ইস্টবেঙ্গল সমর্থকদের নয়নের মণি। ডুরান্ড ফাইনালে মোহনবাগানের বিরুদ্ধে হ্যাটট্রিককে অন্য মাত্রায় নিয়ে চলে গিয়েছে, নিশ্চয়ই বুঝতে পারছেন তিনি। বলছিলেন, "আজ যে জায়গায় রয়েছি তার পিছনে ফেডারেশনের ডেভলপমেন্ট প্রোগ্রামের অবশ্যই বড় ভূমিকা রয়েছে। মাত্র এগারো বছরে ফেডারেশনের ডেভলপমেন্ট প্রোগ্রামে যোগ দিয়েছিলাম। কম বয়সে ডেভলপমেন্ট প্রোগ্রামে থাকার জন্য ছোট থেকেই শৃঙ্খলার মধ্যে থাকতে হয়েছে। কারণ, ছোট থেকেই ফুটবলের প্রাথমিক বিষয়গুলি শেখার পাশাপাশি নিজেদের শৃঙ্খলার মধ্যে রাখাটাও একজন ফুটবলারের বেড়ে ওঠার জন্য ভীষণই গুরুত্বপূর্ণ। আমি ভাগ্যবান যে এই সুযোগগুলি ছোট থেকেই পেয়েছি।’
ডুরান্ড ফাইনালের আগে তিনি আর তাঁর বোন যে হ্যাটট্রিকের জন্য প্রার্থনা করেছিলেন, তা এতদিনে সবাই জেনে গিয়েছেন। এদিন তাই ফেডারেশনকে এক সাক্ষাৎকার দেওয়ার ফাঁকে তিনি বলছিলেন, "ঈশ্বরের অপার মহিমা তাঁর সঙ্গে ছিল।" নতুন মরশুমের শুরুতেই তাঁর এই সাফল্যর জন্য বারবার করে কৃতিত্ব দিচ্ছেন কোচ আন্তেনিও লোপেজ হাবাসকে। ফেডারেশনকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বলেছেন, "সবে শুরু হয়েছে। হাবাসের সঙ্গে ভবিষ্যতে নিশ্চিতভাবেই আরও অনেক ট্রফি জিততে পারব।"
ফেডারেশনকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বলেছেন, "সবে শুরু হয়েছে। হাবাসের সঙ্গে ভবিষ্যতে নিশ্চিতভাবেই আরও অনেক ট্রফি জিততে পারব।"
সামনেই জাতীয় দলের হয়ে খেলার সুযোগ রয়েছে ব্রাজিলের জাতীয় দলের বিরুদ্ধে। বলছিলেন, "প্রত্যেক ভারতীয় ফুটবলারেরই স্বপ্ন থাকে ব্রাজিলের মতো দলের বিরুদ্ধে ম্যাচ খেলা।" তবে এডমুন্ডের এই স্বপ্ন তখনই স্বার্থক হবে, যদি জাতীয় কোচ খালিদ জামিল তাঁকে ব্রাজিল ম্যাচে দলে রাখেন। তবে এসবই অনেক দূরের ব্যাপার। এই মুহূর্তে এডমুন্ডের প্রাথমিক লক্ষ্য হল, কঠোর পরিশ্রম করে ক্লাবের জার্সিতে সেরাটা দেওয়া। একই সঙ্গে দেশের হয়ে সুযোগ পেলেও নিজের সেরাটা তুলে ধরতে চান। ফেডারেশনের ডেভলপমেন্ট প্রোগ্রামের অংশ থেকে জাতীয় দলের মুখ। সফরটা খুব একটা সহজ ছিল না এডমুন্ড লালরিনডিকার জন্য।
