shono
Advertisement

Breaking News

Spain vs Saudi Arabia

ইয়ামাল নামতেই বিধ্বংসী স্প্যানিশ আর্মাডা, সৌদিকে গোলের বন্যায় ভাসিয়ে বিশ্বকাপে প্রথম জয় স্পেনের

প্রথম ম্যাচের খারাপ ফুটবল মাশুল দ্বিতীয় ম্যাচেই সুদে-আসলে পুষিয়ে দিল 'লা রোখা'রা। সৌদি আরবের কপাল খারাপ যে, তারা সেই স্প্যানিশ আর্মাডার সামনে এসে পড়ল।
Published By: Arpan DasPosted: 11:31 PM Jun 21, 2026Updated: 11:52 PM Jun 21, 2026

স্পেন: ৪ (ইয়ামাল, ওয়ারজাবাল ২, আলতামবাক্তি আত্মঘাতী)
সৌদি আরব: ০

Advertisement

প্রথম ম্যাচে দুর্বল কেপ ভার্দের বিরুদ্ধে ড্র। প্রবল সমালোচনায় বিদ্ধ হয়েছে স্পেন। দ্বিতীয় ম্যাচেই সেটা সুদে-আসলে পুষিয়ে দিল 'লা রোখা'রা। সৌদি আরবের কপাল খারাপ যে, তারা সেই স্প্যানিশ আর্মাডার সামনে এসে পড়েছে। ৪-০ গোলে সৌদিকে উড়িয়ে বিশ্বকাপে প্রথম জয় পেল স্পেন। একটি গোল লামিনে ইয়ামালের, জোড়া গোল মিকেল ওয়ারজাবালের, একটি আত্মঘাতী। আগের ম্যাচের 'ভুল' থেকে শিক্ষা নিয়ে এদিন একাধিক বদল আনেন কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তে। কিন্তু এই ম্যাচ বুঝিয়ে দিয়ে গেল, এবার ১৯ বছরের লামিনে ইয়ামালের উপর কতটা নির্ভরশীল ২০১০-র বিশ্বজয়ীরা।

চোটের সমস্যা এখনও পুরোপুরি মেটেনি ইয়ামালের। আগের ম্যাচে দ্বিতীয়ার্ধে নামিয়েও লাভের লাভ হয়নি। এদিন বাধ্য হয়েই ইয়ামালকে শুরু থেকে খেলান ফুয়েন্তে। পুরো ম্যাচ খেলার মতো অবস্থায় আসেননি বার্সেলোনা তারকার। স্প্রিন্ট টানতে সমস্যা হচ্ছে। কিন্তু তাতেই এলেন, দেখলেন, জয় দেখলেন। বিশ্বকাপে প্রথম গোলটা তুলে নিতে আটলান্টা স্টেডিয়ামে সময় লাগল মাত্র ১০ মিনিট। মাঝমাঠ থেকে অ্যালেক্স বায়েনা বল দেন মিকেল ওয়ারজাবালকে। বাঁদিকে বক্সের মাথা থেকে বাঁপায়ের নিখুঁত পাস বাড়ান তিনি। গোলকিপার ও ডিফেন্সের মাঝখান দিয়ে তা অরক্ষিত দ্বিতীয় বারে এসে পৌঁছয়। ঝাঁপিয়ে পড়ে পা ছুঁইয়ে গোল করেন ইয়ামাল।

আগের ম্যাচে ইয়ামালের জায়গায় শুরু করেছিলেন ফেরান তোরেস। ভুল জায়গায় খেলানো হয়েছিল বার্সেলোনার স্ট্রাইকারকে। উইং থেকে চাপ না থাকায় লোক বাড়িয়ে লো ব্লক ডিফেন্সে বাজি মেরে দেয় কেপ ভার্দে। ইয়ামাল সৌদির ডিফেন্ডারদের টেনে আনলেন উইংয়ে। সেখান থেকে কখনও ক্রস রাখলেন, কখনও একটা-দু'টো-তিনটে ডিফেন্ডারকে কাটিয়ে ঢুকে গেলেন বক্সের মধ্যে। তাঁকে আটকাতে দু'জন ডিফেন্ডার ব্যস্ত হয়ে যাওয়ায় দ্বিতীয় বার পুরোপুরি খুলে গেল। পরের তিনটি গোল সেই জায়গা থেকেই এল।

