shono
Advertisement
PM Modi

'প্রধানমন্ত্রী উত্তর চাই', সত্য প্রকাশের দাবিতে মোদিকে চিঠি এয়ার ইন্ডিয়া দুর্ঘটনায় মৃতদের পরিবারের

নিহতদের পরিবারের দাবি, নিরাপত্তার কারণে ব্ল্যাক বক্সের তথ্য জনসাধারণের কাছে সম্পূর্ণরূপে প্রকাশ করা না যায়, তাহলেও ভুক্তভোগী পরিবারগুলিকে যেন তা আলাদা করে জানানো হয়।
Published By: Amit Kumar DasPosted: 11:57 PM Apr 04, 2026Updated: 11:57 PM Apr 04, 2026

আহমেদাবাদে এয়ার ইন্ডিয়ার বিমান দুর্ঘটনার ১০ মাস পেরিয়ে গিয়েছে। তবে এখনও স্পষ্ট নয় দুর্ঘটনার কারণ। এই পরিস্থিতিতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির দ্বারস্থ হলেন বিমান দুর্ঘটনায় নিহত ২৬০ জনের পরিবার। প্রকৃত সত্য প্রকাশ করার দাবি জানিয়ে প্রধানমন্ত্রীকে চিঠি লিখলেন তাঁরা। চিঠিতে অভিশপ্ত বিমানের ককপিট ভয়েস রেকর্ডার (সিভিআর) এবং ব্ল্যাক বক্সের তথ্য জনসাধারণের সামনে প্রকাশের আবেদন জানানো হয়েছে।

Advertisement

সম্প্রতি গুজরাটের আহমেদাবাদে একজোট হয়েছিলেন বিমান দুর্ঘটনায় নিহতদের ৩০টি পরিবার। সেখানেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় দুর্ঘটনার কারণ প্রকাশ করার দাবিতে প্রধানমন্ত্রীকে চিঠি দেওয়া হবে। মোদিকে লেখা চিঠিতে নিহতদের পরিবার জানতে চেয়েছে সেদিন ঠিক কী হয়েছিল? কোনও যান্ত্রিক ত্রুটি নাকি পাইলটের ভুল? পরিবারগুলির দাবি, নিরাপত্তার কারণে ব্ল্যাক বক্সের তথ্য জনসাধারণের কাছে সম্পূর্ণরূপে প্রকাশ করা না যায়, তাহলেও ভুক্তভোগী পরিবারগুলিকে যেন তা আলাদা করে জানানো হয়।

মোদিকে লেখা চিঠিতে নিহতদের পরিবার জানতে চেয়েছে সেদিন ঠিক কী হয়েছিল? কোনও যান্ত্রিক ত্রুটি নাকি পাইলটের ভুল?

দুর্ঘটনায় ২৪ বছর বয়সী ছেলেকে হারানো নীলেশ পুরোহিত বলেন, "আমার বাড়ি শূন্য হয়ে গিয়েছে। কোনও ক্ষতিপূরণই এই শূন্যতা পূরণ করতে পারবে না। আমরা টাকা চাই না, আমরা শুধু জানতে চাই সেদিন আসলে কী ঘটেছিল।" দুর্ঘটনার পর এয়ার ইন্ডিয়ার ব্যবস্থাপনা নিয়েও উষ্মা প্রকাশ করেছে নিহতদের পরিবার। বিমান সংস্থা নিহতদের জিনিসপত্র শনাক্ত করার জন্য একটি ওয়েবসাইট তৈরি করেছে, যেখানে ২৫,০০০-এরও বেশি জিনিসের তালিকা রয়েছে। দুর্ঘটনায় মাকে হারানোর ভাসাদের বাসিন্দা কিঞ্জল প্যাটেল বলেন, "ওয়েবসাইটের ছবিগুলো এতটাই ঝাপসা যে জিনিসগুলো শনাক্ত করা অসম্ভব।" সংস্থাকে ইমেল করা হলেও উত্তর পেতে ১৫ দিনের বেশি সময় লাগছে। যা অত্যন্ত বিরক্তিকর।

উল্লেখ্য, গত বছর ১২ জুন আহমেদাবাদ থেকে লন্ডনগামী এয়ার ইন্ডিয়ার একটি বোয়িং ৭৮৭-৮ বিমান আকাশে ওড়ার কয়েক সেকেন্ড পরই মেঘানিনগরের বিজে মেডিক্যাল কলেজের ক্যান্টিনের উপর ভেঙে পড়ে। দুর্ঘটনার জেরে মৃত্যু হয় ২৬০ জনে। তাৎপর্যপূর্ণভাবে আহমেদাবাদ বিমান দুর্ঘটনার যে প্রাথমিক তদন্ত রিপোর্ট এয়ারক্রাফট অ্যাক্সিডেন্ট ইনভেস্টিগেশন ব্যুরো দিয়েছে, তাতে দুর্ঘটনার দায় পাইলটের উপরে চাপানো হয়েছে। যদিও মার্কিন সংস্থা এভিয়েশন সেফটি ফাউন্ডেশনের প্রধান এড পিয়ারশন বলেন, বোয়িং ৭৮৭ ড্রিমলাইনার সম্পর্কে একাধিক গোপন তথ্য তাদের হাতে এসেছে। যেখানে স্পষ্ট যে ওই বিমানটিতে আগে থেকেই সমস্যা ছিল। দীর্ঘদিন ধরে শর্ট সার্কিট, ধোঁয়া এবং বিমানের তারে সমস্যা দেখা যাচ্ছিল। সমস্যার জেরে বিমানটিকে বেশ কয়েকবার সারাইয়ের জন্য গ্রাউন্ডেড করা হয়। এছাড়া পি-১০০ পাওয়ার প্যানেল যা বিমানের ইঞ্জিনে বিদ্যুৎ সরবরাহ করে সেটিও প্রতিস্থাপন করা হয়। শুধু তাই নয়, বিমানটির ডিজাইন ও সফটওয়ার সংক্রান্ত নিরাপত্তারও প্রয়োজন ছিল।

এখানেই শেষ নয়, আহমেদাবাদে বিমান দুর্ঘটনার পর এর তদন্তে নেমেছিল অসামরিক বিমান পরিবহণ মন্ত্রকের অধীনস্থ তদন্তকারী সংস্থা এয়ারক্রাফট অ্যাক্সিডেন্ট ইনভেস্টিগেশন ব্যুরো (AAIB)। তবে অভিযোগ, তদন্তের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য মার্কিন ওই তদন্তকারী সংস্থার সঙ্গে ভাগ করে নেওয়া হয়নি। যার জেরে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে তদন্তের নিরপেক্ষতা নিয়ে। শুধু তাই নয়, মার্কিন সংস্থার দাবি যদি সত্যি হয় তবে এটা স্পষ্ট যে সব জেনেশুনেই তদন্তের মোড় ঘোরাতে পাইলটের ভুলের দিকে আঙুল তোলা হয়েছিল। এই ডামাডোলের মাঝেই এবার ন্যায় চেয়ে প্রধানমন্ত্রীকে চিঠি লিখল নিহতদের পরিবার।

Sangbad Pratidin News App

খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ

হাইলাইটস

Highlights Heading
Advertisement