প্রায় বছর দশেক আগের কথা। তখন নেদারল্যান্ডসের ক্লাব আয়াক্সের হয়ে খেলতেন তরুণ প্রতিভাবান ফুটবলার আদবেলহাক নৌরি। কিন্তু মাঠের মধ্যে এক দুর্ঘটনার পর এখন তাঁর মস্তিষ্ক সম্পূর্ণ অসার। সেদিন প্রিয় বন্ধুকে বাঁচাতে পারেননি মরক্কোর ফুটবলার ইসমায়েল সাইবারি। এবার একই ঘটনা ঘটতে পারত জার্মানির ফুটবল তারকা জামাল মুসিয়ালার সঙ্গে। কিন্তু তাঁকে প্রাণে বাঁচিয়ে দিলেন সাইবারি। কার্যত মৃত্যুমুখ থেকে ফিরে এলেন মুসিয়ালা।
বিশ্বকাপের পর সামনেই নতুন মরশুম শুরু হবে। তার আগে প্রস্তুতি ম্যাচ খেলছে সব দল। জার্মানির বায়ার্ন মিউনিখের ম্যাচ ছিল আরবি লাইপজিগের বিরুদ্ধে। প্রায় ৩৩ ডিগ্রি গরমে ম্যাচ চলছিল। ম্যাচের মাঝেই দেখা যায়, আচমকা অসুস্থ বোধ করছেন মুসিয়ালা। হঠাৎ তাঁর মাথা ঘুরে যায়। মাটিতে পড়েও যেতে পারতেন। আর ওই অবস্থায় মাথায় চোট লাগলে বড় কোনও বিপদ ঘটতে পারত। মুসিয়ালার এই অবস্থা দেখে সবার আগে দৌড়ে আসেন সাইবারি। মাটিতে পড়ার হাত থেকে মুসিয়ালাকে বাঁচান। ফলে কোনও বড়সড় বিপদ হয়নি।
হয়তো ওই সময় সাইবারির মাথায় আসে বন্ধু নৌরির কথা। ২০১৭ সালের কথা। ডাচ ফুটবলার নৌরি খেলতেন আয়াক্সে। এরকমই এক প্রস্তুতি ম্যাচে তখনকার ২০ বছর বয়সি ফুটবলার মাথা ঘুরিয়ে মাটিতে পড়ে যান। মাথায় সরাসরি আঘাত লাগায় কোমায় চলে যান। একবছর পর জ্ঞান ফিরলেও মস্তিষ্ক অসার হয়ে যায়। এখন শুধু চোখের ইশারায় কথা বলতে পারেন।
এই নৌরির বন্ধু ছিলেন সাইবারি। তখন তিনি অন্য ক্লাবে খেলতেন। ফলে সেদিন বন্ধুকে বাঁচাতে পারেননি। কিন্তু বন্ধুত্ব কোনও দিন ভোলেননি। তাই বিশ্বকাপ মাতানোর পর যখন বায়ার্নে ডাক পান, তখন ৩৪ নম্বর জার্সি বেছে নেন। কারণ নৌরি ৩৪ নম্বর জার্সি পরেই খেলতেন। আর আশ্চর্যের বিষয়, বায়ার্নের হয়ে প্রথম ম্যাচেই সেই ভয়ঙ্কর স্মৃতি ফিরে এল। তবে এ যাত্রায় মুসিয়ালাকে বাঁচিয়ে দিলেন সাইবারি। উল্লেখ্য, বিশ্বকাপে ৩ গোল করে মরক্কোর নায়ক ছিলেন সাইবারি।
