shono
Advertisement
Brad Pitt

হাসির আড়ালে লুকিয়ে রেখেছেন মানসিক চাপ, নেশা ছাড়ার যন্ত্রণা? কখন বুঝবেন সাহায্য দরকার

মানসিক বিপর্যয় সবসময় বাইরে থেকে বোঝা যায় না। একজন মানুষ সফল, হাসিখুশি বা আত্মবিশ্বাসী হলেও ভিতরে ভিতরে প্রবল মানসিক যন্ত্রণার মধ্যে থাকতে পারেন।
Published By: Pritimoy Roy BurmanPosted: 05:01 PM Aug 11, 2026Updated: 08:36 PM Aug 11, 2026

বাইরে থেকে তিনি হলিউডের অন্যতম সফল অভিনেতা। কিন্তু সাফল্যের আড়ালেও যে গভীর অন্ধকার থাকতে পারে, নিজের জীবনের কথা বলতে গিয়ে সেটিই সামনে আনলেন ব্র্যাড পিট (Brad Pitt)। মানসিক যন্ত্রণা, পারিবারিক টানাপোড়েন এবং মদ্যপানের সঙ্গে লড়াইয়ের এক কঠিন অধ্যায়ের কথা প্রকাশ্যে জানালেন ৬২ বছরের অস্কারজয়ী অভিনেতা।

Advertisement

ব্র্যাড পিট। ছবি: সংগৃহীত

এক সাক্ষাৎকারে পিট বলেন, গত এক দশকে এমন একটি সময় এসেছিল, যখন মানসিক কষ্ট এতটাই তীব্র হয়ে উঠেছিল যে, তিনি আর কোনও পথ দেখতে পাচ্ছিলেন না। যদিও নিজেকে কখনও আত্মহত্যাপ্রবণ মানুষ বলে মনে করেননি, সেই বিশেষ সময়ে মৃত্যুকে যন্ত্রণা থেকে মুক্তির পথ বলে মনে হয়েছিল তাঁর। তবে শেষ পর্যন্ত তাঁকে টেনে রেখেছিল বেঁচে থাকার ইচ্ছা।

‘ব্যথাটা অসহনীয় হয়ে উঠেছিল’
পিট জানিয়েছেন, জীবনে একবারই এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছিলেন তিনি। সাধারণত আত্মহত্যার চিন্তা তাঁর মনে আসেনি। কিন্তু সেই সময় মানসিক যন্ত্রণা এতটাই প্রবল হয়ে উঠেছিল যে, মৃত্যুকে মুক্তি বলে মনে হওয়ার কারণ তিনি বুঝতে পারছিলেন।

এই অভিজ্ঞতা গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয় সামনে আনে। মানসিক বিপর্যয় সবসময় বাইরে থেকে বোঝা যায় না। একজন মানুষ সফল, হাসিখুশি বা আত্মবিশ্বাসী হলেও ভিতরে ভিতরে প্রবল মানসিক যন্ত্রণার মধ্যে থাকতে পারেন।

সিনেমার দৃশ্যে। ছবি: সংগৃহীত

পারিবারিক টানাপোড়েনের প্রভাব
নিজের মানসিক স্বাস্থ্যের অবনতির প্রসঙ্গে পিট ‘পারিবারিক বিষয়’-এর কথাও বলেছেন। তাঁর কথায় স্পষ্ট, জীবনের ব্যক্তিগত টানাপোড়েন তাঁর উপর গভীর প্রভাব ফেলেছিল। দীর্ঘদিনের পারিবারিক সমস্যা বা সম্পর্কের সংঘাত মানসিক চাপ বাড়াতে পারে। তার প্রভাব পড়তে পারে ঘুম, মেজাজ, মনোযোগ এবং সামগ্রিক শারীরিক স্বাস্থ্যের উপরও। সমস্যা দীর্ঘস্থায়ী হলে তা একা সামলানোর চেষ্টা না করে বিশেষজ্ঞের সাহায্য নেওয়া জরুরি।

সাত বছর মদ ছেড়ে থেকেও ফের শুরু
শুধু মানসিক স্বাস্থ্যের সমস্যাই নয়, মদ্যপানের সঙ্গেও তাঁর লড়াইয়ের কথা জানিয়েছেন পিট। সাত বছর মদ থেকে দূরে থাকার পর একসময় তিনি আবার মদ্যপান শুরু করেন। তবে এই অভিজ্ঞতা তাঁকে নিজের আচরণ সম্পর্কে আরও সচেতন করেছে বলে জানিয়েছেন তিনি। এখন তিনি বুঝতে পারেন, কখন মদ্যপান তাঁর জন্য ক্ষতিকর হয়ে উঠছে।

আসক্তি থেকে বেরিয়ে আসার পথ সবসময় একরকম হয় না। দীর্ঘদিন মদ ছেড়ে থাকার পর ফের মদ্যপানে ফিরে যাওয়া মানেই আগের সমস্ত চেষ্টা ব্যর্থ হয়ে যাওয়া নয়। বরং অনেক সময় এটি নতুন করে সহায়তা, চিকিৎসা বা কাউন্সেলিংয়ের প্রয়োজনের ইঙ্গিত হতে পারে।

ব্র্যাড পিট। ছবি: সংগৃহীত

সাহায্য নেওয়াই ঘুরে দাঁড়ানোর পথ
এর আগে মদ ছাড়ার ক্ষেত্রে ‘অ্যালকোহলিকস অ্যানোনিমাস’-এর সাহায্যের কথা জানিয়েছিলেন পিট। কঠিন সময়ে কাছের মানুষদের সমর্থনও তাঁর জন্য গুরুত্বপূর্ণ ছিল। তাঁর অভিজ্ঞতা থেকে একটি বার্তা স্পষ্ট, মানসিক যন্ত্রণা বা আসক্তির সঙ্গে লড়াই করার সময় সাহায্য চাওয়া দুর্বলতার পরিচয় নয়। বরং সেটিই ঘুরে দাঁড়ানোর প্রথম ধাপ হতে পারে।

কারও যদি দীর্ঘদিন ধরে অসহায় লাগে, মানসিক যন্ত্রণা অসহনীয় হয়ে ওঠে, আত্মহত্যার চিন্তা আসে বা মদ্যপান নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়, তা হলে বিষয়টি হালকা ভাবে নেওয়া উচিত নয়। দ্রুত মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞের সাহায্য নেওয়া প্রয়োজন। তাৎক্ষণিক বিপদের আশঙ্কা থাকলে জরুরি চিকিৎসা সহায়তা নেওয়াও জরুরি।

ব্র্যাড পিটের স্বীকারোক্তি তাই শুধু এক তারকার ব্যক্তিগত জীবনের গল্প নয়। এটি মনে করিয়ে দেয়, মানসিক কষ্টের কোনও বাহ্যিক চেহারা নেই। আর সুস্থ হয়ে ওঠার পথেও সবসময় সবকিছু নিখুঁত ভাবে এগোয় না। কখনও ফিরে আসতে হয়, আবার সাহায্য নিতে হয়, আবার শুরু করতে হয়।

Sangbad Pratidin News App

খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ

হাইলাইটস

Highlights Heading
Advertisement