অবশেষে বোধোদয় হল ককরোজ জনতা পার্টির। অনশনরত সোনম ওয়াংচুকের পাশে দাঁড়িয়ে ১ দিনের গণঅনশন ঘোষণা করলেন ককরোচ পার্টির প্রধান অভিজিৎ দীপকে। বৃহস্পতিবার গোটা দেশের পড়ুয়াদের ওই অনশন কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার জন্য আহ্বান জানিয়েছেন অভিজিৎ।
১৮ দিন ধরে সোনম ওয়াংচুক যন্তরমন্তরের মঞ্চে একা কুম্ভের মতো অনশন করে চলেছেন সমাজকর্মী সোনম ওয়াংচুক। অভিজিৎ দীপকে-সহ ককরোচ পার্টির অন্যান্য নেতা বা মুখপাত্ররা পাশে ছিলেন বটে, কিন্তু তাঁরা কেউ অনশন করেননি। উলটে মঞ্চের পাশেই ককরোচ পার্টির নেতাদের নুডলস-পকোড়া খেতে দেখা গিয়েছে। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে গিয়েছে যে সোনম ওয়াংচুক অনশনের জেরে মৃত্যুমুখী অথচ তাঁর পাশে দাঁড়ানোর কেউ নেই। শেষে একপ্রকার বাধ্য হয়েই অভিজিতের পাশে দাঁড়িয়ে গণ অনশন কর্মসূচি ঘোষণা করল ককরোচ জনতা পার্টি।
সোশাল মিডিয়ায় অভিজিৎ দীপকে জানিয়েছেন, "১৬ জুলাই সোনম ওয়াংচুকের পাশে দাঁড়িয়ে আমরা একদিনের জন্য গন অনশন কর্মসূচি নিয়েছি। দেশের ছাত্রসমাজ এই অনশনে অংশ নেবে।" আসলে সোনমের অনশনের ১৮ দিন পরও সেভাবে তাঁর আন্দোলনকে গুরুত্ব দিচ্ছে না কেন্দ্র সরকার। সম্ভবত সেকারণেই চাপ বাড়ানোর কৌশল নিচ্ছে ককরোচ জনতা পার্টি। এদিন কিছুটা হলেও বিরোধী শিবির থেকে সমর্থন পেয়েছেন সমাজকর্মী। কংগ্রেস সাংসদ শশী থারুর তাঁর পাশে দাঁড়িয়েছেন। অনশন প্রত্যাহারের আর্জি জানিয়েছেন।
উল্লেখ্য, শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের ইস্তফা-সহ একাধিক দাবিতে ককরোচ জনতা পার্টির পাশে দাঁড়িয়ে গত ১৮ দিন ধরে অনশন করছেন সোনম ওয়াংচুক। এতদিনে সরকারের তরফে কোনও যোগাযোগ করা হয়নি তাঁর সঙ্গে। বিরোধী দল মৌখিকভাবে তাঁর পাশে দাঁড়ালেও বড় কোনও নেতাকে অনশন মঞ্চের কাছে দেখা যায়নি। খোঁজ নেই কংগ্রেসের রাহুল গান্ধী, মল্লিকার্জুন খাড়গেদের। এই অবস্থায় তাঁর অনশন ভাঙাতে দিল্লি হাই কোর্টে একটি মামলাও দায়ের হয়েছে। সমাজকর্মী-আইনজীবী রাকেশকুমার সাইনি দাবি করলেন, অবিলম্বে হস্তক্ষেপ করা হোক বিষয়টিতে। সোনমকে চিকিৎসা পরিষেবা দেওয়ার পাশাপাশি হাসপাতালে নিয়ে জোর করে খাইয়ে তাঁর অনশম ভঙ্গ করার দাবি করেছেন ওই আইনজীবী।