গোলের পর উচ্ছ্বাস ওয়ারজাবাল ও ইয়ামালের। ছবি: পিটিআই

এদিন ইয়ামাল ছাড়াও প্রথম একাদশে তিনটি বদল করেন ফুয়েন্তে। আরেকটা উইংয়ে নিয়ে আসেন গতিশীল বায়েনাকে। সাইড ব্যাকে মার্কোস লরেন্তের জায়গায় খেলানো হয় পেড্রো পোরোকে। পুরনো তিকিতাকা ভুলে গতিময় পাসিং ফুটবল। এর সঙ্গে ফাবিয়ান রুইজের বদলে মাঝমাঠে দায়িত্ব দেওয়া হয় দানি ওলমোকে। তিনি ফলস নাইন, নম্বর ১০- একাধিক জায়গায় খেলতে পারেন। সেই কারণে সৌদির বক্সের জঙ্গল থেকেও দুই উইংয়ে বল ছড়িয়েছে। দ্বিতীয় গোলটি আসে ২১ মিনিটে। কর্নার থেকে জটলার মধ্যে গোল করেন মিকেল ওয়ারজাবাল। তিন মিনিটের মাথায় ফের তাঁর গোল। আগের ম্যাচে প্রথম আধঘণ্টা ওয়ারজাবালকে খুঁজেই পাওয়া যায়নি। এদিন দু'টো দিকে চাপ কম থাকায় ফাঁকা জায়গা নিতে পারছিলেন। সেভাবেই ওলমোর বাড়ানো বল থেকে দ্বিতীয়বার থেকে ফাঁকা গোলে বল ঠেলে দেন তিনি। ৩৭ মিনিটে একটা দুর্দান্ত ট্রিভেলা শট মেরেছিলেন। কিন্তু তা অল্পের জন্য বারের উপর দিয়ে চলে যায়। ইয়ামালের একটি শটও সেভ করে দেন সৌদির গোলকিপার মহম্মদ আল ওয়াইস।

প্রথমার্ধে ৩-০ গোলে এগিয়ে। ম্যাচ পকেটে। দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই আর ঝুঁকি না নিয়ে ইয়ামালকে তুলে নেন স্পেন কোচ। হ্যাটট্রিকের সুযোগ ছেড়েই মাঠ ছাড়েন ওয়ারজাবাল। তাতে স্পেনের গোলের ব্যবধান বাড়াতে অসুবিধা হয়নি। ৪৯ মিনিটে মার্ক কুকুরেয়ার হেড আটকাতে গিয়ে নিজেদের জালে জড়িয়ে দেন সৌদির ডিফেন্ডার আলতামবাক্তি। এরপর আর গোলের ব্যবধান বাড়েনি। বাড়তেই পারত। নিকো উইলিয়ামস, ইয়েরেমি পিনোরা একের পর এক আক্রমণ শানিয়েও লাভের লাভ হয়নি। ফেরান তোরেসের গোল অফসাইডের জন্য বাতিল হয়। ৪-০ গোলে জিতে ২ ম্যাচে ৪ পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপ শীর্ষে স্পেন। দ্বিতীয়ার্ধে আর বেশি গোল না হওয়ায় কিছু চিন্তা রয়েই গেল। আর সেই সঙ্গে এটাও যেন দিনের আলোর মতো স্পষ্ট, ইয়ামালের উপর কতটা নির্ভরশীল এই দলটা।

ছবি: পিটিআই

Sangbad Pratidin News App

খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ

হাইলাইটস

Highlights Heading
Advertisement