রাজ্যে ক্ষমতায় আসার দু'মাসের মধ্যে আত্মসমালোচনার পথে বিজেপি। দলের সংগঠনের যাতে কোনওভাবেই তৃণমূলীকরণ না হয়, সেটা নিশ্চিত করতে বড়সড় পদক্ষেপের পথে গেরুয়া শিবির। যার নীল নকশা মঙ্গলবার তৈরি হয়ে গেল রাজধানীর বুকে। সূত্রের খবর, দিল্লির এক জরুরি বৈঠকেই ঠিক হয়ে গিয়েছে, আগামী দিনে দলের সংগঠনের বড়সড় ঝাঁকুনি দিতে চলেছে গেরুয়া শিবির।
দিল্লিতে মঙ্গলবার জরুরি বৈঠকে বসেন রাজ্য বিজেপির সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য, মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এবং রাজ্য বিজেপির কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষক সুনীল বনসল। সূত্রের খবর, ওই বৈঠকে দলের সংগঠনের একেবার তৃণমূল স্তর থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ স্তর পর্যন্ত কী কী ঝাঁকুনি প্রয়োজন, সেটা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। দল এবং সরকারের মধ্যে সমন্বয় কীভাবে আরও বাড়ানো যায়, রাজ্য সভাপতি এবং মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে সেটা নিয়েও আলোচনা করেছেন দলের কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষক সুনীল বনসল।
বস্তুত গোটা রাজ্যে দলের নিচুতলার সংগঠনে একটা ঝাঁকুনি দিতে পারে বিজেপি। নিচুতলায় দলে যে বেনোজল ঢুকে যাচ্ছে, তা নিয়ে দিন দুই আগেই উদ্বেগপ্রকাশ করেছেন খোদ শমীক ভট্টাচার্য। দলের তৃণমূলীকরণ-নিচুতলায় তোলাবাজি নিয়েও উদ্বেগপ্রকাশ করেছেন তিনি। বিজেপি নেতাদের একাংশের মধ্যেও যে তৃণমূলের সংস্কৃতি ঢুকে পড়তে পারে, সে আশঙ্কা মাথাচাড়া দিয়ে উঠছে নেতৃত্বের মধ্যে। সম্ভবত সেকারণেই এদিন বনসল- শুভেন্দু এবং শমীকের বৈঠকের মূল এজেন্ডাই ছিল দলের সংগঠন। শোনা যাচ্ছে দলের উপর থেকে নিচ পর্যন্ত সর্বস্তরে বদল করতে পারে গেরুয়া শিবির। তাছাড়া তৃণমূল নেতাদের ছোঁয়াচ এড়িয়ে চলার ব্যাপারেও বার্তা দেওয়া হতে পারে।
এর বাইরে দল ও সরকারের সমন্বয় নিয়েও আলোচনা হয়েছে রাজ্য বিজেপির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দুই মুখ এবং কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষকের বৈঠকে। সূত্রের খবর, কোনওভাবেই দল ও সরকারের মধ্যে যাতে দূরত্ব না তৈরি হয়, সেটা নিশ্চিত করতে চায় গেরুয়া শিবির। তবে বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য প্রকাশ্যে বলেছেন, "সরকার আর পার্টির মধ্যে সমন্বয়ের কোনও অভাব নেই। দল এবং সরকার যার যতটা প্রয়োজন সে তার মতো সমন্বয় করে চলছে।"
