shono
Advertisement
Night Heat Dry Attack

রাতভর এসি-ফ্যানে শুকিয়ে কাঠ নাক-গলা? গরমের এই ‘ড্রাই ট্র্যাপ’ এড়াবেন কীভাবে

গরমের এই বদলে যাওয়া চরিত্রকে হালকাভাবে নিলে চলবে না। শুধু দিনের রোদ নয়, রাতের গরমও শরীরের ভেতরে নীরব ক্ষতি ডেকে আনতে পারে।
Published By: Pritimoy Roy BurmanPosted: 05:38 PM May 22, 2026Updated: 05:38 PM May 22, 2026

গরমের রাত এখন আর শুধু অস্বস্তির কারণ নয়, ধীরে ধীরে তা হয়ে উঠছে শরীরের নতুন শত্রু। সারারাত ঘাম, অস্থিরতা, এসি বা ফ্যানের হাওয়া— সব মিলিয়ে নাক ও গলার স্বাভাবিক আর্দ্রতা দ্রুত কমে যাচ্ছে। আর তার জেরেই বাড়ছে গলায় শুষ্কতা, নাক বন্ধ, কাশি, মাথাব্যথা, গলা বসে যাওয়া, এমনকী ঘুমের সমস্যাও।

Advertisement

দেশজুড়ে তীব্র তাপপ্রবাহের মধ্যে ইএনটি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, রাতের অতিরিক্ত গরম ও শরীরে জলের ঘাটতি নাক-গলার ভেতরের মিউকাস স্তরকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। তার উপর ঘণ্টার পর ঘণ্টা এসি বা সরাসরি ফ্যানের হাওয়ায় থাকলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হচ্ছে। ঘরের আর্দ্রতা কমে গিয়ে শ্বাসনালি শুকিয়ে পড়ছে, ফলে বাড়ছে অস্বস্তি ও সংক্রমণের ঝুঁকি।

চোখে ঘুম নেই। ছবি: সংগৃহীত

কেন বাড়ে সমস্যা?
নাক ও গলার ভেতরে থাকা মিউকাস স্তর শরীরের প্রাকৃতিক প্রতিরক্ষা। এটি ধুলো, অ্যালার্জেন, ব্যাকটেরিয়া ও ভাইরাস আটকে শ্বাসনালিকে সুরক্ষিত রাখে। কিন্তু অতিরিক্ত গরম, জলশূন্যতা এবং শুকনো বাতাস এই সুরক্ষা স্তরকে দুর্বল করে দেয়।

চিকিৎসকদের মতে, রাতভর এসি চালিয়ে রাখা বা মুখের উপর সরাসরি ফ্যানের হাওয়া লাগলে নাক ও গলার ভেতরের আর্দ্রতা দ্রুত কমে যায়। ফলে সকালে ঘুম থেকে উঠেই গলা ব্যথা, খুসখুসে কাশি বা নাক জ্বালার মতো সমস্যা দেখা দেয়।

কোন লক্ষণগুলি দেখলেই সতর্ক হবেন?

  • সকালে গলা শুকিয়ে যাওয়া
  • গলা বসে যাওয়া বা কর্কশ স্বর
  • শুকনো কাশি
  • নাক বন্ধ বা জ্বালা
  • মাথাব্যথা
  • নাক দিয়ে হালকা রক্ত পড়া
  • রাতে বারবার ঘুম ভেঙে যাওয়া

বিশেষজ্ঞদের মতে, অনেক সময় নাক শুকিয়ে গিয়ে বন্ধ হয়ে যায়। তখন মানুষ মুখ দিয়ে শ্বাস নিতে শুরু করেন। এতে গলা আরও বেশি শুকিয়ে যায় এবং নাক ডাকা বা ঘুমের সমস্যা বাড়তে পারে।

সকালে নাক-গলায় অস্বস্তি। ছবি: সংগৃহীত

কারা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে?

  • শিশু ও প্রবীণরা
  • যাঁদের অ্যালার্জি বা সাইনাসের সমস্যা আছে
  • অ্যাজমা রোগী
  • দীর্ঘক্ষণ এসিতে থাকা মানুষ
  • যাঁরা কম জল পান করেন
  • অতিরিক্ত চা-কফি বা অ্যালকোহল খান এমন ব্যক্তিরা

সমস্যা থেকে রেহাই পেতে?
পর্যাপ্ত জল পান করুন: গরমে শরীরে দ্রুত জল কমতে থাকে। তাই সারাদিন অল্প অল্প করে বারবার জল পান জরুরি।
এসি খুব কম তাপমাত্রায় রাখবেন না: অতিরিক্ত ঠান্ডা ঘর নাক-গলার শুষ্কতা বাড়াতে পারে।
সরাসরি ফ্যানের হাওয়া এড়িয়ে চলুন: মুখের দিকে লাগাতার হাওয়া লাগলে শ্বাসনালি দ্রুত শুকিয়ে যায়।
ঘরে আর্দ্রতা বজায় রাখুন: প্রয়োজনে হিউমিডিফায়ার ব্যবহার করতে পারেন।
স্যালাইন ন্যাসাল স্প্রে ব্যবহার করুন: এতে নাকের ভেতরের শুষ্কতা কমে।

এসি-ফ্যানেই লুকিয়ে বিপদ। ছবি: সংগৃহীত

কখন চিকিৎসকের কাছে যাবেন?
যদি জ্বর, শ্বাসকষ্ট, তীব্র গলা ব্যথা, ঘন কফ, বারবার নাক দিয়ে রক্ত পড়া বা দীর্ঘদিন গলা বসে থাকার মতো সমস্যা দেখা দেয়, তাহলে দেরি না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

চিকিৎসকদের মতে, গরমের এই বদলে যাওয়া চরিত্রকে হালকাভাবে নিলে চলবে না। শুধু দিনের রোদ নয়, রাতের গরমও শরীরের ভেতরে নীরব ক্ষতি ডেকে আনতে পারে। তাই এই সময় ঘুমের পরিবেশ, শরীরে জলের মাত্রা এবং নাক-গলার যত্ন— সব কিছুর দিকেই সমান নজর দেওয়া জরুরি।

Sangbad Pratidin News App

খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ

হাইলাইটস

Highlights Heading
Advertisement