বাংলাদেশ থেকেই নিয়ন্ত্রিত হচ্ছিল সদ্য ধরা পড়া জঙ্গি মডিউলটি। তাতে জড়িয়ে ছিল পাকিস্তানের জঙ্গি সংগঠন লস্কর-ই-তৈবাও। তারা ভারতে বড়সড় হামলার ছক কষেছিল। বাংলা এবং তামিলনাড়ু, এই দুই রাজ্য থেকে আটজন সন্দেহভাজন দিল্লি পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হওয়ার পর এমনই তথ্য উঠেছে এসেছে। তদন্তকারীদের একটি সূত্রে দাবি, ধৃতদের মধ্যে সাতজনই বাংলাদেশের নাগরিক।
তদন্তকারীদের সূত্রে জানা গিয়েছে, গত ৭ এবং ৮ ফেব্রুয়ারি দিল্লি এবং কলকাতায় বিভিন্ন মেট্রো স্টেশনে 'ফ্রি কাশ্মীর', 'কাশ্মীরে গণহত্যা বন্ধ হোক' জাতীয় স্লোগান তুলে যে বিক্ষোভ হয়েছিল, তা থেকেই প্রাথমিক সূত্র মেলে। গোয়েন্দা সংস্থাগুলিই দিল্লি পুলিশ বিষয়টি সম্পর্কে অবহিত করে। এর পরেই তদন্তে নামে অমিত শাহের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের অধীনস্থ দিল্লি পুলিশের স্পেশাল সেল। ধৃতেরা হল মিনাজুর রহমান, মহম্মদ শবত, উমর, মহম্মদ লিটন, মহম্মদ শাহিদ এবং মহম্মদ উজ্জ্বল। এই ছ’জনকে তামিলনাড়ুর তিরুপুর থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে। সেখানে তারা একটি পোশাক কারখানায় কাজ করত। অন্য দিকে, পশ্চিমবঙ্গের মালদহ থেকে গ্রেপ্তার করা হয় উমর ফারুক এবং রবিউল ইসলাম নামে দু'জনকে।
মুর্শিদাবাদের লালবাগ থেকেও সম্প্রতি শেখ সুমন নামে একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পুলিশ সূত্রে দাবি, পাক গুপ্তচর সন্দেহে গ্রেপ্তার হয়েছে সুমন। বাংলায় বসে গোপনে ওটিপি পাঠিয়ে পাকিস্তানকে সাহায্য় করার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। তবে তদন্তের স্বার্থে এ বিষয়ে বিশেষ তথ্য দিতে চায়নি মুর্শিদাবাদ পুলিশ জেলা।
পুলিশ সূত্রে খবর, ধৃত সন্দেহভাজনদের মধ্যে বাংলাদেশি নাগরিকেরা নিজের পরিচয় লুকোতে ভুয়ো আধার কার্ড ব্যবহার করছিল। সন্দেহ, ধৃতেরা পাক গুপ্তচর সংস্থা আইএসআই এবং বাংলাদেশের জঙ্গি সংগঠনের মদতপুষ্ট। তাঁদের সকলকে দিল্লি নিয়ে গিয়ে জেরা করা হচ্ছে। তদন্তকারীদের সূত্র জানিয়েছে, এই জঙ্গি মডিউলটির হ্যান্ডলর বাংলাদেশে রয়েছে। তার নাম শাব্বির আহমেদ লোন। সে-ই ধৃতদের নিয়ন্ত্রণ করছিল। পুলিশ সূত্রেরই দাবি, ২০০৭ সালে একটি আত্মঘাতী হামলা চালানোর চক্রান্ত করতে গিয়ে গ্রেপ্তার হয়েছিল শাব্বির। সেই সময় জেলও হয় তার। জেলমুক্তির পর সে ভারত ছেড়ে লস্করে যোগ দেয়। এর পর বাংলাদেশেই নিজের ঘাঁটি তৈরি করে শাব্বির। যোগাযোগ বজায় রাখে পাকিস্তানের সঙ্গেও। পুলিশ সূত্রের দাবি, শাব্বির ছাড়াও সইদুল ইসলাম নামে আরও এক বাংলাদেশি হ্যান্ডলারের সঙ্গে সঙ্গে যোগাযোগে ছিল ধৃতদের।
তামিলনাড়ুতে তাদের অভিযান প্রসঙ্গে দিল্লি পুলিশের স্পেশাল সেল জানিয়েছে, সমাজমাধ্যমে জঙ্গি কার্যকলাপকে সমর্থন করে কিছু পোস্ট নজরে আসে। আর সেই সূত্র ধরেই তামিলনাড়ুর তিরুপুরে অভিযান চালানো হয় সে রাজ্যের পুলিশের সহযোগিতায়। তদন্তে নেমে ছয় সন্দেহভাজনের হদিস মেলে। অভিযানের সময় তাঁদের কাছ থেকে ভুয়ো আধার কার্ড উদ্ধার হয়েছে। এ ছাড়াও ১৬টি সিম কার্ড, আটটি ফোন উদ্ধার হয়েছে। সেগুলি পরীক্ষা করে দেখা হচ্ছে।
