shono
Advertisement

Breaking News

Ahmedabad plane crash

আহমেদাবাদ বিমান দুর্ঘটনা: মৃতের সংখ্যা নিয়ে লুকোছাপা, এখনও মিলছে আধপোড়া দেহ!

মুখ বন্ধ রাখতে প্রশাসনের অর্থ উড়ছে বলেও অভিযোগ।
Published By: Gopi Krishna SamantaPosted: 10:17 AM Jun 15, 2025Updated: 11:01 AM Jun 15, 2025

বুদ্ধদেব সেনগুপ্ত, আহমেদাবাদ: করোনা। কুম্ভ। এবার আহমেদাবাদ বিমান দুর্ঘটনা। মৃত্যুমিছিল। কিন্তু সবেতেই ধোঁয়াশা মৃতের সংখ্যা নিয়ে। গোপনের চেষ্টা। যুক্তি, পাল্টা যুক্তি। এ যেন সেই লুকোচুরি খেলা। প্রশাসনের রক্তচক্ষুর সামনে মুখে কুলুপ মেঘানিনগর, লক্ষ্মীনগর, বাপুজিনগরের দিন আনা দিন খাওয়া বাসিন্দাদের। কথা বলতে গেলেই রে রে করে ছুটে আসছে পুলিশ। এমনকি, কোনও বাড়ির ছাদ থেকে ভেঙে পড়া বিমানের ছবি তুলতে গেলে স্থানীয়দের লেলিয়ে দেওয়া হচ্ছে। এর মধ্যেও মুখ খুলছেন স্থানীয়রা। মুখ বন্ধ রাখতে প্রশাসনের অর্থ উড়ছে বলেও অভিযোগ। কারণ একটাই, মৃতের আসল সংখ্যা ধামাচাপা দেওয়া। বিমানযাত্রীর মৃত্যুসংখ্যায় গরমিল সম্ভব নয়, কিন্তু জনবহুল এলাকায় বিমান আছড়ে পড়ায় ঠিক কতজনের মৃত্যু হয়েছে, সেই সংখ্যাই গোপনের চেষ্টা হচ্ছে। তাৎপর্যপূর্ণভাবে বৃহস্পতিবার দুর্ঘটনার পর থেকেই বেশ কয়েকজন নিখোঁজ।

Advertisement

শনিবার সকাল থেকেই মেঘানিনগরের চিকিৎসক পড়ুয়াদের আবাসনে দফায় দফায় হাজির তদন্তকারীরা। প্রথমেই সাতসকালে আসে এয়ার ইন্ডিয়া ও এয়ারপোর্ট অথরিটি অফ ইন্ডিয়ার (এএআই) নিজস্ব তদন্তকারীরা। এরপর ময়দানে অবতীর্ণ হয় এনডিআরএফ ও আধাসেনা। দিনভর চলে নমুনা সংগ্রহের পাশাপাশি মৃতদের দেহাংশ উদ্ধারের কাজ এদিনও বেশ কয়েকজন মৃতের দেহ ও দগ্ধ দেহাংশ উদ্ধার করা হয়। ছাত্রাবাসের যে বাড়িটির ওপর বিমানটি আছড়ে পড়ে তার তলায় আরও দেহ চাপা পড়ে থাকতে পারে বলে আশঙ্কা উদ্ধারকারী দলের সদস্যদের। যেহেতু তদন্তের স্বার্থে নমুনা সংগ্রহের কাজ অব্যাহত তাই বিমানটির ধ্বংসাবশেষ সরানোর কাজ শুরু করা যাচ্ছে না। তবে বিধ্বস্ত বিমানের লেজটি এদিন দুপুরে হস্টেলের ছাদ থেকে ক্রেনে করে নামানো হয়েছে।

