সেপ্টেম্বর-অক্টোবরে ভারতীয় ফুটবলের সামনে অপেক্ষা করছে একের পর এক কঠিন পরীক্ষা। ঘরের মাঠে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল এবং দু'বারের বিশ্বকাপজয়ী উরুগুয়ের বিরুদ্ধে প্রীতি ম্যাচ খেলবে ভারত। তার আগে এবারের বিশ্বকাপে খেলা পানামার বিরুদ্ধেও মাঠে নামবে 'ব্লু টাইগার্স'। তিন শক্তিশালী প্রতিপক্ষকে ঘিরে ইতিমধ্যেই উত্তেজনা ভারতীয় ফুটবলমহলে। ম্যাচগুলিকে ভারতীয় ফুটবলের জন্য 'স্বপ্নপূরণের মুহূর্ত' বলেই মনে করছেন জাতীয় দলের কোচ খালিদ জামিল। কী বলছেন ভারতীয় কোচ?
কেবল বড় দলের বিরুদ্ধে খেলার অভিজ্ঞতা নয়, খালিদের লক্ষ্য আগামী বছরের এশিয়ান কাপের যোগ্যতা অর্জন পর্বের জন্য দলকে তৈরি করা। সংবাদ সংস্থা পিটিআই-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, "এটা ভারতীয় ফুটবলের জন্য টার্নিং পয়েন্ট হবে। ইতিহাসে প্রথমবার আমরা ব্রাজিলের বিরুদ্ধে খেলছি। আমাদের ইতিবাচক ভাবে ভাবতে হবে। আমাদের প্রধান লক্ষ্য ২০২৭ সালের এশিয়ান কাপে যোগ্যতা অর্জন। তার আগে এমন শক্তিশালী দলের বিরুদ্ধে খেলার সুযোগ পাচ্ছি। ভারতীয় ফুটবলের জন্য এটা খুব ভালো বিষয়।"
কেবল বড় দলের বিরুদ্ধে খেলার অভিজ্ঞতা নয়, খালিদের লক্ষ্য আগামী বছরের এশিয়ান কাপের যোগ্যতা অর্জন পর্বের জন্য দলকে তৈরি করা।
তবে ব্রাজিলের মতো দলের বিরুদ্ধে নামার আগে অভিজ্ঞ কয়েকজন ফুটবলারকে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। সন্দেশ ঝিঙ্ঘান, রাহুল ভেকে, লালিয়ানজুয়ালা ছাংতে, লিস্টন কোলাসো, বিশাল কাইথ, জিকসন সিংদের দলে রাখা হয়নি। কিন্তু তাঁদের জাতীয় দলের দরজা বন্ধ হয়ে যায়নি বলেই জানিয়ে দিয়েছেন খালিদ। তাঁর কথায়, "আমি জানি, অনেক সিনিয়র ফুটবলারকে দলে না নেওয়া নিয়ে আলোচনা হচ্ছে। কিন্তু আমি তাঁদের জন্য দরজা বন্ধ করে দিচ্ছি না। অবসর নিতেও বলছি না। প্রয়োজন হলে, চোটের কারণে কাউকে কভার করতে বা ফর্মের কারণে পরিবর্তন প্রয়োজন হলে আমরা তাঁদের আবার দলে নিতে পারি।"
তবে শুধুমাত্র অতীতের অবদানের ভিত্তিতে ব্রাজিল ম্যাচে কাউকে সুযোগ দিতে রাজি নন ভারতীয় কোচ। খালিদের বক্তব্য, "আমাকে প্রত্যেককে নিজের থেকেও আগে ভারতের স্বার্থকে রাখতে হবে। ব্রাজিলের বিরুদ্ধে ম্যাচ কোনও ফুটবলারের পরিষেবার পুরস্কার হতে পারে না। এটা কোনও প্রদর্শনী ম্যাচ নয়। এটা আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচ। তাই আমাদের সেরা অবস্থায় থাকতে হবে।" ব্রাজিল, উরুগুয়ে, পানামার মতো দলের বিরুদ্ধে নামার আগে ফুটবলারদের ফিটনেস এবং আত্মবিশ্বাসের উপর বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছেন খালিদ। তিনি বলেন, "ফুটবলাররা এই ম্যাচগুলি খেলার জন্য মুখিয়ে আছে। আমরা জানি, ওরা আমাদের থেকে ভালো দল। তাই আমাদের সতর্ক থাকতে হবে। তবে প্রত্যেক ফুটবলারকে ফিট এবং আত্মবিশ্বাসী হতে হবে।"
শুধুমাত্র অতীতের অবদানের ভিত্তিতে ব্রাজিল ম্যাচে কাউকে সুযোগ দিতে রাজি নন ভারতীয় কোচ।
কী হবে ভারতের কৌশল? তা অবশ্য খোলসা করেননি খালিদ। জানিয়েছেন, পরিস্থিতি বুঝে খেলতে হবে ভারতকে। শুধু রক্ষণ আগলে থাকা নয়। আক্রমণ করে সুযোগও তৈরি করতে হবে। ভারতীয় কোচের কথায়, "প্রত্যেককে রক্ষণ এবং আক্রমণ– দুই দিকেই শক্তিশালী হতে হবে। আমাদের স্মার্ট হতে হবে। রক্ষণ জমাট করতে হবে। প্রত্যেক ফুটবলারকে দায়িত্ব নিয়ে খেলতে হবে। তবে শুধু রক্ষণাত্মক বা আক্রমণাত্মক ফুটবল নয়। পরিস্থিতি অনুযায়ী যেমন প্রয়োজন হবে, আমরা সেটাই করব।" যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে ব্রাজিল ও উরুগুয়ের মতো দুই বিশ্বচ্যাম্পিয়ন দলের মুখোমুখি হবে ভারত। সেখানে গ্যালারির সমর্থনও বড় ভূমিকা নিতে পারে বলে মনে করছেন খালিদ। "আমি মনে করি, সমর্থকরা যদি ভারতকে ১০০ শতাংশ সমর্থন করেন, তাহলে ফুটবলাররা অনুপ্রাণিত হবে এবং ভালো পারফর্ম করবে," বলেছেন তিনি। এখন 'স্বপ্নের মতো' এই ম্যাচগুলিতে ভারত কতটা নিজেদের মেলে ধরতে পারে, তার উত্তর মিলবে মাঠেই।
