২০৩০ সালের ফুটবল বিশ্বকাপের (FIFA World Cup 2030) আয়োজক ছ'টি দেশ। আর্জেন্টিনা, উরুগুয়ে, প্যারাগুয়ে, স্পেন, পর্তুগাল এবং মরক্কো। শতবর্ষ উপলক্ষে তিন মহাদেশে বিশ্বকাপ আয়োজনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে ফিফা। তবে টুর্নামেন্ট শুরুর চার বছর আগেই লড়াই শুরু হয়েছে ফাইনাল ম্যাচের ভেন্যু নিয়ে।
ফিফার পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রথম বিশ্বকাপের স্মৃতি ফিরিয়ে আনতে উদ্বোধনী তিনটি ম্যাচ হবে আর্জেন্টিনা, উরুগুয়ে ও প্যারাগুয়েতে। এরপর পুরো প্রতিযোগিতা হবে স্পেন, পর্তুগাল এবং মরক্কোয়। ফলে ফাইনাল আয়োজনের লড়াইয়ে রয়েছে এই তিন দেশই। যদিও পরিকাঠামো ও সাম্প্রতিক সাফল্যের নিরিখে স্পেন ও মরক্কোই এগিয়ে। স্পেনের দাবি, তাদের কাছে বিশ্বমানের স্টেডিয়াম রয়েছে। একই সঙ্গে তারা ফুটবল ঐতিহ্য সমৃদ্ধ দেশ। তাছাড়া বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হওয়ার সুবাদে ফাইনাল তাদেরই প্রাপ্য। অন্যদিকে মরক্কোর যুক্তি, ২০১০ সালের পর আফ্রিকায় আর বিশ্বকাপ হয়নি। তাই ফিফার চক্র মেনে চললে আগামী বিশ্বকাপের ফাইনাল আফ্রিকাতেই হওয়া উচিত।
স্পেনের অন্যতম ভরসা নবরূপে সজ্জিত সান্তিয়াগো বের্নাবিউ। ১৯৮২ সালের বিশ্বকাপ ফাইনালও হয়েছিল এই মাঠে। পাশাপাশি নতুন ন্যু ক্যাম্পও বিশ্বমানের পরিকাঠামো নিয়ে প্রস্তুত। অন্যদিকে মরক্কো তৈরি করছে অত্যাধুনিক হাসান-২ গ্র্যান্ড স্টেডিয়াম। যেখানে প্রায় ১ লক্ষ ১৫ হাজার দর্শক বসতে পারবেন। মরক্কোর দাবি, সেটিই বিশ্বের সবচেয়ে বড় ফুটবল স্টেডিয়াম। মরক্কোর নগরায়ণ দফতরের ডিরেক্টর জেনারেল সুসি ইয়াসির বলেছেন, "ফাইনাল আমাদের চাই। বের্নাবিউয়ের কথা আমরাও জানি। সংস্কার হলেও ওটা পুরনো। আমাদের হাসান-২ একদম নতুন। ফিফার প্রতিটি শর্ত পূরণ করে অত্যাধুনিক ভাবে তৈরি করা হচ্ছে। ফাইনাল তো সবচেয়ে আধুনিক স্টেডিয়ামেই হওয়া উচিত।"
স্পেনের ফুটবল সংস্থার সভাপতি রাফায়েল লুজান অবশ্য আত্মবিশ্বাসী। তাঁর কথায়, "আমরা অনেক কিছু শুনছি। মনে রাখতে হবে, আয়োজকদের মধ্যে আমরাই বিশ্বকাপের সফলতম দেশ। আমাদের ধারেকাছেও কেউ নেই। আমাদের ফুটবল এবং পরিকাঠামো নিয়ে প্রশ্ন তোলার জায়গা নেই। এর পরও ২০৩০-এর ফাইনালের দায়িত্ব না পেলে কিছু বলার নেই। আমরা চেষ্টার কোনও ক্রুটি রাখছি না।" এখনও পর্যন্ত ফাইনালের ভেন্যু চূড়ান্ত করেনি ফিফা। ২০২৬ বিশ্বকাপের ফাইনালের মাঠ যেমন অনেক পরে ঘোষণা করা হয়েছিল, তেমনই ২০৩০ সালের ক্ষেত্রেও 'ধীরে চলো' নীতি নিয়েছে বিশ্ব ফুটবলের নিয়ামল সংস্থা। হাসান-২ স্টেডিয়ামের নির্মাণকাজ সময়মতো শেষ হলে মরক্কোর সম্ভাবনা বাড়বে। আর কাজ পিছিয়ে গেলে সুবিধা পেতে পারে মাদ্রিদের স্টেডিয়াম।
