রসগোল্লা হোক বা চকোলেট কিংবা আইসক্রিম। দেখে লোভ সামলানো কঠিন। অনেকেই নিত্যদিনের খাদ্যতালিকায় প্রচুর মিষ্টি রাখেন। চিকিৎসকেদের মতে, এই অতি মিষ্টিপ্রীতি কেবল ডায়াবেটিস বা মেদবৃদ্ধির কারণ নয়। অতিরিক্ত চিনি খাওয়ার অভ্যাস মাথা ফাঁকা হয়ে যাওয়ার অন্যতম প্রধান অনুঘটকও বটে। কী অবাক হচ্ছেন?
ফাইল ছবি
বিজ্ঞানীদের দাবি, চিনি বা প্রসেসড সুগারের সঙ্গে চুলের স্বাস্থ্যের সরাসরি যোগ রয়েছে। অতিরিক্ত গ্লুকোজ শরীরের প্রোটিনের ক্ষতি করে। ফলে চুলের মূল উপাদান কেরাটিন দুর্বল হয়ে পড়ে। চিকিৎসা বিজ্ঞানে একে বলা হয় ‘গ্লাইকেশন’ প্রক্রিয়া। এই প্রক্রিয়ায় কেরাটিন তার নমনীয়তা হারায়। ফলে চুল সহজে ভেঙে যায় এবং অকালে ঝরতে শুরু করে।
শুধু কেরাটিন নষ্ট নয়, অতিরিক্ত চিনি শরীরে ‘ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স’ তৈরি করে। এর ফলে মানবদেহে ‘ডাইহাইড্রোটোস্টোস্টেরন’ বা ডিএইচটি (DHT) নামক হরমোনের প্রভাব বাড়ে। এই হরমোন চুলের ফোলিকল বা লোমকূপ সংকুচিত করে দেয়। ধীরে ধীরে চুল পাতলা হতে শুরু করে। শেষ পর্যন্ত মাথায় স্থায়ী টাক বা অ্যান্ড্রোজেনেটিক অ্যালোপেসিয়া দেখা দেয়।
ফাইল ছবি
স্ক্যাল্পের রক্ত সঞ্চালনেও প্রভাব ফেলে মিষ্টি খাবার। রক্তে শর্করার মাত্রা বাড়লে রক্তনালী সঙ্কুচিত হয়। স্ক্যাল্পে প্রচ্ছন্ন প্রদাহ সৃষ্টি হয়। ফলে চুলের গোড়ায় পর্যাপ্ত অক্সিজেন পৌঁছায় না। পুষ্টির অভাবে চুল অকালে ঝরে পড়ে।
অতিরিক্ত চিনি স্ক্যাল্পে ফাঙ্গাসের অনুকূল পরিবেশ তৈরি করে। মিষ্টি খেলে ত্বকে সেবামের মাত্রা বাড়ে। এটি ‘ম্যালাসেসিয়া’ নামক ফাঙ্গাসের বংশবৃদ্ধি ঘটায়। এর ফলে তীব্র খুশকি ও সেবোরিক ডার্মাটাইটিস শুরু হয়। এটি চুল পড়ার গতি দ্বিগুণ বাড়িয়ে দেয়।
ফাইল ছবি
কী করবেন?
চুল বাঁচাতে খাদ্যাভ্যাসে পরিবর্তন জরুরি। রিফাইন্ড সুগার, কোল্ড ড্রিন্কস ও ফাস্টফুড বর্জন করুন। চিনির বদলে সীমিত গুড়, মধু বা তাজা ফল খান। খাদ্যতালিকায় প্রোটিন, অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট এবং ভিটামিন সি যুক্ত খাবার রাখুন। চুলের স্বাস্থ্য ধরে রাখতে চিনি নিয়ন্ত্রণের বিকল্প নেই।
