ব্যাপক বিতর্ক, জনরোষের মুখে পড়ে অবশেষে ইস্তফা দিয়েছেন কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান। 'ককরোচ জনতা পার্টি'র মুখ্য দাবি পূরণ হলেও এখনই যন্তর মন্তর ছাড়তে নারাজ আরশোলারা। শনিবার সে কথা স্পষ্ট করে সিজেপির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে জানিয়ে দিলেন, আরও দুটি দাবি সরকারকে মানতে হবে। তারপরই আন্দোলন প্রত্যাহারের বিষয়ে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। পাশাপাশি শিক্ষামন্ত্রীর ইস্তফার ঘটনায় সকল আন্দোলনকারীকে অভিনন্দন জানিয়েছেন সোনম ওয়াংচুক।
ধর্মেন্দ্র প্রধানের ইস্তফার খবর সামনে আসার পর উল্লাসের সঙ্গে সে খবর বিক্ষোভকারীদের জানান অভিজিৎ। এই ঘটনাকে 'গণতন্ত্রের জয়' বলে উল্লেখ করে তিনি বলেন, 'আরশোলাদের সঙ্গে পাঙ্গা নয়'। এরপরই জানান, তাঁদের আরও দুই দাবি না মানা পর্যন্ত আন্দোলন যেমন চলছে তেমনই চলবে। দুই দাবির কথা মনে করিয়ে তিনি বলেন, বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে দিল্লি পুলিশ যতগুলি মামলা করেছে সব প্রত্যাহার করতে হবে। এবং প্রশ্নফাঁসের জেরে আত্মহত্যা করা করা প্রত্যেক পড়ুয়ার পরিবারকে এক কোটি টাকা করে ক্ষতিপূরণ দিতে হবে।
এই ঘটনাকে 'গণতন্ত্রের জয়' বলে উল্লেখ করে অভিজিৎ বলেন, 'আরশোলাদের সঙ্গে পাঙ্গা নয়'।
যন্তর মন্তরে আন্দোলন চলাকালীন সরকারের কাছে মোট ৩টি দাবি পেশ করেছিল সিজেপি যার মধ্যে একটি পূরণ হয়েছে। বাকি দাবিগুলি পূরণ করার প্রতিশ্রুতি অবশ্য আগেই দিয়েছিল সরকার। এই অবস্থায় নতুন করে আরও একটি দাবি পেশ করা হয়েছে অভিজিতের তরফে। মঞ্চ থেকেই তিনি বলেন, যে পুলিশকর্মীরা পড়ুয়াদের উপর লাঠি চালিয়েছিল, তাঁদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে। বেশ কয়েকজন পুলিশকর্তার নাম উল্লেখ করে অভিজিৎ বলেন, ''২০ জুলাই যে পুলিশ আধিকারিকরা গুন্ডার মতো আচরণ করেছিলেন তাঁদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতেই হবে। ডিসিপি সন্দীপ লাম্বা, এসিপি অজয় শর্মা, শচিন শর্মা আপনারা অমিত শাহ ও মোদির নামে আমাদের লাঠি মেরেছিলেন। আরশোলাদের সঙ্গে পাঙ্গা নয়, আমরা যদি একজন মন্ত্রীকে পদত্যাগ করাতে পারি তবে আপনারা আর কী?"
পাশাপাশি শিক্ষামন্ত্রীর ইস্তফায় দেশের যুবসমাজকে অভিনন্দন জানিয়ে সোনম ওয়াংচুক বলেন, 'এটি গণতন্ত্রের জয়। এই গণতন্ত্র সরাসরি রাজপথ থেকে উঠে আসা গণতন্ত্র। এই জয় শান্তি, ধৈর্য ও অদম্য সংকল্পের জয়। অভিনন্দন সিজেপি এবং দেশের জেন-জিকে। পাশাপাশি দেশের প্রতিটি প্রান্তে থেকে জেগে ওঠা সকল নাগরিককে ধন্যবাদ জানাই যারা ভয় ও আতঙ্ক ছেড়ে ফেলে এই লড়াইয়ে শামিল হয়েছেন।'
