shono
Advertisement

Breaking News

Hepatitis A Causes

দূষিত জলেই লুকিয়ে বিপদ! শিশুদের হেপাটাইটিস ‘এ’ নিয়ে বিশেষজ্ঞের সতর্কবার্তা

শিশুদের মধ্যে সব চেয়ে বেশি দেখা যায় জলবাহিত হেপাটাইটিস ‘এ’। অনেক সময় লক্ষণ প্রায় থাকেই না। তাই সচেতনতাই হতে পারে সবচেয়ে বড় প্রতিরোধ। ব্যাখ্যায় বিশিষ্ট শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ।
Published By: Pritimoy Roy BurmanPosted: 02:15 PM Aug 06, 2026Updated: 03:52 PM Aug 06, 2026

শিশু হঠাৎ আগের মতো খেতে চাইছে না?‌ সারাক্ষণ ক্লান্ত, মাঝে মাঝে বমি হচ্ছে?‌ প্রস্রাবের রং-ও যেন একটু গাঢ় হলুদ। বেশিরভাগ মা-বাবা এমন উপসর্গকে সাময়িক বদহজম বা পেটের সমস্যাই মনে করেন। কিন্তু এই সাধারণ লক্ষণগুলোর আড়ালেই কখনও কখনও লুকিয়ে থাকতে পারে হেপাটাইটিস, অর্থাৎ লিভারের প্রদাহ।

Advertisement

হেপাটাইটিস মানেই যে শুধু জন্ডিস, তা নয়। বরং শিশুদের ক্ষেত্রে এই রোগের সব চেয়ে বড় বৈশিষ্ট্যই হল, অনেক সময় এটি একেবারেই নীরবে আসে। তাই সচেতনতা, সময়মতো রোগ নির্ণয় এবং প্রতিরোধই হতে পারে সব চেয়ে বড় সুরক্ষা।

শুধু ভাইরাস নয়, কারণের তালিকা আরও দীর্ঘ
হেপাটাইটিস বললেই সাধারণত হেপাটাইটিস ‘‌এ’‌ (Hepatitis A Causes), ‘‌বি’‌, ‘‌সি’‌ বা ‘‌ই’‌-এর কথা মনে পড়ে। কিন্তু শিশুদের লিভারের প্রদাহের কারণ এর চেয়েও অনেক বিস্তৃত। বিভিন্ন ভাইরাস, ব্যাকটেরিয়া, অটোইমিউন রোগ, কিছু বিপাকজনিত (মেটাবলিক) অসুখ, এমনকী, কিছু ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াতেও হেপাটাইটিস হতে পারে। তবে ভারতীয় শিশুদের ক্ষেত্রে সব চেয়ে বেশি দেখা যায় জলবাহিত হেপাটাইটিস ‘‌এ’‌। হেপাটাইটিস ‘‌ই’‌ও তুলনামূলকভাবে কমন।

খাওয়ায় অনীহা? ছবি: সংগৃহীত

সংখ্যাই বলছে বাস্তবতা
বিশ্বে প্রতি বছর প্রায় ১৪ লক্ষ মানুষ নতুন করে হেপাটাইটিস ‘‌এ’‌ ভাইরাসে আক্রান্ত হয়। ভারতে ১০ বছর বয়সের মধ্যেই প্রায় ৯০ শতাংশ শিশু কোনও না কোনও সময় এই ভাইরাসের সংস্পর্শে আসে। তবে তার অর্থ এই নয় যে সবাই অসুস্থ হয়ে পড়ে। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই সংক্রমণ সাব-ক্লিনিক্যাল থাকে। অর্থাৎ, শরীরে ভাইরাস ঢুকলেও তেমন কোনও লক্ষণ প্রকাশ পায় না। তবে ঝুঁকি যে নেই, তা নয়। দেশে ভাইরাল হেপাটাইটিসের ৭০ থেকে ৮৫ শতাংশ এবং লিভার বিকলের ৪০ থেকে ৬০ শতাংশ ক্ষেত্রেই দায়ী হেপাটাইটিস ‘‌এ’‌।

নীরব সংকেতগুলো চিনুন
শিশুদের হেপাটাইটিসের লক্ষণ অনেক সময় এতটাই সাধারণ হয় যে সহজেই চোখ এড়িয়ে যায়। খাওয়ায় অনীহা, বমি বা বমি বমি ভাব, অস্বাভাবিক ক্লান্তি, গাঢ় হলুদ প্রস্রাব, পেটের ডান দিকে ব্যথা বা জন্ডিস, সবই হতে পারে হেপাটাইটিসের ইঙ্গিত। আবার অনেক শিশুর ক্ষেত্রে এগুলোর কোনওটিই নাও থাকতে পারে। এই কারণেই শুধু উপসর্গ দেখে হেপাটাইটিস ‘‌এ’‌, ‘‌ই’‌ বা অন্য কোনও ধরনের হেপাটাইটিস আলাদা করা সম্ভব নয়। নিশ্চিত হতে রক্ত পরীক্ষার বিকল্প নেই।

