shono
Advertisement
Mohun Bagan

জেমির হ্যাটট্রিকে ওড়িশাকে উড়িয়ে চারে চার, আইএসএলে ছুটছে মোহনবাগানের জয়রথ

অপ্রতিরোধ্য। দুর্বার। অদম্য। শব্দগুলি মোহনবাগানের পরাক্রম বোঝানোর জন্য যথেষ্ট নয়। ম্যাকলারেন, পেত্রাতোসদের দাপট এক শব্দে বোঝানোর মতো শব্দ হয়তো অভিধানে নেই। আক্ষরিক অর্থে 'বুলডোজিং পারফরম্যান্স' করে আইএসএলে ছুটছে মোহনবাগানের জয়রথ। 
Published By: Prasenjit DuttaPosted: 06:59 PM Mar 06, 2026Updated: 09:48 PM Mar 06, 2026

মোহনবাগান ৫ (ম্যাকলারেন ৪, আলবার্তো‌ ১)
ওড়িশা ১ (রহিম আলি) 

Advertisement

অপ্রতিরোধ্য। দুর্বার। অদম্য। শব্দগুলি মোহনবাগানের (Mohun Bagan) পরাক্রম বোঝানোর জন্য যথেষ্ট নয়। ম্যাকলারেন, পেত্রাতোসদের দাপট এক শব্দে বোঝানোর মতো শব্দ হয়তো অভিধানে নেই। এক কথায়, ওড়িশা এফসি'কে ৫-১ গোলে উড়িয়ে আইসিএলে চারে চার করল সবুজ-মেরুন। একাই চার গোল জেমি ম্যাকলারেনের। 'বুলডোজিং পারফরম্যান্স' করে আইএসএলে ছুটছে মোহনবাগানের জয়রথ। 

গতবার এই ওড়িশারই কোচ ছিলেন লোবেরা। স্বাভাবিকভাবেই পুরনো দলের বিরুদ্ধে কোনও রকম ঝুঁকি নিতে চাননি মোহনবাগান কোচ সের্জিও লোবেরা। তবে খাতায়কলমে এই ওড়িশা বেশ দুর্বল। তার উপর আইসিএলে সবথেকে শেষে প্রস্তুতি শুরু করেছিল তারা। মোহনবাগানে যেখানে জেমি ম্যাকলারেন, জেসন কামিংস, দিমিত্রি পেত্রাতোসদের মতো বিদেশিরা রয়েছেন, সেখানে ওড়িশা এফসি'তে একমাত্র বিদেশি কার্লোস দেলগাডো। তাদের বিরুদ্ধে যা হওয়ার তাই হল। শক্তিশালী মোহনবাগানের বিরুদ্ধে একেবারেই কল্কে পেল না টিজি পুরুশোথামানের দল।

শুক্রবার শুরু থেকেই আগ্রাসী মেজাজে ছিলেন সবুজ-মেরুন ফুটবলাররা। ১৪ মিনিটে মোহনবাগানকে এগিয়ে দেন ম্যাকলারেন। এক্ষেত্রে ত্রিমুখী আক্রমণ দেখা গেল। বক্সের ঠিক বাইরে থেকে ওড়িশা ডিফেন্ডারদের ধাঁধাঁ দিয়ে ব্যাক হিল করেন দিমিত্রি। বল চলে যায় বাঁ-দিকে থাকা 'ক্যাপ্টেন' বোসের কাছে। তাঁর ঠিকানালেখা ক্রস থেকে জাল কাঁপানো হেডে গোল করেন ম্যাকলারেন। ২৩ মিনিটে ফের গোল অজি তারকার। ডানদিক থেকে লিস্টন পাস বাড়ান জেমির দিকে। বল বিপক্ষের জালে জড়াতে ভুল করেননি।

