হিমালয়ের দুর্গম ও কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় সারা বছর যোগাযোগ ব্যবস্থা সচল রাখতে বড়সড় পরিকাঠামো উন্নয়ন করছে বর্ডার রোডস অর্গানাইজেশন (বিআরও)। তারই অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প নিম্মু-পদুম-দার্চা (এমপিডি) অক্ষ। এই পথের সঙ্গে যুক্ত ৪.১ কিলোমিটার দীর্ঘ শিনকু লা টানেল নির্মাণ শেষ হলে লাদাখের সঙ্গে যোগাযোগের ক্ষেত্রে আরও একটি স্থায়ী রাস্তা তৈরি হবে। আশা করা হচ্ছে, আগামী বছরের মধ্যে শিনকু লা টানেল জনসাধারণের জন্য খুলে দেওয়া হবে।
মানালিতে পি আই বি আয়োজিত সাংবাদিক সম্মেলনে বিআরও-র প্রজেক্ট যোজকের একজিকিউটিভ ইঞ্জিনিয়ার চাহাত শর্মা বলেন, অটল টানেল নির্মাণের পর প্রজেক্ট যোজক গড়ে ওঠে। বর্তমানে এই প্রকল্পের আওতায় ১০ হাজার ফুটের বেশি উচ্চতায় অবস্থিত বিশ্বের দীর্ঘতম হাইওয়ে টানেলের রক্ষণাবেক্ষণ-সহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পরিকাঠামো প্রকল্প পরিচালিত হচ্ছে। তবে উচ্চ হিমালয়ে সারা বছর রাস্তা খোলা রাখা মোটেই সহজ কাজ নয়। প্রবল তুষারপাত, হিমাঙ্কের বহু নীচে নেমে যাওয়া তাপমাত্রা এবং প্রতিকূল ভৌগোলিক পরিস্থিতির মধ্যেই বিআরও কর্মীদের কাজ করতে হয়। শীতকালে তাপমাত্রা কখনও কখনও মাইনাস ৩০ ডিগ্রি সেলসিয়াসে নেমে যায়। এই পরিস্থিতিতেও মানালি-কেলং-লে অক্ষ সচল রাখার জন্য নিয়মিত রাস্তা পরিষ্কার, তুষার অপসারণ ও মেরামতির কাজ চালানো হয়।
এনপিডি অক্ষ এবং প্রস্তাবিত শিনকু লা টানেল এই পরিকাঠামো উন্নয়নের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ১৬ হাজার ফুট উচ্চতায় ৪.১ কিলোমিটার দীর্ঘ জোড়া সুড়ঙ্গটি সম্পূর্ণ হলে জ়ানস্কর উপত্যকা হয়ে লাদাখে পৌঁছনোর জন্য তৃতীয় একটি স্থায়ী পথ তৈরি হবে বলে বিআরও-র তরফে জানানো হয়েছে। এর ফলে শুধু লাদাখের কৌশলগত যোগাযোগই শক্তিশালী হবে না, দুর্গম লাহুল-স্পিতি অঞ্চলের সঙ্গেও যোগাযোগ আরও সহজ হবে। সারা বছর যোগাযোগ ব্যবস্থা চালু থাকলে পর্যটন, বাণিজ্য এবং স্থানীয় অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে তার ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে মনে করা হচ্ছে। বর্তমানে লাদাখে যাওয়ার ক্ষেত্রে আবহাওয়ার কারণে দীর্ঘ সময় যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ার সমস্যা রয়েছে। নতুন এই রুট সেই নির্ভরতা অনেকটাই কমাতে পারে।
তাৎপর্যপূর্ণ হল, এনপিডি অক্ষ ভারতের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি কৌশলগত যোগাযোগ পথ। এই পথে চিন সীমান্তে মোতায়েন ভারতীয় সেনার কাছে দ্রুত সেনা, অস্ত্র, জ্বালানি ও রসদ পৌঁছে দেওয়া সহজ হবে এবং শ্রীনগর–লে ও মানালি–লে সড়কের উপর নির্ভরতা কমবে। বিশেষ করে শিনকুন-লা টানেল তৈরি হলে তুষারপাতের সময়ও এই যোগাযোগ আরও নির্ভরযোগ্য হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ফলে প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখায় ভারতের সেনা মোতায়েন ও সামরিক রসদ সরবরাহের সক্ষমতা আরও বাড়বে।