উপসর্গ দেখা দিলে জরুরি চিকিৎসকের পরামর্শ। ছবি: সংগৃহীত

চিকিৎসায় ওষুধের চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পরিচর্যা
হেপাটাইটিস ‘‌এ’‌-র বিরুদ্ধে নির্দিষ্ট কোনও ওষুধ নেই। তাই চিকিৎসার মূল ভিত্তি হল সাপোর্টিভ কেয়ার। শিশুর শরীরে জলশূন্যতা হতে না দেওয়া, প্রয়োজনে স্যালাইন দেওয়া, পর্যাপ্ত পুষ্টি নিশ্চিত করা এবং নিয়মিত পর্যবেক্ষণে রাখা, এই কয়েকটি বিষয়ই চিকিৎসার সব চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এতেই অধিকাংশ শিশু সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে ওঠে। তবে অল্প কিছু ক্ষেত্রে লিভারের গুরুতর সমস্যার ঝুঁকি থাকে, তাই চিকিৎসকের পরামর্শ মতো চলুন।

টিকাই সবচেয়ে বড় সুরক্ষা
হেপাটাইটিস ‘‌এ’‌ প্রতিরোধে কার্যকর টিকা রয়েছে। সাধারণত এক বছর বয়স থেকে এই টিকা দেওয়া যায়। অধিকাংশ ক্ষেত্রে ছ’‌মাসের ব্যবধানে দুটি ডোজ প্রয়োজন হয়। আবার একটি লাইভ ভ্যাকসিন রয়েছে, যার একটি ডোজই যথেষ্ট। যদিও ভারতে এটি এখনও জাতীয় টিকাকরণ কর্মসূচির অন্তর্ভুক্ত নয়, তবে আমাদের দেশে জলবাহিত সংক্রমণের ঝুঁকি বিবেচনায় এই টিকা নেওয়া অত্যন্ত যুক্তিযুক্ত। অন্যদিকে হেপাটাইটিস ‘‌বি’‌ টিকা জন্মের পর থেকেই জাতীয় টিকাকরণ কর্মসূচির আওতায় সব শিশুকে দেওয়া হয়।

জল যেন হয় বিশুদ্ধ। ছবি: সংগৃহীত

জলেই যত বিপদ
হেপাটাইটিস ‘‌এ’‌ ছড়ায় ফিকো-ওরাল পথে। অর্থাৎ, দূষিত জল বা খাবারের মাধ্যমে ভাইরাস শরীরে প্রবেশ করে। তাই প্রতিরোধের সবচেয়ে কার্যকর উপায়ও খুব সাধারণ, কিন্তু অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পরিস্রুত জল পান করা, নিরাপদ খাবার খাওয়া, নিয়মিত সাবান দিয়ে হাত ধোয়া এবং পরিচ্ছন্ন পরিবেশ বজায় রাখা এই রোগের ঝুঁকি অনেকটাই কমিয়ে দেয়।

শত্রু শুধু হেপাটাইটিস ভাইরাস নয়
এপস্টাইন-বার ভাইরাস, সাইটোমেগালো ভাইরাস, অ্যাডেনোভাইরাস, টাইফয়েড, লেপ্টোস্পাইরোসিস, ম্যালেরিয়া, অটোইমিউন হেপাটাইটিস, উইলসন ডিজিজের মতো মেটাবলিক অসুখ, অতিরিক্ত প্যারাসিটামল-সহ কিছু ওষুধ, যক্ষ্মা ও খিঁচুনির কিছু ওষুধ, বিষাক্ত মাশরুম, এমনকী, বর্তমানে বাড়তে থাকা শিশুদের ফ্যাটি লিভার ডিজিজও লিভারের প্রদাহের কারণ হতে পারে।

ভ্যাকসিনেই সুরক্ষা। ছবি: সংগৃহীত

মনে রাখুন
লিভার কখনও হঠাৎ করে অসুস্থ হয়ে পড়ে না। তার আগে শরীর ছোট ছোট ইঙ্গিত দেয়। সেই ইঙ্গিতগুলো বুঝে সময়মতো চিকিৎসকের কাছে পৌঁছনোই সব চেয়ে বড় দায়িত্ব। আর একটি বিষয় মনে রাখা জরুরি, শিশুদের হেপাটাইটিসের বিরুদ্ধে লড়াই শুরু হয় হাসপাতালের বিছানায় নয়, বাড়িতেই। এক গ্লাস নিরাপদ জল, পরিচ্ছন্ন খাবার, হাত ধোয়ার অভ্যাস এবং সময়মতো টিকাকরণ, এই চারটি সহজ পদক্ষেপই শিশুর লিভারকে বড় বিপদ থেকে রক্ষা করতে পারে।

Sangbad Pratidin News App

খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ

হাইলাইটস

Highlights Heading
Advertisement