অপারেশন সিঁদুরের একবছর কেটে গিয়েছে। এবার পাকিস্তানের সঙ্গে ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার আর্জি জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের কাছে খোলা চিঠি পাঠালেন দুই দেশের ১১৭ জন বিশিষ্টজন। তাঁদের মধ্যে ৬১ জন ভারতীয়। বাকিরা পাকিস্তানের নাগরিক।
চিঠিতে দুই সরকারের প্রতি দীর্ঘদিনের বৈরিতা অবসানের আহ্বান জানিয়ে দাবি করা হয়েছে, এই পরিস্থিতির কারণে লক্ষ লক্ষ তরুণ-তরুণী সুযোগ-সুবিধা, সমৃদ্ধি ও একটি নিরাপদ ভবিষ্যৎ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। তাই দুই দেশের মধ্যে শান্তি আলোচনা ও স্বাভাবিক দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক পুনরুদ্ধারের লক্ষ্যে সুনির্দিষ্ট ও ধারাবাহিক পদক্ষেপ করার আর্জি জানানো হয়েছে। প্রসঙ্গত, ওই চিঠিতে দুই দেশেরই কয়েকজন রাজনীতিবিদ ও জননেতার স্বাক্ষর রয়েছে।
স্বাক্ষরকারীরা দুই নেতার প্রতি যেসব আহ্বান জানিয়েছেন, তার মধ্যে রয়েছে নয়াদিল্লি ও ইসলামাবাদে পুনরায় হাই কমিশনার নিয়োগ, স্বাভাবিক ভিসা পরিষেবা চালু এবং বাণিজ্যিক উড়ানের জন্য আকাশসীমা খুলে দেওয়া। পাশাপাশি তাঁরা বাণিজ্য ও যাতায়াতের জন্য আটারি-ওয়াঘা স্থলসীমান্ত খুলে দেওয়া, শ্রীনগর-মুজাফফরাবাদ বাস পরিষেবা পুনরায় চালু করা এবং আন্তঃসীমান্ত যোগাযোগ ব্যবস্থার অন্যান্য উদ্যোগ পুনর্বহালেরও আহ্বান জানিয়েছেন।
চিঠিতে দুই সরকারের প্রতি দীর্ঘদিনের বৈরিতা অবসানের আহ্বান জানিয়ে দাবি করা হয়েছে, এই পরিস্থিতির কারণে লক্ষ লক্ষ তরুণ-তরুণী সুযোগ-সুবিধা, সমৃদ্ধি ও একটি নিরাপদ ভবিষ্যৎ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।
উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের ২২ এপ্রিল পহেলগাঁওয়ে ২৬ নিরস্ত্রকে হত্যা করে লস্করের ছায়া সংগঠন টিআরএফের চার জঙ্গি। এই হামলার জবাবে ৭ মে ভোররাতে অপারেশন সিঁদুর শুরু করে ভারত। গুঁড়িয়ে দেওয়া হয় পাকিস্তান ও পাক অধিকৃত কাশ্মীরের নয়টি জঙ্গিঘাঁটি। এরপর ভারতের সীমান্তবর্তী রাজ্যগুলির জনবহুল এলাকা এবং সেনাঘাঁটিকে লক্ষ্য করে হামলা চালায় পাকিস্তান। সেই হামলা প্রতিহত করার পাশাপাশি প্রত্যাঘাত করে ভারত। তাতেই তছনছ হয়ে যায় পাকিস্তানের অন্তত ১১টি বায়ু সেনাঘাঁটি। ভারতীয় সেনার অভিযানে নিহত হয় ১০০ জনের বেশি জঙ্গি ও ৩৫-৪০ জন পাক সেনা। শেষ পর্যন্ত ইসলামাবাদের আর্জিতে সংঘর্ষবিরতিতে রাজি হয় নয়াদিল্লি।
