একঝাঁক বাঙালি তারকা নিয়ে ৩ জুন থেকে কলকাতা লিগের জন্য প্রস্তুতি শুরু করতে চলেছে মোহনবাগান। অনুশীলন শুরু হবে বিকেল সাড়ে ৪টায় মোহনবাগান মাঠে। জানিয়ে দিয়েছে ম্যানেজমেন্ট। সবচেয়ে বড় চমক, নতুন মরশুমে মোহনবাগানের হয়েই খেলবেন গত মরশুমে ইস্টবেঙ্গলের হয়ে খেলা সায়ন বন্দ্যোপাধ্যায়। পাশাপাশি ডুরান্ড কাপ নিয়েও বিশেষ অনুরোধ করেছে মেরিনার্সরা।
ঘরোয়া লিগের জন্য দায়িত্ব তুলে দেওয়া হয়েছে সিনিয়র দলের সহকারী কোচ বাস্তব রায়ের হাতে। কলকাতা লিগে তিনি হেডকোচের দায়িত্ব পালন করবেন। তাঁর সহকারী হিসাবে থাকছেন নীলাঞ্জন গুহ। গোলরক্ষক কোচ হিসাবে অভিজ্ঞ অভ্র মণ্ডল নিজের দায়িত্বে বহাল থাকছেন। উল্লেখ্য, গত মরশুমের শেষদিকে সিনিয়র ও জুনিয়র, দুই দলকেই সামলানোর অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর।
বুধবার থেকে অনুশীলন শুরু হলেও ফুটবলাররা ধাপে ধাপে শিবিরে যোগ দেবেন বলে জানা গিয়েছে। এবারের ঘরোয়া লিগে সিনিয়র দলের রিজার্ভ বেঞ্চের ফুটবলারদের পাশাপাশি জুনিয়র দলের একাধিক প্রতিভাবান খেলোয়াড়কে সবুজ-মেরুন জার্সিতে দেখা যাবে। পাশাপাশি অন্য দল থেকে আসা কয়েকজন সফল ফুটবলারও দলে যোগ দেবেন।
বাস্তব রায়। যাঁর কোচিংয়ে কলকাতা লিগের অনুশীলন শুরু করবে মোহনবাগান। ফাইল ছবি।
গত মরশুমে ভালো পারফরম্যান্স করা ১৬ জন তরুণ ফুটবলারকে এবারও রাখা হয়েছে দলে। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন প্রিয়াংশ দুবে, দীপ্রভাত ঘোষ, টংসিং, মিংমা শেরপা, করণ রাই, সাহিল ইনামদার ও সুবল টুডু। ভবিষ্যতের কথা ভেবে অনূর্ধ্ব-১৬ দল থেকে রাজদীপ পালকে নেওয়া হয়েছে। দলের শক্তি বাড়াতে সিনিয়র দলের রিজার্ভ বেঞ্চ থেকে দীপেন্দু বিশ্বাস, সুহেল ভাট, অভিষেক সূর্যবংশী, কিয়ান নাসিরি ও উমের মুথারের মতো ফুটবলারদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। বিবৃতিতে আরও লেখা হয়েছে, 'অন্য ক্লাব থেকে এসে সবুজ-মেরুন জার্সি গায়ে খেলার জন্য চুক্তিবদ্ধ হয়েছেন রাজ বাসফোর, সায়ন বন্দ্যোপাধ্যায় এবং তন্ময় ঘোষের মতো সফল ফুটবলাররা।' এর পর থেকেই সায়নকে ঘিরে জল্পনা বেড়েছে। যদিও তাঁর যোগদান নিয়ে মোহনবাগান এখনও পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানায়নি। তবে এই বিবৃতি প্রকাশ্যে আসার পর অনেকেরই ধারণা, কলকাতা লিগেই মোহনবাগানের জার্সিতে সায়নকে দেখা যেতে পারে।
১৫ জুলাই থেকে শুরু হবে এশিয়ার প্রাচীনতম ফুটবল টুর্নামেন্ট ডুরান্ড কাপ। শতাব্দীপ্রাচীন এই টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণের ব্যাপারেও ইতিমধ্যেই সম্মতি জানিয়েছে মোহনবাগান। প্রতিযোগিতায় বিদেশি ফুটবলারের সংখ্যা কমানোর আবেদনও জানানো হয়েছে ক্লাবের পক্ষ থেকে, যাতে ভারতীয় ফুটবলাররা আরও বেশি সুযোগ পান। গতবারের মতো এবারও ভারতীয় ফুটবলারদের উন্নয়নের লক্ষ্যে নিজেদের অবস্থানে অটল রয়েছে সবুজ-মেরুন শিবির।
