মোহনবাগান ১ (রবসন) নর্থইস্ট ০
গুয়াহাটিতে শনিবার মোহনবাগানের সামনে ছিল দুই প্রতিপক্ষ। নর্থইস্ট ইউনাইটেড এবং বৃষ্টি। কেউই হারাতে পারল না সবুজ-মেরুনকে। সের্জিও লোবেরার দলের সামনে ছিল সহজ সমীকরণ। উত্তর-পূর্বের পাহাড়ি দলকে হারাতে পারলে পয়েন্ট টেবিলে শীর্ষে উঠবে মোহনবাগান। শুক্রবার এফসি গোয়ার কাছে মুম্বই সিটি এফসি হেরে যাওয়ায় সবুজ-মেরুন ব্রিগেডের সামনে সেই সুযোগ তৈরি হয়েছিল। সেই লক্ষ্যে সফল মেরিনার্সরা। তিন ঘণ্টার ম্যারাথন ফুটবলে হাইল্যান্ডার্সদের ১-০ গোলে হারিয়ে পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষে পৌঁছে গেল সবুজ-মেরুন।
গুয়াহাটির মেঘাচ্ছন্ন আকাশের মধ্যেও রুপোলি রেখার মতো চিকচিক করে উঠলেন রবসন রবিনহো। ইন্দিরা গান্ধী স্টেডিয়ামে মাত্র ৫ মিনিটে ব্রাজিলীয় স্ট্রাইকারের গোলেই এগিয়ে গেল মোহনবাগান। আক্রমণের ধার অব্যাহত রেখে বিপক্ষ ডিফেন্সকে ভেঙে দেন তিনি। ডান দিক থেকে বক্সে ঢুকে সাহালের নিখুঁত কাটব্যাক থেকে প্রথম ছোঁয়াতেই বল জালে জড়িয়ে দেন তিনি। এরপর মেরিনার্সের দাপট ছিল চোখে পড়ার মতো। মাঝমাঠে দখল রেখে একের পর এক আক্রমণ গড়ে তোলে তারা।
ম্যাচের প্রথম ২০ মিনিট পুরোপুরি দাপট দেখায় মোহনবাগান। ধারাবাহিক আক্রমণে চাপে ফেলে দেয় নর্থইস্টকে। ১০ মিনিটে সাহাল আবদুল সামাদ দূরপাল্লার শট নেন। বিপক্ষ ডিফেন্ডারের পায়ে লেগে বাইরে চলে যায় বল। ৩২ মিনিটে রবসনের সহজ সুযোগ নষ্ট। তবে সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে ম্যাচে ফিরে আসার ইঙ্গিত দেয় নর্থইস্ট ইউনাইটেডও। রক্ষণ সামলে নিয়ে তারা পালটা আক্রমণে ওঠার চেষ্টা করে। কয়েকটি সুযোগও তৈরি করে। কিন্তু শেষ মুহূর্তের ফিনিশিংয়ের অভাবে সমতা ফেরাতে পারেনি তারা। তবে ম্যাচের প্রথম কোয়ার্টারের পর গুয়াহাটিতে বৃষ্টি শুরু হয়। যার প্রভাব ম্যাচের গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে আরও বাড়ে।
বিরতিতে সবুজ-মেরুন দল ১ গোলে এগিয়ে থাকলেও দ্বিতীয়ার্ধ নির্ধারিত সময়ে শুরু করা যায়নি। দুই দলের ফুটবলার ও রেফারি মাঠে নামলেও খেলা শুরু করা সম্ভব হয়নি। কারণ, বজ্রবিদ্যুৎ-সহ প্রবল বৃষ্টিতে মাঠের বিভিন্ন অংশে জল জমে যায়। মাঠকর্মীরা জল সরানোর কাজ শুরু করলেও স্টেডিয়ামের পুরনো ও অপ্রতুল ড্রেনেজ ব্যবস্থার কারণে সেই প্রক্রিয়া ধীরগতিতে এগোয়। কর্নার ফ্ল্যাগের সামনে জমে থাকা জল পর্যন্ত ঝাঁটা দিয়ে সরাতে দেখা যায় তাঁদের। প্রায় ঘণ্টা দেড়েক খেলা বন্ধ থাকার পর অবশেষে ম্যাচ পুনরায় শুরু হয়। দেশের এক নম্বর লিগ চলছে। অনেকের মত, আধুনিক নিকাশি ব্যবস্থা থাকলে এত দীর্ঘ সময় খেলা বন্ধ রাখতে হত না। তবে ম্যাচ শুরুর ঠিক আগেই ফের শুরু হল মুষলধারে বৃষ্টি।
প্রবল বৃষ্টিতে মাঠের বিভিন্ন অংশে জল জমে যায়। মাঠকর্মীরা জল সরানোর কাজ শুরু করলেও স্টেডিয়ামের পুরনো ও অপ্রতুল ড্রেনেজ ব্যবস্থার কারণে সেই প্রক্রিয়া ধীরগতিতে এগোয়। কর্নার ফ্ল্যাগের সামনে জমে থাকা জল পর্যন্ত ঝাঁটা দিয়ে সরাতে দেখা যায় তাঁদের। প্রায় ঘণ্টা দেড়েক খেলা বন্ধ থাকার পর অবশেষে ম্যাচ পুনরায় শুরু হয়।
দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই জোড়া পরিবর্তন নিয়ে মাঠে নামে মোহনবাগান। রবসন, কামিন্সের জায়গায় নামলেন মনবীর সিং এবং দীপক টাংরি। ৪৭ মিনিটে সুযোগ তৈরি করল নর্থইস্ট। থই সিং একাধিক মোহনবাগান ডিফেন্ডারের মাঝ দিয়ে দারুণ দক্ষতায় এগিয়ে গিয়ে শট নেন। তবে তা লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। ম্যাচের বয়স তখন ৫১ মিনিট। প্রবল বৃষ্টির জেরে মাঠের পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে ওঠে। মাঠে জল জমে থাকায় বল বারবার আটকে যাচ্ছিল। ফুটবলারদেরও সমস্যা হচ্ছিল। প্রতিটি কিকেই চারদিকে জল ছিটকে উঠছিল। এর মধ্যেই ৫৫ মিনিটে নর্থইস্ট ইউনাইটেড একটি ভালো সুযোগ তৈরি করে। স্যাম্পেরিও বক্সে ঢুকে নিখুঁতভাবে বল বাড়ালেও থই সিং অনেকটাই পিছনে থাকায় সেই পাস কারও নাগালে পৌঁছননি। ফলে সম্ভাবনাময় আক্রমণটি ব্যর্থ হয়।
প্রবল বৃষ্টির জেরে ম্যাচের ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয় আবারও। ধারাভাষ্যকারদের মতে, ১-০ স্কোর লাইন অবস্থায় খেলা পরিত্যক্ত হলে বর্তমান নিয়ম অনুযায়ী ফলাফল হবে ০-০ ড্র। ম্যাচ বৈধ হওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় ৬০ মিনিটের সময়সীমা ইতিমধ্যেই অতিক্রান্ত হয়। তবে নিয়ম অনুযায়ী, যদি মোহনবাগান দুই গোলের লিড নেওয়ার পর ম্যাচ পরিত্যক্ত হয়, সেক্ষেত্রে সবুজ-মেরুন দলই পূর্ণ তিন পয়েন্ট পাবে। এদিকে, টানা বৃষ্টিতে মাঠে জল জমে যাওয়ায় বল বাগে আনতে সমস্যায় পড়েন ফুটবলাররা। ফলে দুই দলই বাধ্য হয়ে লং পাস ও ‘গগনে গগনে’ ফুটবলের উপর নির্ভর করতে বাধ্য হয়।
টানা বৃষ্টিতে মাঠে জল জমে যাওয়ায় বল বাগে আনতে সমস্যায় পড়েন ফুটবলাররা। ফলে দুই দলই বাধ্য হয়ে লং পাস ও ‘গগনে গগনে’ ফুটবলের উপর নির্ভর করতে বাধ্য হয়।
এই পরিস্থিতির মধ্যেই ৭২ মিনিটে ম্যাকলারেনের পরিবর্তে মাঠে নামেন মোহনবাগানের ডিফেন্ডার আমে রানাওয়াডে। তবে এরপর ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ অনেকটাই নর্থইস্ট ইউনাইটেডের হাতে চলে যায়। অন্যদিকে, মোহনবাগান বেশিরভাগ সময় রক্ষণ সামলাতেই ব্যস্ত। তবে সুযোগ পেলেই লিস্টন কোলাসোর মতো ফুটবলাররা সামনে উঠে আক্রমণ গড়ার চেষ্টা করেন। তবে ম্যাচের শেষলগ্নে রেফারির সিদ্ধান্ত ঘিরে তীব্র প্রতিবাদে জড়িয়ে পড়েন নর্থইস্টের কোচ জুয়ান পেদ্রো বেনালি। পরিস্থিতি এতটাই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে যে, শেষ পর্যন্ত তাঁকে লাল কার্ড দেখান রেফারি। তাতেও ক্ষান্ত হননি তিনি। মাঠের ধারে দাঁড়িয়েই তর্ক চালিয়ে যেতে থাকেন। এতে অবশ্য জয় আটকায়নি মোহনবাগানের। শেষ পর্যন্ত প্রতিকূল পরিস্থিতিকে জয় করে লিগ তালিকার শীর্ষস্থানে উঠে এল মোহনবাগান। ৯ ম্যাচে তাদের সংগ্রহ ২০ পয়েন্ট। সমান সংখ্যক ম্যাচে ১৮ পয়েন্ট নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে মুম্বই সিটি এফসি। ৯ ম্যাচে ১৬ পয়েন্ট নিয়ে তৃতীয় স্থানে এফসি গোয়া। আর ৮ ম্যাচে ১৫ পয়েন্ট নিয়ে চতুর্থ স্থানে রয়েছে ইস্টবেঙ্গল। বলাই বাহুল্য, কেবল নর্থইস্টকে নয়, আবহাওয়াকেও হারিয়ে পাহাড় থেকে টাটকা অক্সিজেন নিয়ে কলকাতা ফিরবেন লোবেরা-ব্রিগেড।
