অ্যাসিডিটি, বুকজ্বালা বা বদহজম— পরিচিত এই সমস্যাগুলিকে অনেকেই গুরুত্ব দেন না। অথচ দীর্ঘদিন ধরে একই সমস্যা চলতে থাকলে তার নেপথ্যে থাকতে পারে লিভার বা পরিপাকতন্ত্রের গুরুতর অসুখ। তাই আগেভাগে রোগ নির্ণয় ও সচেতনতার বার্তা নিয়ে বিশেষ গ্যাস্ট্রো স্বাস্থ্য শিবির আয়োজন করল শিলিগুড়ির ডিসান হসপিটাল।
স্বাস্থ্য শিবিরে ফ্যাটি লিভার, ক্রনিক লিভার ডিজিজ, হেপাটাইটিস, অ্যাসিডিটি ও জিইআরডি, পেপটিক আলসার, গলস্টোন, ইরিটেবল বাওয়েল সিনড্রোম বা আইবিএস, কোষ্ঠকাঠিন্য এবং ইনফ্ল্যামেটরি বাওয়েল ডিজিজ-সহ বিভিন্ন রোগ নিয়ে আলোচনা করা হয়। দীর্ঘদিন ধরে বা বারবার হজমের সমস্যা হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া এবং প্রয়োজন অনুযায়ী পরীক্ষা করানোর উপর জোর দেন বিশেষজ্ঞরা।
বিশেষভাবে উঠে আসে ফ্যাটি লিভারের প্রসঙ্গ। বর্তমানে এই সমস্যা ক্রমশ বাড়ছে এবং দীর্ঘদিন কোনও উপসর্গ ছাড়াই থাকতে পারে। সময়মতো রোগ নির্ণয় ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা না নিলে লিভারে ফাইব্রোসিস বা সিরোসিসের মতো জটিলতা তৈরি হতে পারে বলে জানান চিকিৎসকরা। তাই স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস, ওজন নিয়ন্ত্রণ এবং নিয়মিত শরীরচর্চার উপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
বাড়ুক সচেতনতা। ছবি: নিজস্ব
অ্যাসিডিটি, বুকজ্বালা, বদহজম বা পেট ফাঁপার মতো সমস্যাকে দীর্ঘদিন অবহেলা না করার পরামর্শ দেন চিকিৎসকেরা। তাঁদের মতে, খাবার গিলতে অসুবিধা, বারবার বমি, দীর্ঘস্থায়ী বুকজ্বালা, অকারণে ওজন কমে যাওয়া, পরিপাকতন্ত্রে রক্তপাত বা অজানা কারণে রক্তাল্পতার মতো উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন।
যাঁদের প্রয়োজন তাঁদের ক্ষেত্রে আপার জিআই এন্ডোস্কোপি ও কোলোনোস্কোপির গুরুত্বও তুলে ধরা হয় শিবির। এই পরীক্ষার মাধ্যমে আলসার, পলিপ, ইনফ্ল্যামেটরি বাওয়েল ডিজিজ, পরিপাকতন্ত্রে রক্তপাত এবং কিছু ক্ষেত্রে ক্যানসারের মতো গুরুতর রোগ আগেভাগে শনাক্ত করা সম্ভব।
ডিসান হসপিটাল, শিলিগুড়ির মেডিক্যাল সুপারিনটেনডেন্ট ও সিনিয়র কনসালট্যান্ট, ইন্টারনাল মেডিসিন ডা. এস. কে. শারওয়ান বলেন, লিভার ও গ্যাস্ট্রোইনটেস্টাইনাল ট্র্যাক্ট (জিআই ট্র্যাক্ট)-এর অনেক রোগ প্রাথমিক পর্যায়ে নীরব থাকে। উপসর্গ স্পষ্ট হওয়ার সময় পর্যন্ত অনেক ক্ষেত্রে রোগ যথেষ্ট এগিয়ে যেতে পারে। তাই ঝুঁকির কারণ সম্পর্কে সচেতন হওয়া এবং সময়মতো প্রয়োজনীয় চিকিৎসা শুরু অত্যন্ত জরুরি।
উপসর্গকে অবহেলা নয়। ছবি: নিজস্ব
হসপিটালের কনসালট্যান্ট গ্যাস্ট্রোএন্টেরোলজিস্ট ডা. নিরঞ্জন কুমার বলেন, দীর্ঘদিন পেটে ব্যথা, খাবার গিলতে সমস্যা, বারবার বমি, পরিপাকতন্ত্রে রক্তপাত, অজানা কারণে রক্তাল্পতা, ওজন কমে যাওয়া বা মলত্যাগের অভ্যাসে দীর্ঘদিন পরিবর্তনকে অবহেলা করা উচিত নয়।এন্ডোস্কোপি ও কোলোনোস্কোপি গুরুতর রোগ দ্রুত শনাক্ত করতে সাহায্য করতে পারে।
শিবিরে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শের পাশাপাশি ফ্যাটি লিভার ও ক্রনিক লিভার ডিজিজ, হেপাটাইটিসের ঝুঁকি নির্ধারণ, প্রয়োজন অনুযায়ী বিভিন্ন পরীক্ষা এবং খাদ্য ও জীবনযাত্রা সংক্রান্ত পরামর্শ দেওয়া হয়।
বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, আলট্রাসাউন্ডে ফ্যাটি লিভার ধরা পড়লে, লিভার ফাংশন টেস্ট অস্বাভাবিক হলে বা দীর্ঘদিন ধরে হজমের সমস্যা থাকলে তা অবহেলা করা উচিত নয়। সময়মতো রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসার পাশাপাশি স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস ও জীবনযাপনই লিভার এবং পরিপাকতন্ত্রের সুস্থতা বজায় রাখার অন্যতম চাবিকাঠি বলে মত বিশেষজ্ঞদের।