এরমধ্যেই মৃতের সংখ্যা নিয়ে চলছে জল্পনা। শনিবার রাত পর্যন্ত সরকারি সংখ্যা ২৭৯। কিন্তু স্থানীয়দের মতে, সংখ্যা খুব কম করে হলেও ৫০০ ছাড়াবে। সবই 'মাদারিকা খেল'। অর্থ ও রাষ্ট্রযন্ত্রের যৌথ উদ্যোগ। কিন্তু সত্যি সবসময় ধামাচাপা দেওয়া সম্ভব নয়। রাষ্ট্র যতই বলপ্রয়োগ করুক। লক্ষ্মীনগরের বাসিন্দা পুতুল মিশ্রার অভিযোগ, “স্থানীয় প্রশাসন ও রাজনৈতিক দলের লোকেরা বলে গিয়েছে এই ঘটনা নিয়ে কথা না বলতে। কত মরেছে আমরা কী করে বলব।” তবে স্থানীয় অনেকেই এখনও নিখোঁজ বলে জানান তিনি। আবার দিন আনা দিন খাওয়া অটোচালক ললিত বটকারের কথায়, “প্রশাসন আমাদের দেখে না। বিস্ফোরণের ৫০ মিটারের মধ্যে আমাদের ঘর। বাড়ির দেওয়ালে চিড় ধরেছে। প্রশাসনের কোনও নজর নেই। এবার যে কোনও সময় ভেঙে পড়ে আরও মানুষ মারা যাবে। ওই বাড়ির ছাদে উঠতে গেলে রে রে করে ওঠেন বাসিন্দারা।” ছাদে ওঠা যাবে না। কেন? প্রশ্নের কোনও জবাব নেই। মহিলাদের বাধা দেওয়ার পিছনে যে পুলিশি মদত তা বোঝার অপেক্ষা রাখে না। সবই সংখ্যা ধামাচাপা দেওয়ার নগ্ন প্রচেষ্টা।

শনিবারও গোটা ছাত্রাবাস ঘিরে রাখে বিরাট পুলিশ বাহিনী। ভিতরে যাওয়ার অনুমতি নেই। কেন? তারও কোনও সদুত্তর মেলেনি। শুধুই তদন্ত চলছে। কিন্তু কবে তদন্তে শেষ হবে, সেই প্রশ্নেরও কোনও সদুত্তর নেই। ঘটনার পর ৪৮ ঘণ্টা কেটে গেলেও প্রশাসনের মুখে কুলুপ। তা নিয়ে বিজে মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালেই ক্ষোভ উগরে দেন মুম্বইয়ের বাসিন্দা মফিজুল শেখ। অভিশপ্ত বিমানে স্ত্রী ও দুই সন্তানকে নিয়ে লন্ডনে ফিরছিলেন জাভেদ। চারজনই না ফেরার দেশে। তাঁরই কাকা মফিজুল ক্ষোভ উগরে দিয়ে বললেন, "ডিএনএ পরীক্ষার জন্য নমুনা দিয়েছি। কিন্তু কবে দেহ পাব সেই সদুত্তর পাইনি। আমরা বিমান দুর্ঘটনার আসল কারণ ও মৃতের সংখ্যা জানতে চাই। হাসপাতালে তো এখনও বহু মানুষ তাদের প্রিয়জনের খোঁজ করছেন। কিন্তু প্রশাসন কোনও সাহায্য করছে না। সব কিছুতেই তাড়াহুড়ো।” কী এমন রয়েছে যে প্রশাসনকে মুখ লুকোতে হচ্ছে, ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা চলছে সারাক্ষণ? প্রশ্ন স্থানীয় ও হাসপাতালে নমুনা দিতে আসা পরিজনদের।

Sangbad Pratidin News App

খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ

হাইলাইটস

Highlights Heading
  • করোনা। কুম্ভ। এবার আহমেদাবাদ বিমান দুর্ঘটনা। মৃত্যুমিছিল। কিন্তু সবেতেই ধোঁয়াশা মৃতের সংখ্যা নিয়ে। গোপনের চেষ্টা।
  • যুক্তি, পাল্টা যুক্তি। এ যেন সেই লুকোচুরি খেলা।
  • প্রশাসনের রক্তচক্ষুর সামনে মুখে কুলুপ মেঘানিনগর, লক্ষ্মীনগর, বাপুজিনগরের দিন আনা দিন খাওয়া বাসিন্দাদের।
Advertisement