সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: ২০০৫ সালে বেঙ্গালুরুর বিপিও কর্মী প্রতিভার খুন গোটা দেশকে স্তম্ভিত করেছিল। তারপরেও টনক নড়েনি কোম্পানিগুলির। একের পর এক ঘটে গিয়েছে শ্লীলতাহানি, অপহরণের মতো ঘটনা। বেঙ্গালুরুর বিপিও কোম্পানিগুলিতে রাতের শিফটে কাজ করেন বহু মহিলা কর্মী। তা সত্ত্বেও মহিলা কর্মীদের নিরাপত্তার দায়িত্ব নিতে চান না এইসব কোম্পানিগুলি। রাতের শিফটে কাজ করা মহিলাদের যাতায়াতের জন্য কোনও গাড়ির ব্যবস্থা রাখে না তারা। ফলে মহিলাদের নিজেদের দায়িত্বে যাতায়াত করতে হয়।
[‘টিভি সঞ্চালকের কটাক্ষের জবাবেই সার্জিক্যাল স্ট্রাইকের সিদ্ধান্ত’]
২০০৫ সালের ঘটনার পর প্রশাসনের তৎপরতায় নিরাপত্তার জন্য যথেষ্ট পদক্ষেপ নেওয়া হয়। কর্নাটক সরকারের নির্দেশে কোম্পানিগুলিও কিছু কিছু পদক্ষেপ নিতে শুরু করে। তবে ওই পর্যন্তই। লাভের অঙ্ক নিজেদের ঘরে রাখার তাগিদে তারা মহিলা কর্মীদের রাতের শিফটে গাড়ি পর্যন্ত দিতে চাইছে না, এর চেয়ে বড় আপস বোধহয় আর হয় না। ঠিক এই উদাসীন মনোভাবেরই কড়া প্রতিবাদ জানান মনীষা কুমারি। বেঙ্গালুরুর এক বিপিও কোম্পানিতে ফেব্রুয়ারি মাস থেকে কাজ করছেন তিনি। রাতের শিফটে আসার জন্য গাড়ি পরিষেবা চাইলে, তা পাননি তিনি। সন্ধে সাড়ে ছটা থেকে তাঁর শিফট শুরু হত। শেষ হত ভোররাত সাড়ে তিনটে। বাড়ি ফেরার জন্য তাঁরা কিছু পাচ্ছেন না, কোম্পানির কাছে বারবার এই অভিযোগ করার পরে পরিবর্তন আসে। মজার ব্যাপার, পরিবর্তন আসে শিফটের সময়সূচিতে। সাড়ে তিনটের বদলে কর্মীদের ছুটি দেওয়া হয় ভোর সাড়ে চারটেয়। অথচ উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের ভাবনায় এটা এল না, সেই সময় যাতায়াতের কোনও মাধ্যম আদৌ পাওয়া সম্ভব কিনা। মনীষা নিজে বাড়ি ফেরার সময় তিনবার হেনস্তা হয়েছেন। তবুও কর্তৃপক্ষের কোনও হেলদোল নেই।
[গুলশান হামলার বছর কেটে গেলেও সন্ত্রাস থামেনি বাংলাদেশে]
এরআগে, বেঙ্গালুরুতে মহিলাদের জন্য চালু হয় সুরক্ষা মোবাইল অ্যাপ। রাস্তা ঘাটে মহিলাদের সুরক্ষা দিতে থাকার কথা পিঙ্ক প্যাট্রলিং কারের। কিন্তু দরকারের সময় তার দেখা মেলে কি? তাই আতঙ্ক বাড়ছে, প্রশ্নও উঠছে। কিন্তু সমাধানের পথ বাতলে দিচ্ছেন না কেউই।
The post ছুটির পর মহিলাকর্মীর নিরাপত্তার দায়িত্ব নেবে না অফিস, বিতর্কে সংস্থা appeared first on Sangbad Pratidin.
