ভালোবাসার নাম ব্রাজিল! বিশ্বজুড়ে সেলেকাওদের কোটি কোটি ভক্ত। নেইমার-ভিনিসিয়াসদের সাফল্য-ব্যর্থতায় দুলে ওঠে সমর্থকদের মন। ভারতেও তার ব্যতিক্রম নেই। এদেশেও প্রচুর ভক্ত হলুদ জার্সিধারীদের। ব্রাজিলের হারে সমস্ত শারীরিক সক্ষমতা হারিয়ে ফেলেছিলেন কেরলের এক যুবক। চার বছর ধরে শয্যাশায়ী। আর এবার ব্রাজিল বিশ্বকাপের (FIFA World Cup 2026) পরের রাউন্ডে যোগ্যতা অর্জন করতেই হাসি ফুটল সেই যুবকের মুখে। একটা ম্যাচই ভাগ্যবদল করে দিল কোচির ২৬ বছরের অক্ষয় কলাপ্পুরাক্কালের।
ব্রাজিল মাঠে নামা মানেই ভক্তরা ভাবেন যে, দল চ্যাম্পিয়ন হবে। কিন্তু ২০০২-র পর আর কাপ ছোঁয়ার সৌভাগ্য হয়নি ব্রাজিলের। গত বিশ্বকাপে কোয়ার্টার ফাইনালে ক্রোয়েশিয়ার কাছে হেরে বিদায় নেয় তারা। স্বপ্নভঙ্গের সেই যন্ত্রণা মেনে নিতে পারেননি অক্ষয়। পাড়ার বন্ধুরা তাঁকে ডাকত আচু নামে। স্থানীয় ক্লাবে নিয়মিত ফুটবল খেলতেন। কিন্তু ব্রাজিলের হারের পর আচমকা স্ট্রোকে অজ্ঞান হয়ে যান তিনি। হাসপাতালে দীর্ঘ চিকিৎসার পর জানা যায়, তাঁর মস্তিষ্কে রক্ত জমে গিয়েছে।
তারপর থেকে চার বছর বিছানাই একমাত্র আশ্রয় অক্ষয়ের। একসময় যাঁর ফুটবলার হওয়ার ইচ্ছা ছিল, তাঁর আর হাত-পা চলত না। ভরসা বলতে ছিল শুধুমাত্র চোখ। ইশারাতেই পরিবারকে প্রয়োজন বুঝিয়ে দিতেন।
এভাবেই কেটে গিয়েছে চার বছর। ফের বিশ্বকাপ। ব্রাজিলের ম্যাচ। প্রথম ম্যাচে মরক্কোর কাছে আটকে যায় পাঁচবারের বিশ্বজয়ীরা। তারপর হাইতির বিরুদ্ধে ম্যাচ। যেখানে ফের দেখা মিলল পুরনো সাম্বার ছন্দের। ৩-০ গোলে সেই ম্যাচ জিতে রাউন্ড অফ ৩২-এ ওঠে ব্রাজিল। তারপরই মিরাকল। হাসি ফোটে অক্ষয়ের মুখে। চার বছর পর। এই ম্যাচটার জন্য তাঁর বন্ধুরা বাড়ির সামনে বিশেষ স্ক্রিনিংয়ের ব্যবস্থা করেছিল। সেই ম্যাচ দেখতে দেখতেই বহুদিন পর অক্ষয়ের শরীরে প্রথম কোনও প্রতিক্রিয়া দেখা দিল। পরিবারের সদস্য বুক বাঁধছেন। এবার যদি ব্রাজিল হেক্সা জেতে, তাহলে হয়তো তাঁদের ছেলে পুরোপুরি সুস্থ হয়ে উঠবেন। ফুটবলের থেকে, ব্রাজিলের থেকে আরও বড় মিরাকলের আশায় পরিবার।
অনেকের মনে হতেই পারে, এই ঘটনা কাকতালীয়। কিন্তু এরকম ঘটনা আগেও ঘটেছে। ২০২০ সালে ইটালির কিংবদন্তি ফুটবলার ফ্রান্সিসকো তোত্তি এক মহিলাভক্তের সঙ্গে দেখা করেন। প্রায় ৯ মাস কোমায় আক্রান্ত ছিলেন ওই মহিলা। কিন্তু তোত্তির ভিডিওবার্তার পর ক্রমশ সুস্থ হয়ে ওঠেন তিনি।
