আর্জেন্টিনার জার্সিতে আর খেলবেন না লিওনেল মেসি। নীল-সাদা জার্সি তুলে রাখলেন কিংবদন্তি ফুটবলার। বিশ্বকাপ ফাইনালে হার, তারপর বাবার মৃত্যু- দুইয়ের ধাক্কায় সম্ভবত কঠিন সিদ্ধান্ত নিলেন এলএম১০। বিশ্বজুড়ে মেসি-ভক্তদের মনখারাপ। এবার মুখ খুললেন মেসির স্ত্রী আন্তোনেল্লা রোকুজ্জো। স্বামীর জন্য গর্বিত তিনি। পাশাপাশি ছেলেকে নিয়ে বলতে গিয়ে মেসির মা ফিরিয়ে আনলেন প্রয়াত বাবার কথা।
কান্না কিংবা স্মৃতিচারণ নয়, মেসির স্ত্রীর ইনস্টাগ্রাম পোস্টে শুধুই আনন্দের মুহূর্ত। জাতীয় দলের সঙ্গে মেসির সাফল্য, বিশ্বকাপ জয়, তিন সন্তানের সঙ্গে অসংখ্য মুহূর্তের ছবি পোস্ট করেছেন। সঙ্গে আবেগঘন বার্তায় লিখেছেন, 'এভাবে এই অধ্যায় শেষ হচ্ছে বলে, কী যে গর্ব হচ্ছে। আমি তোমাকে কষ্ট পেতে দেখেছি, ব্যর্থ হতে দেখেছি, আবার উঠেও দাঁড়িয়েছ। আমি দেখেছি যখন কোনও কিছু তোমার পক্ষে ছিল না, তখনও তুমি হাল ছাড়োনি। সবসময় ফিরে আসার চেষ্টা করেছ। আমি ভাগ্যবতী যে, বহু বছর পর তোমার স্বপ্নগুলো পূরণ হতে দেখেছি।'
মেসির তিন সন্তান থিয়াগো, সিরো ও মাতেও-র কথা উল্লেখ করে আন্তোনেল্লা লিখেছেন, 'আমাদের সন্তানরা এগুলো দেখে বড় হচ্ছে। তারা দেখেছে, তাদের বাবা কখনও হাল ছাড়েনি। শেষ পর্যন্ত বিশ্বকাপ জিতেছে। হয়তো একদিন তারা বুঝতে পারবে, এই গল্প কতটা বড়। তাদের বাবা কীভাবে সবাইকে গর্বিত করেছে। আমিও তোমাকে নিয়ে গর্বিত। তোমার সঙ্গে পথ চলতে পারা আমার কাছে সৌভাগ্যের। তোমাকে খুব খুব খুব ভালোবাসি।'
অন্যদিকে মেসির মা সেলিয়া কুকিত্তিনিও আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েছেন। তাঁর কথায় ফিরে এসেছে মেসির প্রয়াত বাবা হোর্হের কথা। সেলিয়া বলেছেন, 'আমরা সবই জানতাম তুমি অবসর নিচ্ছ। তবু এখনও কেঁদে চলেছি। আমাদের মনখারাপ। তবে আসল কথাটা হল, ও খুশি। তোমার বাবা সবসময় বলত, 'যখন ও খেলবে না, তখন আমি কী করব?' আর সত্যি, সব কিছু একসঙ্গে ঘটে গেল।' উল্লেখ্য, ৭ আগস্ট প্রয়াত হন হোর্হে। তারপর আবেগপ্রবণ হয়ে লিও পোস্ট করেছিলেন, ‘তুমি থাকতে পারলে না। চেয়েছিলাম বিশ্বকাপ জিতে তোমার কাছে যেতে। নতুন ট্রফি দেখাতে চেয়েছিলাম। পারিনি। আমার পা আর চলছিল না। শারীরিক অবস্থার বিরুদ্ধে যাওয়ার চেষ্টা করেছিলাম। পারিনি।’
