যন্তর মন্তরে পড়ুয়া বিক্ষোভ নিয়ে বিরোধীদের সবরকম সব প্রশ্নের জবাব দিতে প্রস্তুত তিনি। আগেই জানিয়ে দিয়েছিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। এবার বিরোধী শিবিরের উপর চাপ আরও বাড়িয়ে আলোচনার সময় নির্ধারণের জন্য স্পিকারকে চিঠি লিখলেন শাহ। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্য, বিরোধী শিবিরের সঙ্গে কথা বলে আলোচনার সময় নির্ধারণ করুন স্পিকার।
স্পিকারকে লেখা চিঠিতে শাহ বলেছেন, "দেশের গণতন্ত্র এবং গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানের উপর আমার বিশ্বাস অটুট। আগেই সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী কিরেন রিজিজু বিজনেস অ্যাডভাইজরি কমিটিতে সরকারের তরফে জানিয়েই দিয়েছেন, যে আমরা আলোচনায় রাজি। আমি এখানে উল্লেখ করতে চাই, বিরোধীদের অনুরোধেই আমরা প্রশ্নফাঁস ইস্যুতে আলোচনা করেছি। আমি চাই, আপনি বিরোধীদের সঙ্গে আলোচনা করে ঐক্যমতের ভিত্তিতে সময় ঠিক করুন। ওই সময় আমি মাঠে থাকব। আমি বিরোধীদের সব প্রশ্নের জবাব দিতে প্রস্তুত।"
নিট পরীক্ষার্থীদের উপর পুলিশি দমন-পীড়ন, রাম মন্দিরের অনুদান চুরি ইত্যাদি বিষয়ে আলোচনার দাবিতে বিরোধী সংসদে অচলাবস্থা তৈরি করছে। বাদল অধিবেশন বারবার মুলতুবি হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে শাহ এদিন সকালেই জানান, "আমরা আজ বিকেল ৩টা থেকে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করব। আগামীকাল বিকেল ৩টা পর্যন্ত এই বিষয়ে আলোচনা করতে প্রস্তুত আমি। এখন বিরোধী দলকেই সিদ্ধান্ত নিতে হবে তারা আলোচনা চায়, নাকি ক্রমাগত বিশৃঙ্খলা চালিয়ে যেতেই আগ্রহী। ” কিন্তু অমিত শাহর সেই প্রস্তাব একপ্রকার উড়িয়ে দেন বিরোধীরা। রাহুল গান্ধী বলে দেন, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছ থেকে কোনও ‘ভাষণ’ শোনার আগ্রহ নেই বিরোধীদের। বরং আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর কেন দমন-পীড়ন হল, তার জবাব দিতে হবে অমিত শাহকে।
এরপরই পালটা চাপ দেওয়ার ছক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর। তিনি এবার সোজা স্পিকারকে চিঠি লিখে বিরোধীদের সঙ্গে কথা বলার আর্জি জানান। তিনি জানেন, স্পিকার যদি আলোচনার প্রস্তাব নিয়ে যান তাহলে বিরোধী শিবির উভয় সংকটে পড়বে। সেক্ষেত্রে হয় তাঁদের সেই প্রস্তাব গ্রহণ করে সংসদ চলতে দিতে হবে। এবং শাহের ভাষণ শুনতে হবে। নয়তো তাঁদের সংসদ চলতে দেওয়ার সদিচ্ছা নিয়েই প্রশ্ন উঠবে।
