shono
Advertisement
FIFA World Cup 2026

টিকিটাকায় ধরাশায়ী অস্ট্রিয়া, দুর্বার গতিতে বিশ্বকাপের শেষ ষোলোয় স্পেন

'লা রোহা'দের ফুটবলীয় অহংকারে ছারখার ৪৪ বছর পর বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে ফেরা অস্ট্রিয়া।
Published By: Prasenjit DuttaPosted: 02:27 AM Jul 03, 2026Updated: 02:57 AM Jul 03, 2026

স্পেন ৩ (ওয়ারসাবাল, পেদ্রো)
অস্ট্রিয়া ০ 

Advertisement

ডন সুয়েরো দ্য প্রাউড। কিংবদন্তি স্প্যানিশ নাইট ডন সুয়েরোর বীরগাথা। যুদ্ধে কেউ তাঁকে পরাস্ত করতে পারেনি। তেমনই হয়তো এই স্পেন। যে দলের নাইটদের নাম লামিলে ইয়ামাল, আলেক্স বায়েনা, ওয়ারসাবাল, পেদ্রোরা। 'লা রোহা'দের ফুটবলীয় অহংকারে ছারখার ৪৪ বছর পর বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে ফেরা অস্ট্রিয়া। ১৯৭৮ বিশ্বকাপে স্পেনকে ২-১ গোলে হারিয়েছিল তারা। প্রায় পাঁচ দশক পর সেই ইতিহাসের পুনরাবৃত্তির আশাতে মাঠে নামলেও তা পূরণ হল না। ৩-০ গোলে জিতে দুর্বার গতিতে শেষ ষোলোয় স্পেন। 

কেপ ভার্দের বিরুদ্ধে প্রথম ম্যাচে আটকে যাওয়ার পর বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বে মন্দ খেলেনি স্পেন। সৌদি আরবকে তারা চার গোলে হারিয়েছে। শেষ ম্যাচে উরুগুয়েকে হারিয়েছে এক গোলে। আর এই ম্যাচে? যে কারণে বিশ্বজুড়ে সমাদৃত স্প্যানিশ ফুটবল, তা দেখা গেল এদিন। বল পায়ে থাকল। পাসও চলল নিখুঁত জ্যামিতিতে। দেখা গেল চোখ ধাঁধানো টিকিটাকা। লস অ্যাঞ্জেলেস মাতালেন ওয়ারসাবাল, ইয়ামাল, পেদ্রোরা। লুইস দে লা ফুয়েন্তের দল দ্বিতীয় মিনিটেই পালটা আক্রমণে ঝড় তুলে সুযোগ পেয়ে গিয়েছিল। ক্ষিপ্র গতির ইয়ামালের ডান পায়ের শট সোজা গোলরক্ষকের হাতে। যদিও দুই দলই প্রথম কোয়ার্টারে বিশেষ ঝুঁকি নিতে চায়নি। প্রথম দিকটা ইয়ামালকে নজরবন্দি রাখার চেষ্টা করেছিলেন কনরাড লাইমার। ১৮ মিনিটে গোলের খুব কাছে পৌঁছে গিয়েছিল অস্ট্রিয়া। মার্সেল সাবিৎসারের দুরন্ত ক্রসে মাথা ছোঁয়াতে পারলে এগিয়ে যেতে পারত তারা।

২৮ মিনিটে খোলস ছেড়ে বেরিয়ে আসে স্পেন। ঝটিকি আক্রমণে বক্সের ভেতর বল পান দানি ওলমো। তাঁর সামনে গোলমুখ প্রায় খোলাই ছিল। মোক্ষম সময় ট্যাকল স্টেফান পসের। এরপর ইয়ামলের কর্নার থেকে মার্ক কুকুরেয়া বল জালে জড়ালেও গোলরক্ষককে ফাউলের কারণে সেই গোল বাতিল। স্প্যানিশ ফুটবলারদের আপত্তি ধোপে টেকেনি। ৩৩ মিনিটে দানি ওলমোর জোরাল শট বাঁচান অস্ট্রিয়ার গোলরক্ষক আলেকজান্ডার শ্লাগার। গোল ঠেকালেও স্পেনের একের পর এক আক্রমণ ঠেকানো যায়নি। ৩৬ মিনিটে আসে মাহেন্দ্রক্ষণ। মার্ক কুকুরেয়ার নিখুঁত কাটব্যাক থেকে বল জালে পাঠাতে কোনও ভুল করেনি মিকেল ওয়ারসাবাল। এগিয়ে যায় স্পেন। বিরতির ঠিক আগে ফ্রিকিক থেকে গোল প্রায় করেই ফেলেছিল ফুয়েন্তের দল। আলেক্স বায়েনার শট ক্রসবারে লেগে প্রতিহত। ফিরতি বলে ইয়ামালের সামনে সহজ সুযোগ এলেও অস্ট্রিয়ার গোলরক্ষক আলেকজান্ডার শ্লাগার দুর্দান্ত সেভ স্পেনকে ব্যবধান বাড়াতে দেয়নি। এক গোলে এগিয়ে বিরতিতে যায় স্পেন।

দ্বিতীয়ার্ধেও ম্যাচের রাশ পুরোপুরি নিজেদের হাতেই রাখে স্পেন। ৪৯ মিনিটে ওয়ারসাবালের শট কোনওমতে বাঁচান অস্ট্রিয়ার গোলরক্ষক। এরপরও মুহুর্মুহু আক্রমণে ব্যস্ত থাকে লা রোহা। ৫৩ মিনিটে রদ্রির দূরপাল্লার শট ডিফ্লেক্ট হয়ে অল্পের জন্য লক্ষ্যভ্রষ্ট। ৬০ মিনিটে মার্কো আরনাউটোভিচ ও সাসা কালাইজডজিচকে নামায় অস্ট্রিয়া। কালাইজডজিচ তো প্রথম ছোঁয়ায় প্রায় গোলও পেয়ে যাচ্ছিলেন! ৬৬ মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণ করে স্পেন। বাঁ-দিক দিয়ে অ্যালেক্স বায়েনার ক্রস থেকে জোরাল শটে জালে কাঁপান পেদ্রো পোরো। শেষ দিকে ব্যবধান বাড়ানোর একাধিক সুযোগ তৈরি করে স্পেন। ৮৫ মিনিটে দুর্দান্ত দলগত আক্রমণ। ইয়ামালের শট গোললাইন সেভ হয়। চার মিনিট পর কুকুরেয়ার ডিফেন্স চেরা পাস থেকে স্কোর লাইন ৩-০ করেন ওয়ারসাবাল। তবে ভাগ্য সহায় থাকলে এই ম্যাচে আরামসে পাঁচ গোলে জিততে পারত স্পেন।  

Sangbad Pratidin News App

খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ

হাইলাইটস

Highlights Heading
Advertisement