ততক্ষণে সব আশা প্রায় শেষ! ম্যাচের ৯০ মিনিটের পর যে ১০ মিনিট সংযুক্ত সময় নির্ধারণ করেছিলেন রেফারিরা, সেটাও শেষ হয়ে এসেছে। ক্রোয়েশিয়ার সমর্থকরা ততক্ষণে আশহত হয়ে স্টেডিয়াম ছাড়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। তখনই চমক। খানিকটা অপ্রত্যাশিতভাবে অনবদ্য বিল্ডআপের পর পর্তুগাল জালে বল জড়িয়ে দিলেন ক্রোয়েশিয়ার গাভার্দিওল। নিমেষে উচ্ছ্বাসে ভেঙে পড়ল গোটা ক্রোয়েশিয়া শিবির। কিন্তু হায়! পরক্ষণেই হরিষে বিষাদ। অফসাইডের জন্য বাতিল করে দেওয়া হল মদ্রিচদের গোল। ফলে পর্তুগালের জয় সুনিশ্চিত হয়ে গেল।
কিন্তু প্রশ্ন হল, আদৌ ওই গোলটি অফসাইড ছিল কি? ইতিমধ্যেই সোশাল মিডিয়ায় অনেকে প্রশ্ন তুলছেন, মদ্রিচদের সঙ্গে কি অন্যায় করা হল? আদৌ বলটি অফসাইড ছিল কি? উত্তর হল, হ্যাঁ, ওই অফসাইড নিয়ে বিতর্কের কোনও অবকাশ নেই। ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি দেখেছেন এবং নিশ্চিত করেছেন ওই বলটি জালো জড়ানোর আগেই ক্রোয়েশিয়ার তারকা পাসালিচ অফসাইড ছিলেন।
ইভান পেরিসিচ যখন প্রান্ত থেকে বক্সের দিকে ক্রসটি বাড়ালেন তখন ক্রোয়েশিয়ার কেউ অফসাইড ছিলেন না। কিন্তু মাঝপথে ক্রোট মিডফিল্ডার মাটানোভিচ ওই বলটিতে মাথা ছুঁইয়ে দেন। সমস্যা হল মাটানোভিচ যে সময় বলে মাথা ছোঁয়ালেন, ততক্ষণে পাসালিচ অফসাইড পজিশনে চলে গিয়েছেন। ওই বলটি যদি মাটানোভিচের মাথা স্পর্শ না করত, তাহলে হয়তো গোলটি বাতিল হত না। কিন্তু বলের ভিতরে যে চিপ বসানো রয়েছে, সেই চিপের সংকেত থেকে নিশ্চিত হওয়া গিয়েছে ক্রোয়েশিয়ার ওই তারকা অফসাইড ছিলেন। যার অর্থ, মদ্রিচদের সঙ্গে কোনও অন্যায় হয়নি। ওই অফসাইড দেওয়া হয়েছে নিয়ম মেনেই।
তবে শুধু ওই একটি নয়। শুক্রবার ভোরে সব মিলিয়ে অফসাইডের দৌলতে মোট ৩টি গোল বাতিল হয়েছে। যার মধ্যে একটি ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডোরও। সেই গোলটিও বাতিল হয় VAR-এর হস্তক্ষেপেই। প্রশ্ন উঠছে, ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারির অতিরিক্ত হস্তক্ষেপ কি খেলার স্বতঃস্ফূর্ততার জন্য বাধার কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে?
