আর উপায় নেই। মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ না থামলে বাধ্য হয়েই বাড়াতে হবে পেট্রল-ডিজেলের দাম। সরকারের পাশে দাঁড়িয়েই আমজনতার জন্য আশঙ্কার কথা শোনালেন রিজার্ভ ব্যাঙ্কের গভর্নর সঞ্জয় মালহোত্রা। তিনি মেনে নিলেন, এভাবে চলতে থাকলে আমজনতার উপর মূল্যবৃদ্ধির বোঝা চাপাতে বাধ্য হবে সরকার।
পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধের জেরে বিশ্বজুড়ে তেল সংকট চরম আকার নিয়েছে। গুরুতর সেই পরিস্থিতিতে বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যাপকভাবে বাড়লেও যুদ্ধের আঁচ দেশবাসীর উপর আসতে দেয়নি সরকার। তবে সূত্রের খবর, ৫ রাজ্যের ভোটপর্ব মিটতেই এই বিষয়ে চিন্তাভাবনা শুরু করেছে সরকার। সরকারি সূত্রকে উদ্ধৃত করে একাধিক সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমের দাবি, আগামী ৫-৭ দিনের মধ্যে প্রস্তাবিত মূল্যবৃদ্ধির বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে। রিজার্ভ ব্যাঙ্কের গভর্নরও এবার বলে দিলেন, "ভারত জ্বালানি, সারের মতো পণ্যের ক্ষেত্রে পুরোপুরি আমদানি নির্ভরশীল। যেভাবে আমদানির পথ প্রভাবিত হচ্ছে, তাতে এই মূল্যবৃদ্ধির বোঝাটা মানুষের উপর চাপাটা সময়ের অপেক্ষা।" অর্থাৎ বকলমে তিনি মেনে নিলেন পেট্রল-ডিজেলের দাম এবার বাড়তে চলেছে। এর আগে কেন্দ্র সরকার বা কোনও কেন্দ্রীয় সংস্থাই এভাবে পেট্রল-ডিজেলের দাম বাড়ার সম্ভাবনার কথা স্বীকার করেনি। উলটে বরাবরই দাম বাড়ার খবর অস্বীকার করে এসেছে সরকার।
উল্লেখ্য, রবিবারই জ্বালানি নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বিশেষ বার্তা দিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। একদিকে যেমন করোনাকালের কথা স্মরণ করিয়ে আমজনতাকে বাড়ি থেকে কাজ (ওয়ার্ক ফ্রম হোম) করার পরামর্শ দিয়েছেন। অন্যদিকে, আগামী একবছর বিদেশযাত্রা কিংবা বিদেশে গিয়ে বিয়ের পরিকল্পনাও আপাতত কাটছাঁট করার আর্জি জানিয়েছেন মোদি। একইসঙ্গে ভোজ্য তেলের ব্যবহার হ্রাস এবং সোনা কেনাও কমিয়ে আনারও আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। যদিও সরকারের দাবি, এখনও দেশে পেট্রল-ডিজেলের সংকট তৈরি হয়নি।
উল্লেখ্য, ভোট মিটতেই জ্বালানির দাম বাড়ানো শুরু করেছে রাষ্ট্রায়ত্ত তেল সংস্থাগুলি। প্রথম কোপটা এসেছে বাণিজ্যিক গ্যাসের উপর। ১০০-২০০ টাকা নয়, শুক্রবার একধাক্কায় সিলিন্ডারপিছু ৯৯৩ টাকা করে বাড়ানো হয়েছে ১৯ কেজির বাণিজ্যিক গ্যাসের দাম। এখানেই শেষ নয়, দাম বাড়ানো হয়েছে অটোর এলপিজিরও। একধাক্কায় ৬ টাকা ৪৪ পয়সা দাম বেড়েছে অটোর জ্বালানির। আশঙ্কা করা হচ্ছে এবার কোপ পড়তে পারে জ্বালানি তেল ও মধ্যবিত্তের রান্নার গ্যাসের উপর।