৪২ মিনিটে দূরপাল্লার গড়ানো শটে দৃষ্টিনন্দন গোল করে গেলেন আলবার্তো রডরিগেজ। তবে এর পরের মিনিটেই খেলার গতির বিরুদ্ধে গিয়ে ওড়িশার হয়ে ব্যবধান কমান রহিম আলি। প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে (৪৫+২) হ্যাটট্রিক সম্পন্ন করেন জেমি ম্যাকলারেন। ভারতে আসার পর এটাই ম্যাকলারেনের প্রথম হ্যাটট্রিক। বিরতির পর ছবিটা বদলায়নি। আগ্রাসী ফুটবল থেকে সরে আসেনি মোহনবাগান। একাধিক সুযোগ পেলেও কিছুতেই গোল হচ্ছিল না। ৮৮ মিনিটে 'পড়ে পাওয়া চোদ্দ আনা'র মতো সুযোগ পেয়ে গিয়েছিলেন ওড়িশার রহিম আলি। এর ঠিক পরেই প্রায় একই ধরনের সুযোগ পান ম্যাকলারেন। দুর্দান্ত ফিনিশে নিজের চতুর্থ গোল করেন বাগান তারকা। এই মরশুমে ৭টা গোল করে আইএসএলে সর্বোচ্চ গোলদাতার তালিকায় শীর্ষে রইলেন অজি তারকা। সব মিলিয়ে ওড়িশাকে ৫-১ গোলে হারিয়ে চার ম্যাচে ১২ পয়েন্ট নিয়ে লিগ টেবিলের শীর্ষে রইল মোহনবাগান। উল্লেখ্য, এর আগের ম্যাচে মহামেডানকে ৫-১ গোলে উড়িয়ে দিয়েছিলেন লোবেরার ছেলেরা। 

তবে এই ম্যাচের আগে ফেডারেশনের সিদ্ধান্ত নিয়ে কম জলঘোলা হয়নি। কেরালার বিরুদ্ধে ম্যাচে দর্শকদের ‘নিয়মবিরুদ্ধ আচরণে’র অভিযোগে আসন্ন ওড়িশা এফসি ম্যাচটি ‘রুদ্ধদ্বার’ করার নির্দেশ দেয় এআইএফএফ। যার তীব্র প্রতিবাদ করে ম্যানেজমেন্ট। এর সঙ্গে ম্যাচ না দেখতে যাওয়ার কথা জানান, ক্লাব সচিব সৃঞ্জয় বোস। সমর্থকদের প্রতিবাদ ও ক্লাবকর্তাদের প্রবল চাপের সামনে পিছু হটে ফেডারেশন। পুরো স্টেডিয়াম খোলা না হলেও, আংশিকভাবে মাঠে দর্শক প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়। এরপর সঞ্জীব গোয়েঙ্কার ঘোষণা, ওড়িশা ম্যাচে সমর্থকরা দু’টি করে টিকিট বিনামূল্যে পাবেন। যা সমর্থকদের আরও বেশি উদ্বুদ্ধ করে। তার বহিঃপ্রকাশ দেখা যায় মোহনবাগান-ওড়িশা ম্যাচে। শুক্র-সন্ধ্যায় আংশিক খোলা যুবভারতীর গ্যালারিতে খেলা দেখলেন প্রায় ২০ হাজার সবুজ-মেরুন সমর্থক। গোটা স্টেডিয়ামে তাঁরা ছড়িয়ে-ছিটিয়ে ছিলেন। গ্যালারির নির্দিষ্ট কোনও অংশ বন্ধ রাখা হয়নি। উপস্থিত ছিলেন মোহনবাগান সচিব সৃঞ্জয় বোস, সভাপতি দেবাশিস দত্ত, চেয়ারম্যান সঞ্জীব গোয়েঙ্কাও। ওড়িশার বিরুদ্ধে দলের বড় জয় দেখে সমর্থকদের মতো উচ্ছ্বসিত কর্তারাও।

Sangbad Pratidin News App

খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ

হাইলাইটস

Highlights Heading
Advertisement