সাবান, আটা, শরবত থেকে শুরু করে ওষুধ পর্যন্ত তৈরি করেছে পতঞ্জলি। এবার বাবা রামদেবের সংস্থা শুরু করছে নতুন ব্যবসা! জানা গিয়েছে, এবার পতঞ্জলির ইনসুরেন্স পলিসি কিনতে পারবেন আমজনতা। প্রায় সাড়ে চার হাজার কোটি টাকায় এই নতুন ব্যবসা শুরু করছে পতঞ্জলি। তবে সম্ভবত নিজের নামে নয়।
ব্যাপারটা ঠিক কী? সম্প্রতি ভারতের বাজারে বেশ লাভজনক ব্যবসা করেছে ম্যাগমা জেনারেল ইনসুরেন্স। গত অর্থবর্ষে আগের বছরের তুলনায় ২৮১ কোটি টাকা বেড়েছে তাদের লভ্যাংশ। মূলত বিমা ক্ষেত্রেই ব্যবসা রয়েছে সংস্থাটির। মোটর, স্বাস্থ্য, সম্পত্তির মতো নানা ক্ষেত্রে বিমা রয়েছে তাদের। এবার সেই সংস্থার বিরাট অংশীদারিত্ব কিনছে রামদেবের সংস্থা পতঞ্জলি। ৭৩.৫৬ শতাংশ মালিকানা পতঞ্জলির হাতে থাকবে। বাকি ২৪.৫ শতাংশের মালিক ডিএস গ্রুপ। অর্থাৎ সবমিলিয়ে ৯৮ শতাংশ মালিকানা থাকবে এই দুই সংস্থার হাতে।
শেয়ার হস্তান্তরে ইতিমধ্যেই সায় দিয়েছে ইনসুরেন্স রেগুলেটরি অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট অথরিটি অফ ইন্ডিয়া (IRDAI)। জানা গিয়েছে, সবমিলিয়ে ৪৫০০ কোটি টাকায় এই হস্তান্তর সম্পন্ন হবে। হস্তান্তরের পর আগামী দিনে ম্যাগমার নাম বদলাবে কিনা জানা নেই। তবে ম্যাগমায় বিনিয়োগ করলে তা আদতে পতঞ্জলিতে টাকা ঢালা হিসাবেই বিবেচিত হবে। তবে আগামী তিন মাসের মধ্যে হস্তান্তর প্রক্রিয়া সম্পন্ন না হলে অবশ্য IRDAI-এর দেওয়া অনুমতি বাতিল হয়ে যাবে।
প্রসঙ্গত, গত কয়েকবছরে একাধিক অভিযোগ উঠেছে পতঞ্জলির বিরুদ্ধে। জানা গিয়েছে, পতঞ্জলি সংস্থার বেশকিছু লেনদেন রীতিমতো সন্দেহজনক। প্রাথমিক তদন্তে এই লেনদেনগুলিকে অস্বাভাবিক ও সন্দেহজনক হিসেবে চিহ্নিত করেছে কেন্দ্রীয় কর্পোরেট বিষয়ক মন্ত্রক। যার জেরেই পাঠানো হয় নোটিস। পতঞ্জলির যৌথ প্রধান হলেন বাবা রামদেব ও বালকৃষ্ণ। এরা দুজনেই নানা সময়ে উঠে এসেছেন বিতর্কের শিরোনামে। বিভ্রান্তিকর বিজ্ঞাপনের পাশাপাশি ‘মিথ্যে’ প্রচারের অভিযোগে অসংখ্য মামলাও দায়ের হয়েছে দুই জনের বিরুদ্ধে। একাধিক আদালতে এ নিয়ে তিরস্কারও শুনতে হয়েছে রামদেবকে। এমনকী শাস্তিও পেতে হয়েছে। কিছু ক্ষেত্রে জরিমানা ও ক্ষমা চেয়েও পরিস্থিতি সামাল দিয়েছেন পতঞ্জলির দুই মালিক। শুধু তাই নয়, আয়কর না দেওয়ার অভিযোগ উঠেছিল পতঞ্জলির বিরুদ্ধে।
