আন্তর্জাতিক ফুটবলকে বিদায় জানালেন লিওনেল মেসি। ইনস্টাগ্রাম বার্তায় নীল-সাদা জার্সি তুলে রাখার কথা জানিয়েছেন আর্জেন্তিনীয় কিংবদন্তি। গত ২১ বছর ধরে আর্জেন্টিনার জার্সিতে ফুটবল বিশ্বকে মাতিয়ে রেখেছিলেন। কিন্তু আর সেই জাদু দেখা যাবে না। সে কথা ভেবে চোখে জল ফুটবলভক্তদের। কেউ কাঁদছেন, কেউ ধন্যবাদ জানাচ্ছেন। আর্জেন্টিনা দলের সতীর্থরা কৃতজ্ঞতা স্বীকার করছেন। প্রাক্তন সতীর্থ ডি মারিয়া-জাভিও বিদায়বার্তা জানিয়েছেন।
সোশাল মিডিয়ায় তিনটি হাতে লেখা কাগজ আপলোড করেছেন মেসি। সেখানেই 'বুকে কষ্ট নিয়ে' বিদায়ের কথা জানিয়েছেন। তার কমেন্টে একদা সতীর্থ অ্যাঞ্জেল ডি মারিয়া লিখেছেন, 'আর্জেন্টিনাকে বিশ্বের সেরা করার জন্য ধন্যবাদ। তুমি তো অন্য দলকেও বেছে নিতে পারতে। কিন্তু তুমি আর্জেন্টিনাকেই বেছে নিয়েছ। সব কিছুর জন্য তোমাকে ধন্যবাদ অধিনায়ক। তুমি ইতিহাসের সেরা ফুটবলার।' উল্লেখ্য, মেসি স্পেনের হয়েও ফুটবল খেলতে পারতেন। আর কোপা হোক বা বিশ্বকাপ, মেসির স্বপ্নপূরণে নেপথ্য নায়ক ছিলেন ডি মারিয়া।
মেসির সতীর্থ রড্রিগো ডি পল লিখেছেন, 'তুমি কখনও যুদ্ধ থেকে পালাওনি। তোমার নেতৃত্বের জন্য আমরা এত ভালো খেলতাম। তোমাকে শুধু ধন্যবাদ বলতে চাই। তুমি নিজেও জানো না, কত মানুষের মুখে তুমি হাসি ফুটিয়েছ। তুমি চিরকালীন।' ফিফা থেকেও ধন্যবাদ জানিয়ে লেখা হয়েছে, 'গ্রাসিয়াস'। মনখারাপ ডেভিড বেকহ্যামের। বার্সেলোনায় প্রাক্তন সতীর্থ ও পরে কোচ জাভি লিখেছেন, 'অনেক অভিনন্দন। তুমি আর্জেন্টিনার হয়ে যা যা অর্জন করতে চেয়েছিলে, তার সব করেছ। অনেক ভালোবাসা রইল তোমার জন্য।'
চোখে জল বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে থাকা কোটি কোটি মেসি-ভক্তের। তাঁরা লিখছেন, 'ফুটবল আর আগের মতো থাকবে না।' অনেকে অনুযোগের সুরে লিখেছেন, 'এটা কেন করলে লিও।' ২০০৫ সালে প্রথম আর্জেন্টিনার জার্সি গায়ে চাপান। প্রথম ম্যাচে লাল কার্ড দেখেছিলেন। সেখান থেকে ২১ বছর অবসর ঘোষণা। মেসির আন্তর্জাতিক বিদায়ে একটা যুগের পরিসমাপ্তি। বিদায় বার্তায় মেসি লিখেছেন, ‘খুব কষ্টে এই সিদ্ধান্ত নিচ্ছি। কিন্তু বুঝতে পারছি, সময়টা এসে গিয়েছে। আমি সবসময় নিজের সেরাটা দিয়েছি। আমি সবসময় এই জার্সিটার জন্য লড়াই করেছি। ফুটবলের মাধ্যমে আপনাদের আনন্দ দিতে ও আর্জেন্টাইন হিসেবে আপনাদের গর্বিত করতে চেয়েছি। সময় ফুরিয়ে আসছে। আমার আর দেওয়ার কিছু নেই। তাছাড়া কিছু অসাধারণ ফুটবলার উঠে আসছে, যারা এই দলে থাকার যোগ্য।’
