shono
Advertisement
UP Assembly Election 2027

রাম মন্দিরের অনুদান চুরি নিয়ে আন্দোলন চালিয়ে যাক বিরোধীরা, চাইছে বিজেপিই!

UP Election 2027: বিহারের ফলাফল আত্মবিশ্বাস জোগাচ্ছে বিজেপিকে। গেরুয়া শিবির মনে করছে, বিহারের মতো উত্তরপ্রদেশেও একই ভুল করছে বিরোধীরা।
Published By: Subhajit MandalPosted: 12:16 PM Aug 08, 2026Updated: 02:27 PM Aug 08, 2026

রাম মন্দিরে চাঁদা চুরি প্রসঙ্গে চিৎকার করে যাক বিরোধীরা। এমনটা চাইছে খোদ বিজেপিই।এতে অবাক হওয়ার কিছুই নেই।  এতে অবাক হওয়ার কিছুই নেই। আসলে বিজেপির ধারণা, উত্তরপ্রদেশ বিধানসভা নির্বাচনের (UP Assembly Election 2027) আগে বিরোধীরা যদি এই অস্ত্রেই বেশি শান দেয়, তাহলে ভোঁতা হয়ে যাবে রাজ্যের অন্যান্য ইস্যু। যার মধ্যে অন্যতম-বেকারত্ব, মূল্যবৃদ্ধি, কৃষকের আয় কমে যাওয়া, প্রশ্নফাঁসের মতো বিষয়।

Advertisement

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বিজেপির সব থেকে বড় দুই অস্ত্রের একটি হিন্দুত্ব, অন্যটি জাতীয়তাবাদ। কয়েক বছর আগে পর্যন্ত যেমন হোম সিরিজে ভারতীয় ক্রিকেট দলের সব থেকে বড় শক্তি ছিল স্পিনিং ট্র্যাক, যেখানে নাস্তানাবুদ হয়েছে অস্ট্রেলিয়া, দক্ষিণ আফ্রিকা, ইংল্যান্ড, নিউজিল্যান্ড-সহ বিশ্ব ক্রিকেটের ধুরন্ধর সব দেশ। তেমনই বিজেপিকে এই দুই হাতিয়ার দিয়ে আক্রমণ করা মানে, তাদের হোম পিচে খেলতে দেওয়ার সুবিধা করে দেওয়া।

এমনিতেও রাম মন্দিরের দান তছরুপের বিষয়টি শহরাঞ্চল তো বটেই, অযোধ্যা ও পার্শ্ববর্তী কিছু এলাকা ছাড়া উত্তরপ্রদেশের অন্যান্য প্রান্তেও খুব একটা দাগ কাটতে পারেনি। এই বিষয়টিকে হাতিয়ার করে যোগী সরকারকে কাঠগড়ায় তুলতেই পারেন বিরোধীরা। কিন্তু এই ইস্যুকে যদি শুধু ধর্মীয় আবেগের লড়াই বানিয়ে ফেলা হয়, তাহলে বিজেপির পরিচিত রাজনৈতিক বৃত্তেই আলোচনা ঘুরপাক খাবে।

উত্তরপ্রদেশের ভোটে বিজেপির সবচেয়ে পরিচিত এবং পরীক্ষিত রাজনৈতিক জমি হল হিন্দুত্ব। রাম, অযোধ্যার রাম জন্মভূমি, রামমন্দির-এই ইস্যুগুলিতে বিরোধীরা যত বেশি সময় দেবে, তত সহজেই ভোটের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু সরে যাবে জনজীবনের প্রশ্ন থেকে। আর তাহলে আদতে লাভবান হবে বিজেপি। এমনটাই মত রাজনৈতিক কারবারিদের। সূত্রের খবর, এমনটা চাইছে বিজেপিও।

রাম মন্দিরের দানের টাকা নিয়ে দুর্নীতির অভিযোগ নিঃসন্দেহে গুরুতর। তদন্তে আটজন গ্রেপ্তার হয়েছেন। নগদ গোনার কাজে যুক্ত আরও বহু কর্মীর ভূমিকা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। যোগী সরকার আত্মপক্ষ সমর্থনে এই বিষয়গুলি সামনে এনে মানুষের কাছে এই বার্তা দেবে যে, রামের ঘরে চুরি নিয়ে তারা হাত গুটিয়ে বসে নেই। আবার ঠিক যেভাবে বিহার নির্বাচনের আগে জাতপাত, বেকারত্ব, মূল্যবৃদ্ধি-সহ অন্যান্য জ্বলন্ত বিষয়ের বদলে রাহুলের নেতৃত্বে কংগ্রেস ও বিরোধীরা ভোটচুরিকে বেছে নিয়েছিল, তখনই লড়াইয়ের ফোকাস নড়ে গিয়েছিল। না হলে, তেজস্বী যাদবের নেতৃত্বে শুরুর দিকে লড়াইয়ে বেশ কিছুটা চাপ ছিল, এমনটাই দাবি এক কেন্দ্রীয় পূর্ণমন্ত্রীর। ঠিক যেভাবে, বর্তমানে অখিলেশ যাদবের নেতৃত্বে সমাজবাদী পার্টিও বিজেপিকে কিছুটা অস্বস্তিতে রেখেছে। আর তা কাটিয়ে স্বস্তি পেতে তাই আরও একবার 'রাম ভরোসে' বিজেপি।

এমনিতেও রাম মন্দিরের দান তছরুপের বিষয়টি শহরাঞ্চল তো বটেই, অযোধ্যা ও পার্শ্ববর্তী কিছু এলাকা ছাড়া উত্তরপ্রদেশের অন্যান্য প্রান্তেও খুব একটা দাগ কাটতে পারেনি। এই বিষয়টিকে হাতিয়ার করে যোগী সরকারকে কাঠগড়ায় তুলতেই পারেন বিরোধীরা। কিন্তু এই ইস্যুকে যদি শুধু ধর্মীয় আবেগের লড়াই বানিয়ে ফেলা হয়, তাহলে বিজেপির পরিচিত রাজনৈতিক বৃত্তেই আলোচনা ঘুরপাক খাবে। রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, সে ক্ষেত্রে সুবিধা হবে শাসক দলেরই। আবার গেরুয়া শিবিরের অন্দরের খবর, তারাও চাইছে বিরোধীরা রামমন্দির নিয়েই ব্যস্ত থাকুক। তাহলে গত দশ বছরে সরকারের যে কয়েকটি দিকে জোর দিতে কিছুটা ফাঁক থেকে গেছে, সে সব দিক থেকে নজর ঘোরানো সহজ হবে।

এখন দেখার, রাম মন্দিরের চাঁদা তছরুপের অভিযোগকে কেন্দ্র করে বিরোধীরা কি বিজেপির পছন্দের রাজনৈতিক ময়দানেই খেলবে, নাকি ভোটের আসল ইস্যুগুলিও সামনে আনবে?

Sangbad Pratidin News App

খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ

হাইলাইটস

Highlights Heading
Advertisement